প্রথম পাতা > অপরাধ, অর্থনীতি, ইসলাম, ধর্মীয়, বাংলাদেশ, রাজনীতি > মীর কাসেমের জামায়াতী লবিস্টদের নানামুখী কান্ড !

মীর কাসেমের জামায়াতী লবিস্টদের নানামুখী কান্ড !

নভেম্বর 22, 2016 মন্তব্য দিন Go to comments

মীর কাসেম আলীর অর্থ জোগানদাতারা বহাল তবিয়তে

mir-kasem-artটুটুল রহমান : বহাল তবিয়তে রয়েছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মীর কাশেম আলীর বিচার ঠেকাতে বিদেশে নিয়োগ করা লবিস্টদের অর্থ জোগানদাতা দুই ব্যবসায়ী। লবিস্টদের অর্থ দিয়ে মীর কাসেমের কোম্পানী রয়েল ডেনিমের মালিকানা পেয়েছেন তারা। শুধু তাই নয়, ইসলামী ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমান ঋণ নিয়ে তা পরিশোধও করছেন না তারা। ওই ঋণ বর্তমানে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাশেম আলীর মালিকানাধীন রয়েল ডেনিমের শেয়ার কিনে নিয়ে এনজিও প্রতিষ্ঠান ভিওএসডির চেয়ারম্যান এ এম সাইদুর রহমান ও নির্বাহী পরিচালক এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান লবিস্ট নিয়োগের অর্থের জোগান দিয়েছেন। রয়েল ডেনিম পরিচালনা করতেন মীর কাসেমের ভাই মীর হাসান আলী। মীর কাসেম আলী যুদ্ধাপরাধের দায়ে আটক হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের শেয়ার তার ভাইয়ের নামে লিখে দিয়েছিলেন তিনি। জানা গেছে, যখন সাইদুর রহমান ও মোস্তাফিজুর রহমান রয়েল ডেনিমের শেয়ার কিনে নেন তখন প্রতিষ্ঠানটি ইসলামী ব্যাংকের ঋণ খেলাপি ছিল। খেলাপি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হস্তান্তর করার নিয়ম না থাকলেও অবৈধ প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়ে লবিস্টদের পেছনে ঢালেন বিচার বানচাল করতে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই দুই ব্যক্তি যদি মীর কাসেম আলীর প্রতিষ্ঠানের শেয়ার না কিনতেন তাহলে সে বিচার ঠেকাতে এত অর্থ ব্যয় করার সুযোগ পেত না। তাই, তারা যে যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকাতে অর্থের জোগান দিয়েছেন এটা স্পষ্ট।
জানা গেছে, ২০১০ সালের প্রথমার্ধ থেকে ২০১২ সালের ১৭ জুন গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত লবিস্টদের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢেলেছেন মীর কাশেম আলী। যার পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি অর্থ দিয়েছেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী কনসালট্যান্সি ফার্ম কেসিডি এন্ড অ্যাসোসিয়েটসকে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মীর কাশেম আলী ২০১০ সালের ১০ মে প্রথমে ছয় মাসের জন্য কেসিডির সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন। ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, আড়াই কোটি ডলার অগ্রিম পরিশোধ করতে হয়েছিল তাকে।

জানা গেছে, ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মীর কাসেমকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে তার বিচার ঠেকাতে অর্থ নিয়ে এগিয়ে আসেন সাইদুর রহমান ও মোস্তাফিজুর রহমান। বিনিময়ে রয়েল ডেনিমের শেয়ার দেয়া হয় এই দুজনকে। সাইদুর রহমানকে চেয়ারম্যান করা হয়। আর মোস্তাফিজুর রহমান হন পরিচালক। কিন্তু কিভাবে এই কোম্পানির শেয়ার হাতবদল হয়েছে তা অনেকটাই রহস্যজনক। দুই পক্ষের কেউই এ বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি। রয়েল ডেনিমের শেয়ার কেনার সময় কিভাবে তার দাম পরিশোধ করেছেন সেটাও রহস্যজনক। এছাড়া রয়েল ডেনিম পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আগেই প্লেসমেন্ট শেয়ার দেয়ার নামে অনেক মানুষের কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকারও বেশি তুলে নেয় যা ব্যয় করে লবিস্টের পেছনে। পরবর্তী সময়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনিয়মের কারণে রয়েল ডেনিমের আইপিও অনুমোদন দেয়নি। এতে বিপাকে পড়েছেন রিপ্লেসমেন্ট শেয়ার ক্রয়কারীরা। অনিয়মের কারণে ইস্যু ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট সিকিউরিটিজ এন্ড সার্ভিস লিমিটেডকে জরিমানা করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)

জানা গেছে, মীর কাসেমের প্রয়োজনে অর্থ সরবরাহের প্রতিদান হিসেবে সাইদুর রহমান ও মোস্তাফিজুর রহমানের মালিকানায় রয়েল ডেনিম যাওয়ার পরে বিপুল অঙ্কের ঋণ দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। এই ঋণ বর্তমানে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমানকে ফোন করা হলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। এ এম সাইদুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বিষয়টি এড়িয়ে যান।

সূত্রঃ দৈনিক ভোরের কাগজ, ২২ নভেম্বর ২০১৬

জামায়াত সিন্ডিকেটের কবলে আইসিএসবি

জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব চাটার্ড সেক্রেটরিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি)। প্রতিষ্ঠানটির ১৩ জন নির্বাচিত কাউন্সিলরের মধ্যে পাঁচজন জামায়াতের রোকন ও একজন নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরিরের সদস্য বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। এই সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও স্বানামধন্য কয়েকজন পরিচালককে সরিয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের কাউন্সিলররা কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত রাজনৈতিক দলটির এই সিন্ডিকেটের কাছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আইসিএসবি’র বর্তমান প্রেসিডেন্ট মো সানাউল্লাহ, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. বুল হাসান, ভাইস প্রেসিডেন্ট সেলিম রেজা ও কাউন্সিল সদস্য মো. শহিদ ফারুকী জামায়াতে ইসলামীর রোকন এবং সদস্য সেলিম আহমেদ হিজবুত তাহরিরের ক্যাডার। তারা নামেবেনামে পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও তুরস্ক গিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের লবিস্ট নিয়োগ ও তাদের অর্থায়নের তদারকি করে আসছেন।

জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন। তারা চাইলেই বিদেশে যেত পারছেন না। তাই এই কাজে এসব লোকদের ব্যবহার করছে দলটি। কারণ এরা কখনো গোয়েন্দাদের সন্দেহে আসবে না। তাই নির্বিঘ্নে লবিস্ট নিয়োগ ও সম্পদের তদারকি করতে পারবেন।

আইসিএসবি’র শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন ধরে ইনস্টিটিউটের ক্লাস নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে জামায়াতি জঙ্গি আদর্শ ঢুকিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। এই চক্র আইসিএসবি’র মূল ডিপার্টমেন্ট শিক্ষা কমিটি ও পরীক্ষা কমিটি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মগজধোলাই করে আসছে। তারা এসব কমিটিতে থেকে জামায়াতি আদর্শের শিক্ষার্থীদের বেশি নম্বর পাইয়ে দিয়ে সহজে পাস করিয়ে দিচ্ছে। তাই সহজে পরীক্ষায় পাস করার জন্য অনেক শিক্ষার্থী তাদের দলে ভিড়ছে। এভাবে গত কয়েকবছর ধরে তাদের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে ইনস্টিটিউটটি পুরো দখলে নিয়ে নিয়েছে।
জানা গেছে, বর্তমান সরকারপ্রধান নিজ উদ্যোগে ২০১০ সালে জাতীয় সংসদে ২৫নং চার্টার্ড সেক্রেটারি আইন পাশের মাধ্যমে চার্টার্ড সেক্রেটারি পেশার উন্নয়ন, বিকাশ ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারি অব বাংলাদেশ নামে একটি স্বায়ত্বশাসিত ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি জামায়তি চক্রে আবদ্ধ হয়ে পড়ায় বর্তমান সরকারের উদ্দেশ ব্যহত হতে বসেছে। প্রতিষ্ঠানটিকে এই চক্রের হাত থেকে মুক্ত করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও সদস্যরা।

সূত্রঃ দৈনিক ইনকিলাব, ২২ নভেম্বর ২০১৬
Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: