প্রথম পাতা > ইসলাম, নামায, বাংলাদেশ, রাজনীতি > মসজিদ মিশনের আড়ালে জামায়াত মিশন !

মসজিদ মিশনের আড়ালে জামায়াত মিশন !

নভেম্বর 23, 2016 মন্তব্য দিন Go to comments

প্রতিষ্ঠাতা বাচ্চু রাজাকার পলাতক

মসজিদ মিশন স্কুলকলেজের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে

bd-masjid-missionমুসতাক আহমদ: মসজিদ মিশনের অধীন পরিচালিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একটি গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জামায়াতে ইসলামীর ভাবধারায় পরিচালিত হচ্ছে কিনা, কার্যক্রমের আড়ালে জঙ্গি তৎপরতা চালানো হচ্ছে কিনা, প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থের উৎস কি এবং অর্থ কিভাবে ব্যয় হচ্ছেএসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের নেতৃত্বে এনজিও সংস্থা হিসেবে প্রায় ৩ যুগ আগে মসজিদ মিশন প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘মসজিদ মিশনের বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান ইতিপূর্বে মন্ত্রণালয়ের অধীন অনুমোদন পেয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব জানান, মসজিদ মিশনের অধীন ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা পায়। এর মধ্যে কওমি মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক ও হাইস্কুল এবং কলেজ আছে। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা মসজিদ মিশন এবং এর অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিল করে। তাতে প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে এবং কিছু সুপারিশও করা হয়েছে।

মসজিদ মিশনের অধীন যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে তার মধ্যে রাজশাহী মহানগরীতে অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সবচেয়ে বড়। গুগলে সার্চ করে দেখা যায়, ১৯৮১ সালে মসজিদ মিশন একাডেমির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে কিন্ডারগার্টেন, প্রাইমারি, হাইস্কুল ও কলেজ শাখা আছে। প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিওভুক্ত। এর শিক্ষককর্মচারীরা সরকার থেকে বেতনভাতা পেয়ে থাকেন।

তিন পৃষ্ঠার গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠান হিসেবে মসজিদ মিশন সারা দেশে পরিচালিত হচ্ছে। রাজশাহীসহ সারা দেশে যেসব একাডেমিক আছে, সেগুলোতে সরকারি কারিকুলাম ছাড়াও শ্রেণীভিত্তিক ১০০৩০০ নম্বরের আরবি সিলেবাস পড়ানো হয়। সেসব সিলেবাস বা বই কেন্দ্রীয় জামায়াত নির্ধারণ করে দেয়। রাজশাহীর ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি শহরের তিনটি স্থানে পরিচালিত হচ্ছে। এসব শাখায় নিয়োগ দেয়া শিক্ষককর্মচারী জামায়াতের রাজশাহী মহানগর ও জেলা জামায়াতের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মী। শিক্ষকদের মধ্যে ইসলামের ইতিহাসের সহকারী অধ্যাপক নুরুজ্জামান খান, হিসাববিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক আহমাদুল হক, মনোবিজ্ঞানের এনামুল হক, ইসলামিক স্টাডিজের সিরাজুল ইসলাম, সমাজবিজ্ঞানের শাহাদত হোসাইন, স্কুল শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক মাইনুল ইসলাম জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এর মধ্যে সিরাজুল ইসলাম জামায়াতের বোয়ালিয়া থানার আমীর। তার বিরুদ্ধে মামলা আছে। শাহাদত হোসাইন মহানগর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক। আমিনুল ইসলাম বোয়ালিয়া থানার সাবেক আমীর এবং মাইনুল ইসলাম মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি। এদের মধ্যে কয়েকজন মে মাসে মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের পর গায়েবানা জানাজা, দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। এমনকি সরকারবিরোধী স্লোগানও তারা দেন।

এ প্রসঙ্গে রাজশাহীর মসজিদ মিশন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আকবর আলী শনিবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষক বা কর্মচারীদের মধ্যে কে কী করে তা আমরা জানি না। কেউ প্রতিষ্ঠানের ভেতরে জামায়াতের রাজনীতি করেন না। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘মসজিদ মিশনের আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশের অন্যত্র আছে কিনা আমি জানি না। আদার বেপারি জাহাজের খবর রাখতে যাই না। আমি শুধু এখানে চাকরি করি।’

রাজশাহীর এ প্রতিষ্ঠানটি তদন্তে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর (ডিআইএ)। সংস্থাটির যুগ্ম পরিচালক বিপুল চন্দ্র সরকার যুগান্তরকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের একটি টিম রাজশাহী যাচ্ছে। একটি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান যেভাবে তদন্ত ও নিরীক্ষা করা হয়, এটিও সেভাবেই করা হবে।’

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, ইবনে সিনা ট্রাস্টের মতোই মসজিদ মিশন একটি প্রতিষ্ঠান। এটি ঢাকার কাঁটাবন মসজিদ থেকে পরিচালিত হয়। তবে রাজশাহীর প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত। এর আয়ের অর্থ জামায়াতের কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মসজিদ মিশন ফাউন্ডেশন ট্রাস্টি বোর্ড থেকে নিয়োগ দেয়া হয়। অন্যান্য শিক্ষককর্মচারীও জামায়াতশিবির থেকে নিয়োগ করা। অধিকাংশ জনবল জামায়াতশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

প্রতিবেদনে চারটি সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো হলমসজিদ মিশনের একাডেমিগুলোতে জামায়াতশিবির মতাদর্শে নিয়োগকৃতদের বাদ দিয়ে নতুন করে শিক্ষককর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে। জামায়াতশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানটির অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ব্যয়ের নিরীক্ষা চালাতে হবে এবং কাঁটাবনে মসজিদ মিশন ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে।

সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর, ২৩ নভেম্বর, ২০১৬

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: