প্রথম পাতা > বাংলাদেশ, ভ্রমণ > স্বপ্নের পৃথিবী দিনাজপুরের স্বপ্নপুরী

স্বপ্নের পৃথিবী দিনাজপুরের স্বপ্নপুরী

নভেম্বর 23, 2016 মন্তব্য দিন Go to comments

dinajpur-swapnopuriপর্যটন সম্ভাবনার জেলা দিনাজপুরে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে সবসময়ই থাকে পর্যটকদের আসাযাওয়া। কাজের ক্লান্তি দূর করতে একটু ছুটির ফাঁকে তাই অনেকেই আসেন এই দিনাজপুরে। এ জেলার এমনই একটি পর্যটন স্থান স্বপ্নপুরী। যেখানে রয়েছে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম পরিবেশের সমাহার। আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পর্যটন স্থান পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
দিনাজপুর থেকে ৫২ কিলোমিটার দূরে নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ খালিসপুর এলাকায় স্বপ্নপুরী অবস্থিত। বেসরকারি পর্যায়ের এই বিনোদন কেন্দ্রটি দেশবিদেশের পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়েছে। এই স্থানটি মূলত পিকনিক স্পট হিসেবে পরিচিত হলেও ঈদসহ বিভিন্ন ছুটির সময়গুলোতে এখানে থাকে উপচেপড়া ভিড়। দিনে দিনে স্বপ্নপুরী উন্নত হওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে পর্যটক সংখ্যা।

স্বপ্নপুরীতে প্রবেশের সময় বিশালাকৃতির দুটি পরী স্বাগত জানাবে। এরপর ভেতরে সারি সারি দেবদারু গাছের ভেতর দিতে চলা ভিন্ন ভিন্ন রাস্তাগুলো গিয়ে পৌঁছেছে একেকটি একেক দিকে। এসব রাস্তা দিয়ে যেতে রয়েছে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়ি। রাস্তার দু’ধারে রয়েছে চোখ জুড়ানো ফুলের গাছ ও বাহারি ফুল। রাস্তা শেষে রয়েছে কৃত্রিম হ্রদ, পাহাড়, লেক, উদ্যান, শিশুপার্ক, চিড়িয়াখানা, জাদুঘর, ফুলবাগান ঝরনাসহ বিভিন্ন জিনিস। স্বপ্নপুরীতে অবস্থিত লেকে জলবিহারে মেতে ওঠার জন্য রয়েছে স্পিডবোট আর লেকের ওপরে রয়েছে কেবল কার। শিশুদের চিত্তবিনোদনের জন্য রয়েছে বিভিন্ন প্রকারের রাইড।
এই বিনোদন কেন্দ্রটিতে রয়েছে চিড়িয়াখানা। যেখানে দেখা যাবে বাঘ, ভল্লুক, হরিণ, হনুমান, বানর, কুমির, ময়ুর, কবুতরসহ বিভিন্ন প্রকারের প্রাণী। পাশাপাশি রাস্তার মোড়ে মোড়ে রয়েছে শৈল্পিক ম্যুরা। আর এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশে মন জুড়ানোর জন্য রয়েছে বসার স্থান। স্বপ্নপুরী মূলত পিকনিক স্পট হিসেবেই বেশি ব্যবহৃত হলেও মাঝেমধ্যে এখানে চলচিত্রের শুটিংও হয়ে থাকে। নিরিবিলি এই পরিবেশে থাকার জন্য রয়েছে আবাসিক হোটেল।

পর্যটক সোহাগ জানান, দিনে দিনে উন্নত হয়েছে স্বপ্নপুরী। এতে করে পর্যটকদের কাছে আরো প্রিয় হয়ে উঠেছে এই পর্যটন স্থানটি। বিভিন্ন পর্যটন স্থানের চেয়ে এই স্থানটি সম্পূর্ণ আলাদা। স্বপ্নের পাশাপাশি বাস্তবেরও মিল পাওয়া যাবে এখানে।
পর্যটক সোহেল রানা জানান, স্বপ্নপুরীতে শীতের সময়ে বেশি লোক সমাগম হয়। তাছাড়া ঈদ কিংবা ছুটির সময়গুলোতে এখানে থাকে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। এতে করে স্বপ্নপুরীতে ছোটখোটা দোকানদাররাও কিছুটা লাভবান হন।

স্বপ্নপুরী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, ছুটির সময়গুলোতে এখানে বিপুলসংখ্যক পর্যটক ভিড় জমান। দেশ বিদেশের পর্যটকদের জন্য রয়েছে আবাসিক ব্যবস্থা যাতে তারা ইচ্ছে করলে এখানে থাকতেও পারেন। ১৯৮৯ সালে মোট ২০০ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় এই পর্যটনকেন্দ্রটি। বিভিন্ন রাইড, কৃত্রিম মূর্তি, চিড়িয়াখানা ও সবুজের সমারোহে এই জগৎটি নিয়ে যেতে পারে স্বপ্নের পৃথিবীতে।

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: