প্রথম পাতা > জীবনী, বিনোদন > দুনিয়া মাতানো গায়ক জন লেনন

দুনিয়া মাতানো গায়ক জন লেনন

নভেম্বর 23, 2016 মন্তব্য দিন Go to comments

john-lennon-1জন উইন্সটন লেনন ছিলেন একজন ইংরেজ গীতিকার, গায়ক, সুরকার, চিত্রশিল্পী, লেখক এবং শান্তিকর্মী। তিনি জনপ্রিয় ব্যান্ড দ্য বিটলসের প্রতিষ্ঠাতা। লেনন ও পল ম্যাককার্টনি যৌথভাবে বিটলস ও অন্যদের জন্য গান লিখতেন যা বাণিজ্যিকভাবেও সফল ছিল। লেনন ও ম্যাককার্টনি ছিলেন একে অপরের পরিপূরক। তার নিজস্ব ক্যারিয়ারে লেনন ইমাজিন ও গিভ পিস এ চান্সের মতো অসংখ্য গানের জন্ম দিয়েছেন। লেনন ছিলেন বিপ্লবী প্রকৃতির। অসাধারণ প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন টেলিভিশন, এ হার্ড ডেজ নাইটের (১৯৬৪) মতো চলচ্চিত্রে, ইন হিজ ওন রাইট বইয়ে এবং বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সম্মেলনে। তিনি জনপ্রিয়তাকে তার শান্তিকর্ম, শিল্পকর্ম ও লেখায় কাজে লাগিয়েছেন।

তার দুই ছেলে, প্রথম স্ত্রী সিনথিয়ার গর্ভে জুলিয়ান ও দ্বিতীয় স্ত্রী ইয়োকো ওনোর গর্ভে সিন। ১৯৮০ সালের ৮ ডিসেম্বর রেকর্ডিং থেকে ফেরার সময় আততায়ী মার্ক ডেভিড চ্যাপম্যানের হাতে লেনন মারা যান।

২০০২ সালে বিবিসির জরিপে ১০০ শ্রেষ্ঠ ব্রিটনসের তালিকায় তিনি অষ্টম অবস্থান লাভ করেছেন। ২০০৪ সালে রোলিং স্টোন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ পঞ্চাশজন শিল্পীর তালিকায় লেননকে ৩৮তম অবস্থানে স্থান দিয়েছে এবং দ্য বিটলসকে ১ নম্বর অবস্থানে রেখেছে।

জন্ম ও শৈশব

জুলিয়া লেনন (নি স্ট্যানলি) ও আলফ্রেড ফ্রেডি লেননের ঘরে জন উইন্সটন লেলন জন্মেছিলেন ১৯৪০ সালের ৯ অক্টোবর। লিভারপুলের লিভারপুল মাতৃসদন হাসপাতালে তার জন্ম হয়েছিল। এ সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছিল। পিতামহ জন জ্যাক লেলন ও উইন্সটন চার্চিলের নামে তার নাম রাখা হয়। তার মাবাবা উভয়েই ব্যাঞ্জো বাজাতেন ও গান গাইতেনযদিও তাদের কেউ সঙ্গীতকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেননি। যুদ্ধে ফ্রেডি লেলন ছিলেন একজন মার্চেন্ট সিম্যান এবং তিনি নিয়মিত জুলিয়াকে পেচেক পাঠাতেন। জুলিয়া এসময় তার সন্তান জনকে নিয়ে লিভারপুলের নিউকাসল রোডে বসবাস করতেন। ফ্রেডি যখন এডাব্লিউওএলে চলে যান তখন চেক পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। ফ্রেডি কদাচিৎ লিভারপুলে আসতেন, জুলিয়া নাইট ক্লাবে যেতে শুরু করেন এবং ট্যাফি উইলিয়ামস নামে একজন ওয়েলসীয় সৈনিকের সঙ্গে পরিচিত হন। ১৯৪৪ সালের শেষের দিকে জুলিয়া ট্যাফির সন্তান গর্ভে ধারণ করেন। যখন ফ্রেডি ১৯৪৪ সালে বাড়ি ফেরেন তিনি জুলিয়া, জন ও অনাগত শিশুর দায়িত্ব নিতে চান। জুলিয়া তাতে সম্মতি দেননি। ১৯৪৫ সালের ১৯ জুন জুলিয়া তার কন্যাসন্তান ভিক্টোরিয়ার জন্ম দেন। জুলিয়ার পরিবার থেকে প্রবল চাপের পর মেয়েটি দত্তক দেয়া হয়। মেয়েটির নাম পরবর্তীকালে পরিবর্তন করে ইনগ্রিড রাখা হয়েছিল। লেলনকে কখনও তার সৎবোনের জন্মের খবর দেয়া হয়নি এবং তিনি কখনও তার অস্তিত্বের কথা জানতেন না।

john_lennonজুলিয়া পরে জন ববি ডাইকিন্সের সঙ্গে পরিচিত হন এবং তার সঙ্গে একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস শুরু করেন। এ অবৈধ সম্পর্কের কথা শুনে জুলিয়ার বোন মেরি মিমি স্মিথ লিভারপুলের সমাজসেবা দফতরে জুলিয়া ও ডাইকিন্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। বোনের কাছ থেকে প্রবল চাপের মুখে জুলিয়া জনের দায়িত্ব মিমির হাতে সমর্পণ করেন। ডাইকিন্সের সঙ্গে জুলিয়ার দুই মেয়ে জুলিয়া ও জ্যাকির জন্ম হয়। ১৯৪৬ সালের জুলাই মাসে ফ্রেডি মিমিকে দেখতে আসেন এবং জনকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘ ভ্রমণে ব্ল্যাকপুল যান। তার ইচ্ছা ছিল গোপনে জনকে নিয়ে নিউজিল্যান্ড যাত্রা করার। জুলিয়া ও ডাইকিন্স এ ঘটনা টের পেয়ে তাদের পিছু নেন। পরে অনেক উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর ফ্রেডি পাঁচ বছরের জনকে জুলিয়া অথবা তার মধ্যে কোনো একজনকে বেছে নেয়ার জন্য বলেন। জন দুইবার ফ্রেডিকে নির্বাচন করেন এবং জুলিয়া তখন চলে যেতে শুরু করেন। কিন্তু জন কাঁদতে কাঁদতে তার মা জুলিয়ার পিছু নেন। ফ্রেডি এরপরে তার পরিবারের সঙ্গে সব যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেন। ইংল্যান্ডব্যাপী যখন বিটলম্যানিয়া শুরু হয় তখন আবার পিতাপুত্রের মিলন ঘটে।

বিটলসের সঙ্গে লেনন

১৯৫৭ সালের মার্চ মাসে লেনন দ্য কোয়ারিমেন নামে একটি ব্যান্ড দল গঠন করেন। এসময় তিনি কোয়ারি ব্যাংক গ্রামার স্কুলে পড়তেন। তাদের প্রথম অনুষ্ঠান ছিল ১৯৫৭ সালের ৯ জুন মিস্টার মেকার নামে ক্যারোল লিউইসের একটি অডিশনে। কয়েক সপ্তাহ পর ১৯৫৭ সালের ৬ জুলাই, লেনন ও কোয়ারিমেনের সঙ্গে পল ম্যাককার্টনির দেখা হয় সেন্ট পিটার্স চার্চের উল্টন গার্ডেনে। ম্যাককার্টনির বাবা পরে দ্য কোয়ারিমেনকে তাদের ২০ ফোর্থলিন রোডের বাড়িতে অনুশীলন করার অনুমতি দেন। এ সময়ই মূলত লেনন ও ম্যাককার্টনি একত্রে এবং আলাদাভাবে গান লিখতে শুরু করেন। লেনন আঠারো বছর বয়সে প্রথম গান লেখেন যার শিরোনামহ্যালো লিটল গার্ল। এ গানটি পরবর্তী সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

লেননের গিটার

john-lennon-quotes১৯৫৮ সালের মার্চে জর্জ হ্যারিসনকে দেখার পর ম্যাককার্টনি লেলনকে হ্যারিসনকে দ্য কোয়ারিমেন ব্যান্ডে নিতে রাজি করান। হ্যারিসন লিড গিটারিস্ট হিসেবে দ্য কোয়ারিমেন দলে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে লেননের ছোটবেলার বন্ধু স্টুয়ার্ট সাটক্লিফ ব্যাস গিটারিস্ট হিসেবে দলে যোগ দেন। দলটি কিছুদিন পরেই রক ‘এন’ রোল ঘরানার গান করতে শুরু করে ‘জনি অ্যান্ড দ্য মুনডগস’ নাম ব্যবহার করে। ১৯৫৮ সালের মাঝামাঝি দ্য কোয়ারিমেন তাদের প্রথম রেকর্ডিং সম্পন্ন করে। এতে ছিল বাডি হলির গান দ্যাট’ল বি দ্য ডে এবং ম্যাককার্টনি ও হ্যারিসনের গাওয়া মৌলিক গান ইন স্পাইট অব অল দ্য ডেঞ্জার।

১৯৬০ সালে ব্যান্ডটি পাঁচবার তাদের নাম পরিবর্তন করে। স্টুয়ার্ট সাটক্লিফ বাডি হলি ও দ্য ক্রিকেটস দলের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ‘দ্য বিটলস’ নামের প্রস্তাব দেন, যা পরে তিনি ও লেনন ‘বিটালস’ নামে পরিবর্তনের চিন্তা করেছিলেন। তারা এরপর তাদের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘সিলভার বিটস’, ‘দ্য সিলভার বিটলস’ এবং ‘সিলভার বিটলস’। লেনন পরে নামটি সংক্ষেপ করে রাখেন দ্য বিটলস। লং জন সিলভার অব দ্য সিলভার বিটল্স নামে পরিচিত না হতেই নামটি সংক্ষেপ করা হয়েছিল কেননা নামটি ‘জনি অ্যান্ড দ্য মুনডগস’এর মতোই শোনায়। স্কটল্যান্ডে জনি জেন্টলের সঙ্গে একটি ভ্রমণের পর তারা তাদের দলের নাম পরিবর্তন করে ‘বিটল্স’ রাখেন। লেননকে বিটল্স দলের নেতা হিসেবে ধরে নেয়া হতো। কেননা তিনিই মূল দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ম্যাককার্টনি বলেন, আমরা সবাই লেননের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। তিনি ছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠ এবং অনেকটা নেতাসুলভতার বুদ্ধি ছিল সবচেয়ে তীক্ষ্ণ এবং তিনি সবার চেয়ে স্মার্ট।

দ্য বিটল্স

অ্যালান উইলিয়ামসের জারাকান্ডা ক্লাবে গান গাওয়ার পর তিনি ১৯৬০ সালের মে মাস থেকে দ্য বিটলসের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেন। এর কয়েক মাস পর তিনি জার্মানির হামবুর্গের ইন্দ্রা ক্লাবে বিটলসের গান গাওয়ার ব্যবস্থা করেন। মোনা বেস্ট লিভারপুলে কাসাবা ক্লাব নামে একটি ক্লাব চালাতেনযেখানে ১৯৫৯ সাল থেকেই বিটলস প্রায়ই গান গাইত। হামবুর্গে বিটলসের ভ্রমণ নিশ্চিত হওয়ার পর মোনার ছেলে পিট বেস্ট বিটলস দলে ড্রামার হিসেবে যোগ দেন। লেনন যখন হামবুর্গের কথা তার খালা মিমিকে জানান তখন খালা আতংকিত হয়েছিলেন। খালা লেননকে তার পড়ালেখা শেষ করার অনুরোধ জানালেও তিনি তা মানেননি। বিটলস প্রথম ইন্দ্রা ক্লাবে গান করত এবং তারা রাতযাপন করতেন বাম্বি কিনোর ছোট নোংরা ঘরে। ইন্দ্রা বন্ধ হওয়ার পর তারা কাইজারকেলার নামে বড় ক্লাবে যান। ১৯৬০ সালের অক্টোবরের তারা কশমিদার ক্লাব ছেড়ে দেন এবং পিটার একর্নের টপ টেন ক্লাবে কাজ করতে শুরু করেন।

লেননের কাজ করার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি রেলগাড়িতে করে ইংল্যান্ড আসেন। আর সাটক্লিফ টনসিলাইটিস বাঁধিয়ে ঘরে ফেরেন। যখন লেনন মেন্ডিপ্সে ফেরত আসেন তার খালা তার দিকে একটি রান্না করা মুরগি (যেটি লেনন তার খালার জন্যই কিনেছিলেন) ও একটি হাতআয়না ছুড়ে মারেন কারণ লেনন সিনথিয়া পাওয়েলের জন্য একটি চামড়ার কোট কিনেছিলেন। সিনথিয়া পাওয়েল ছিলে তখন জনের মেয়েবন্ধু ও পরবর্তীকালের স্ত্রী। সিনথিয়াকে তার খালা বখাটে ও গুণ্ডা মনে করতেন।

১৯৬০ সালের ডিসেম্বর মাসে বিটলস পুনরায় একত্রিত হয় এবং ১৯৬১ সালের ২১ মার্চ তারা লিভারপুলের ক্যাভের্ন ক্লাবে তাদের প্রথম কনসার্টের আয়োজন করে। ১৯৬১ সালের এপ্রিলে তারা আবার হামবুর্গে ফিরে যায় ও সেখানে টনি শেরিডানের সঙ্গে ‘মাই বোনি’ রেকর্ড করে। যখন ইংল্যান্ডে ফেরত যাওয়ার সময় আসে তখন সাটক্লিফ অ্যাস্ট্রিড কির্চেরের সঙ্গে জার্মানিতে থেকে যান। ফলে ম্যাককার্টনিকে ব্যাস গিটারিস্টের দায়িত্ব নিতে হয়। ১৯৬১ সালের অক্টোবরে যখন তার বয়স ২১ বছরের কাছাকাছি তার খালা ম্যাটের (যিনি এডিনবরাতে থাকতেন) তাকে ১০০ পাউন্ড স্টার্লিং দেন যা তিনি ম্যাককার্টনির সঙ্গে প্যারিস ভ্রমণ করে খরচ করে ফেলেন। লেননের সৎবোন জুলিয়া বেয়ার্ড ব্যাখ্যা করেন যে এই টাকা এসেছিল লেননের মায়ের বীমা থেকে যা তার উত্তরাধিকারীরা ২১ বছর হলেই পাবে। জুলিয়া ও জ্যাকিতার দুই সৎবোন ২১ বছর বয়স হওয়ার পরে এই অর্থ পেয়েছিলেন।

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: