প্রথম পাতা > জীবনী, নারী, বাংলাদেশ > নারী জাগরণের পথিকৃৎ সুফিয়া কামাল

নারী জাগরণের পথিকৃৎ সুফিয়া কামাল

sufia-kamal-7নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন। সুফিয়ার বয়স মাত্র সাত মাস তখন তার বাবা সাধকদের অনুস্মরণে নিরুদ্দেশ যাত্রায় বেরিয়ে পড়েন। স্বামীর নিরুদ্দেশ যাত্রা, শ্বশুরবাড়িতে নিজের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, অনেকের বিরূপ মনোভাব সব মিলিয়ে সাবেরা খাতুন অনেকটা বাধ্য হয়ে বাবার বাড়িতে এসে আশ্রয় নেন। তিনি বড় হয়েছেন তার নানার বাড়িতেই।

তার ছোটবেলা কেটেছে শায়েস্তাবাদের নবাব পরিবারে। সেখানে সবার কথ্য ভাষা ছিল উর্দু। নবাব পরিবারে মেয়েদের আরবিফারসি শিক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও বাংলার সেখানে বাংলার কোনো স্থান ছিল না। ছোট বেলায় মায়ের কাছে বাংলা শেখেন সুফিয়া। তার বড় মামার বিরাট লাইব্রেরি সর্বভারতে প্রসিদ্ধ ছিল। মায়ের উৎসাহ ও সহায়তায় এ লাইব্রেরির আওতায় শিশু সুফিয়া চুরি করে বই পড়তেন এবং বাংলা শেখার চেষ্টা করতেন। ছোটবেলা থেকেই সুফিয়ার মধ্যে বাংলা ভাষার প্রতি এক ধরনের আকর্ষণ ও মমত্ববোধ এবং একই সঙ্গে গ্রামের সাধারণ মানুষ ও গ্রামীণ নৈসর্গিক সৌন্দর্যের প্রতি ভালোবাসা দেখা যায়। সহজ সরল অনাড়ম্বর চালচলন ছিল তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পোশাকি কথাবার্তা, আচরণ তার মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতো। সে সময় সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারগুলোতে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার কোনো রীতি ছিল না। কিন্তু ব্যতিক্রম শিশু সুফিয়া বায়না ধরল যে স্কুলে যাবেই। অগত্যা শিশুর ইচ্ছা পূরণের জন্য পায়জামা আচকান পরিয়ে মাথায় টুপি দিয়ে রীতি মতো ছেলে সাজিয়ে অভিভাবকরা স্কুলে পাঠালেন সুফিয়াকে। বাস্তবে স্কুলে যাওয়া আর কোনোদিন সম্ভব না হলেও, স্কুলে পড়ার ঐকান্তিক বাসনা মন থেকে মুছতে পারেননি। অবদমিত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে বাড়িতে স্কুলস্কুল খেলায়। এই স্কুলস্কুল খেলায় শিশু সুফিয়া বাংলা থেকে ইংরেজিতেই কৃতিত্বের পরিচয় দিতেন বেশি এবং ইংরেজিতে কৃতিত্বের কারণেই ‘সন্দেশ’ পত্রিকার গ্রাহক হওয়ার অপূর্ব সুযোগ লাভ করেছিলেন। কিন্তু মেয়ের নামে পত্রিকা এসেছে, এটা কাউকে দেখানো যাবে না, এমনকি এ কথা ঘরেবাইরে কাউকেও জানানো যাবে না। এই বৈরী পরিবেশের সমস্যার সমাধান করলেন জুবিলী স্কুলের পণ্ডিত প্যারীলাল বাবু। স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি স্থানীয় পোস্ট অফিসে পোস্ট মাস্টারের দায়িত্বও পালন করতেন। নবাব বাড়ির মেয়ের কাছে ডাকযোগে বই আসছে, এটা সকলের মধ্যে জানাজানি হলে লজ্জার কথা, উপরন্তু নিন্দাসমালোচনার আশঙ্কা, তাই পোস্ট অফিসে সুফিয়ার নামে ‘সন্দেশ’ আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি তা নিজ তত্ত্বাবধানে রেখে দিতেন। পরে সময় সুযোগ করে সুফিয়ার হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতেন। শিশু সুফিয়া বাংলা শিখছে শুনে প্যারীলাল বাবু খুশি হয়ে তাকে উৎসাহ দিতেন। এ সময় সুফিয়ার বড় ভাই সৈয়দ আবদুল ওয়ালী বরিশালে বেল ইসলামিয়া হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করতেন। বাংলার প্রতি আগ্রহের কথা শুনে ওই হোস্টেলের পণ্ডিত বাদশা মিয়া শিশু সুফিয়াকে উৎসাহ দেয়ার পাশাপাশি বাংলা বইও সংগ্রহ করে দিতেন। সাধারণভাবে প্রচলিত পারিবারিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও এভাবে অনেকের স্নেহছায়ায় ধীরে ধীরে শিশু সুফিয়া বাংলা রপ্ত করতে থাকেন।

মাত্র ৭ বছর বয়সে কলকাতায় বেগম রোকেয়ার সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ হয়। প্রথম সাক্ষাতেই বেগম রোকেয়া সুফিয়াকে তার স্কুলে ভর্তি করে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তব সমস্যার কারণে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের একেবারে প্রথম যুগের ছাত্রী হওয়ার দুর্লভ সুযোগ হাতের মুঠোয় এসেও পিছলে গিয়েছিল। অনেকের ধারণা, পরিবারের রক্ষণশীলতার কারণেই সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে তার ভর্তির সুযোগ হয়নি। এই সুযোগ না হওয়ার পশ্চাতে শুধু পারিবারিক রক্ষণশীলতা নয়, সে সময়ে কলকাতায় অবস্থানের সমস্যাও বহুলাংশে দায়ী ছিল।

১৯২৪ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে মামাত ভাই সৈয়দ নেহাল হোসেনের সঙ্গে সুফিয়ার বিয়ে হয়েছিল। সৈয়দ নেহাল হোসেন ছিলেন প্রগতিবাদী ও নারী শিক্ষার সমর্থক। স্বামীর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় বালিকাবধূ সুফিয়ার লেখার গতি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। নেহাল হোসেনের ঐকান্তিক সহযোগিতায় সুফিয়ার লেখা পত্রিকায় প্রকাশের সুযোগ ঘটে, যা নববধূ সুফিয়ার জন্য ছিল সত্যিই অকল্পনীয়। সুফিয়ার পরম সৌভাগ্য, এই বিবাহই তার সুপ্তপ্রায় প্রতিভাকে সযত্নে লালন করে বিকাশের ধারায় প্রবাহিত করেছিল। শুধু তাই নয়, সুফিয়ার লেখা প্রকাশের দায়িত্ব নেয়ায় সৈয়দ নেহাল হোসেনকে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রচুর গঞ্জনা সহ্য করতে হয়েছিল। সময়ের বিচারে নেহাল হোসেনের এই পদক্ষেপ সত্যিই যুগান্তকারী ছিল। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে সুফিয়ার জীবনে নেমে আসে নিদারুণ বিষাদের ছায়া। স্বামী নেহাল হোসেন আক্রান্ত হলেন দুরারোগ্য ক্ষয়রোগে। স্বামীর সেবা শুশ্রুষায় সুফিয়া রাতদিন অতিবাহিত করতে লাগলেন। বোম্বে, মাদ্রাজ, নৈনিতাল ঘুরে ফিরে হাওয়া পরিবর্তন করেও রোগ উপশমের কোনো লক্ষণ দেখা গেল না। শেষে অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে চলে এলেন শায়েস্তাবাদের বাড়িতে। শত চেষ্টায়ও নেহাল হোসেনের জীবন রক্ষা করা গেল না। মাত্র ২৬ বছর বয়সে ১৯৩২ সালের ১৯ ডিসেম্বর ৬ বছরের একমাত্র কন্যা সন্তান (আমেনা খাতুন দুলু) রেখে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। স্বামীর অকাল মৃত্যুতে সুফিয়ার জীবনে নেমে আসে চরম দুর্যোগ।

১৯৩৯ সালের ৮ এপ্রিলে চট্টগ্রামের কামালউদ্দিন খানের সঙ্গে তার পুনর্বিবাহ হয়। বিবাহের পর তিনি সুফিয়া কামাল নামে পরিচিত হলেন। উচ্চশিক্ষিত সুদর্শন কামালউদ্দিন খান ছিলেন অত্যন্ত চিন্তাশীল ব্যক্তি। তিনি কবির কাব্যপ্রতিভার সম্মান করতেন। সুফিয়া কামালের প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল সাধারণভাবে সকলের অগোচরে, অনেকাংশে নেপথ্যে। সাহিত্যরসিক কামালউদ্দিন খান ছাত্রজীবনে কবিতা, প্রবন্ধ লিখেছেন, অনুবাদ করেছেন। বিয়ের পর তিনি সুফিয়ার কাব্য প্রতিভা বিকাশের প্রতিই বেশি যত্নবান ছিলেন। তিনি কবির লেখা সংরক্ষণ, পাণ্ডুলিপি তৈরি ইত্যাদি সযত্নে করতেন। এ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ছেলে শাহেদ কামাল (শামীম), আহমদ কামাল (শোয়েব), সাজেদ কামাল (শাব্বীর) এবং মেয়ে সুলতানা কামাল (লুলু) ও সাঈদা কামাল (টুলু)। শোয়েব ১৯৬৩ সালে ১৩ মে রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৯৯ সালে ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে এই অনন্য নারী মৃত্যুবরণ করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ২৮ নভেম্বর তার ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

সুফিয়া কামাল ও বাংলাদেশের নারী আন্দোলন

sufia-kamal-6আয়শা খানম : বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত শ্রদ্ধেয় কবি সুফিয়া কামালের কাছ থেকে এবং তার সম্পর্কে লেখা সংক্ষিপ্ত জীবনীমূলক পুস্তকাদি থেকে আমরা জানতে পারি যে, সুফিয়া কামাল বরিশালের এক ঐতিহ্যবাহী বনেদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ও বেড়ে ওঠেন। সেখানে মার্জিত শিক্ষিত একটা সাংস্কৃতিক পারিবারিক পরিমণ্ডল ছিল এবং বরিশালের তৎকালীন বিশেষ সামাজিক, রাজনৈতিক, জাতীয় আবহাওয়া ও পরিবেশের এক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব তার ওপরে পড়েছে বলে বলা যায়। জীবনে বিভিন্ন ঘটনার সূত্রে এমন অনেক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তার যোগাযোগ ঘটে যা অধিকাংশ সময়ই তাকে অগ্রসর পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রেখেছে। শৈশব থেকেই তার মাঝে এক গভীর আত্মানুসন্ধানের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তার জবানিতেই আমরা দেখি তিনি তার মাতার কাছে তার পিতার বিষয়ে সংবাদ জানতে চান এবং এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। তিনি তার জীবনের প্রথম বেদনাবোধের কথা আমাদের বলেন। তার এই আত্মানুসন্ধানপ্রবণতা তাকে নতুন নতুন মানুষ, নতুন নতুন ঘটনা ও নতুন জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। বলা যায়, তার এই আত্মানুসন্ধানপ্রবণতার জন্য পরবর্তী সময়ে তিনি সাংস্কৃতিক আন্দোলন, সুস্থ উন্নত প্রগতিশীল জীবন চেতনাবোধের আন্দোলন, নারীর জাগরণ ও মুক্তির আন্দোলনে গভীরভাবে জড়িত হয়ে পড়েন। বাঙালি জাতির ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক কালপর্বে স্বাধীন বাংলাদেশের নারীজাগরণ ও মুক্তির আন্দোলনে এক জাগ্রত অগ্রসর পথিকের ভূমিকা পালন করেন তিনি।

খুব অল্প বয়স থেকেই সেই সময়ের স্বদেশি আন্দোলনের পরোক্ষ প্রভাব তার মাঝে পড়ে। বরিশালের অশ্বিনীকুমার দত্তসহ অনেক স্বদেশি আন্দোলনের ব্যক্তির ভূমিকার কথা তার লেখায় পাওয়া যায়। চরকার সুতা কাটা, গান্ধীর আগমন, জাতীয়তাবাদী চেতনার স্ফুরণ, স্বদেশি সংগ্রামীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ, পোশাক পরিবর্তন করে বরিশালে বিভিন্ন আন্দোলনের সভায় যোগদান, জমিদার পরিবারের ঐশ্বর্য ও সামাজিক মর্যাদার মাঝে থেকেও মায়ের একাকিত্ব জীবন এবং পরবর্তীকালে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের পথপরিক্রমায় সুফিয়া কামাল আমাদের এই অঞ্চলের পরিবারে ও সমাজে নারীর প্রকৃত অবস্থানের পরিচয় পেয়ে যান। ভাইদের সঙ্গে ছেলেদের পোশাক পরে স্কুলে যাওয়া, উদার মানবতাবাদী সাংবাদিক সওগাত সম্পাদকের শ্রদ্ধেয় প্রয়াত নাসিরউদ্দিন সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ ও কবিতা প্রকাশের সুযোগ তৈরি, কলকাতায় অতি অল্প বয়সে বিধবা হয়ে একাকী হয়ে যাওয়ার পর কলকাতা কর্পোরেশনে চাকরি গ্রহণ এবং কঠিন জীবন সংগ্রামের বাস্তব অভিজ্ঞতা হওয়া, সেই সময়ের বিভিন্ন আন্দোলনে বিভিন্ন সভায় যোগদান, মায়ের মাধ্যমে মহীয়সী বেগম রোকেয়ার সঙ্গে আলাপপরিচয়, তার চিন্তাধারারায় গভীরভাবে প্রভাবান্বিত হওয়া, তার সঙ্গে কিছু কিছু কাজ করা, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে পত্রালাপ, তার সাহিত্যের সঙ্গে পরিচয়, তার জীবন দর্শন, জীবন ভাবনা, মানবতাবাদী চেতনা ও আদর্শ কবি সুফিয়া কামালের চেতনার জগতে বিরাট মৌলিক পরিবর্তন সাধন করে। কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিপ্লবাত্মক সাম্যবাদী চিন্তাধারা অবনমিত নারীর জয়গানের ভেতর থেকে তার চেতনা ও মনোজগতের পরিবর্তন আনতে থাকে। এ বিষয়ে অনেক বিস্তারিত গবেষণামূলক পৃথক প্রবন্ধ হতে পারে। আমি এখানে সংক্ষেপে বলতে চাই যে, তার শৈশব ও পরবর্তী জীবনের বাস্তব পরিবেশ, নানা ঘটনা ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পরিচয় ও নিজের জীবন জিজ্ঞাসা এবং সচেতন চিন্তাচেতনা তাকে বাংলাদেশের নারী আন্দোলনে প্রধান পুরোধা ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
ইতোপূর্বে (তার নিজের স্মৃতিচারণমূলক আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘একালে আমাদের কাল’এর সূত্র ধরে ও তার নিজের কাছ থেকে জেনে) বরিশালের সুকুমার দত্তের স্ত্রী সাবিত্রীদত্তের সঙ্গে মাতৃমঙ্গল, শিশুমঙ্গল, সুফিয়া কামাল ও বাংলাদেশের নারী আন্দোলন মহিলা সমিতির কাজ করা, বরিশালে যখন মহাত্মা গান্ধী এলেন সেই সূত্রে স্বদেশি নেতাদের স্ত্রীদের সঙ্গে চরকায় সুতা কাটা, কলকাতায় রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেনের গড়া সংগঠন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলামের সদস্য হওয়া, বস্তিতে কাজ করা, বয়স্কশিক্ষা কেন্দ্র, শিশুশিক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা করা, অল ইন্ডিয়া উইমেন অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, সেখানে রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন, শামসুন্নাহার মাহমুদও জড়িত ছিলেন বলে তার কাছ থেকেই জানতে পারি। এই সংগঠনে থাকাকালীন মেয়েদের ভোটাধিকার, স্বদেশি আন্দোলন ও স্বাধীনতা আন্দোলনের কাজে তিনি যোগদান করেন ও তার আত্মচেতনার বিকাশ ঘটে।

কলকাতায় থাকার সময়ে ডা. বিধান চন্দ্র রায়ের ভাইয়ের স্ত্রী নারী নেত্রী রেণু চক্রবর্তীর মায়ের সঙ্গে নারীদের সভায় গেছেন, সেই আন্দোলনের সংগঠনের চিন্তাধারার সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন এবং রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেনের হাতে গড়া সংগঠন ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম’ নামক সংগঠনে কাজ করেছেন, বস্তিতে বস্তিতে মানুষের মাঝে কাজ করেছেন। শামসুন্নাহার মাহমুদের সঙ্গেও পরিচয়যোগাযোগ হয় ঢাকায় এসে। একটা পর্যায়ে এখানকার কবিসাহিত্যিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়। তৎকালীন কবিসাহিত্যিক, সমাজসংস্কারক, বিপ্লবী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, নারীসংগঠক অনেকের সঙ্গেই আলাপপরিচয় ও হৃদ্যতা গড়ে ওঠে। শামসুন্নাহার মাহমুদ ও অন্যদের নিয়ে সামাজিক কাজ শুরু করেন। ১৯৪৮ সালের পর ধীরে ধীরে কাজী মোতাহার হোসেন, প্রগতিশীল শিখা গোষ্ঠী, সাহিত্যচক্রের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৫২ সালে মহান মাতৃভাষা আন্দোলনে যোগদান, নিজের বাসায় ছাত্রী নেত্রীদের নিয়ে সভা করা এমনিভাবে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জাতীয়তাবাদী প্রগতিশীল আদর্শ চেতনা ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চিন্তাধারা বিকাশের আন্দোলনে ও সংগঠনগুলোর সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন।

নারী আন্দোলনের সঙ্গে কবি সুফিয়া কামালের যেন একটা আত্মিক যোগাযোগ জীবনের সূচনালগ্ন থেকেই ছিল। সওগাত সম্পাদকের সঙ্গে পরিচয় তার জীবনে এক সবিশেষ স্মরণীয় ও বিশেষ উল্লেখযোগ্য ঘটনা। স্বাধীন বাংলাদেশের নারীজাগরণ ও মুক্তির সংগ্রামে সুফিয়া কামাল এক চির ভাস্বর নাম। একটি পশ্চাদপদ দেশে যেখানে পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ দ্বারা পরিবারসমাজ পরিচালিত ও প্রভাবিত সেখানে নারীর ব্যক্তিঅধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আদর্শ ও চেতনাকে বিকশিত করার সংগ্রামে সুফিয়া কামাল নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। মহীয়সী রোকেয়া ছিলেন সুফিয়া কামালের আদর্শ ব্যক্তিত্ব। স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশে সুফিয়া কামালই মূল ও প্রধান ব্যক্তি যিনি তার অগ্রজ দূরদর্শী ও নিজ সময় ও পারিপার্শ্বিকতার তুলনায় অগ্রসর চিন্তাচেতনার অধিকারী রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেনের স্মৃতিকে ধরে রাখার উদ্যোগ নেন, প্রথম আয়শা জাফরকে সহযোগী করে এবং পরে মহিলা পরিষদসহ বিভিন্ন নারী সংগঠন ও নারী আন্দোলনের মাধ্যমে রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেনের চিন্তাধারাকে প্রচার করার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা নেন।

সুফিয়া কামাল রোকেয়ার স্মৃতি রক্ষা ও তার চিন্তাচেতনা ও আদর্শ প্রচারের এই প্রচেষ্টায় উদ্যোগী হন তার অনুসারী, সহযোগী, নারী কর্মী, সংগঠক, নারী সংগঠন ও সমাজচিন্তার অধিকারী বুদ্ধিজীবী সমাজ, বাংলা একাডেমি, কবি আব্দুল কাদির ও অন্যরা। এক অর্থে বলা যায়, পাশ্চাত্যের নারী আন্দোলন যেমন ম্যারি ওলস্টোনক্রাফ্ট বা সিমোন দ্য বেভ্যুয়ার, গ্রিমিক ভগ্নিদ্বয় (এঞ্জেলিনা ও সারা) তাদের মতো এশিয়ার এই অঞ্চলে চিন্তাচেতনায় অগ্রসর এক নারীবাদী কণ্ঠস্বর বেগম রোকেয়া। সেই কণ্ঠস্বর, সেই চেতনা ও আদর্শ বিস্তারে সুফিয়া কামাল অনেক ক্ষেত্রেই এককভাবে প্রথম উদ্যোগী ভূমিকা নেন। একথা বললে বোধহয় ভুল হবে না যে, সুফিয়া কামাল রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেনের আদর্শ ও চেতনাকে সামনে আনার জন্যে মহিলা পরিষদের মাধ্যমে প্রথম সংগঠিত পরিকল্পিত প্রয়াস রাখেন। অবশ্য তার এই কাজে অন্যান্য সহযোগী নারী কর্মী ও পুরুষ বুদ্ধিজীবীও এগিয়ে এসেছেন। পরবর্তীকালে তার জীবিতকালেই রাষ্ট্রীয়ভাবে রোকেয়া পদক প্রদানের প্রচলন হয়। রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন জাতীয় নারী আন্দোলনের আদর্শিক ক্ষেত্রে অনেক সামনে এসেছে। রোকেয়াকে সামনে আনার ক্ষেত্রে সুফিয়া কামালের অগ্রণী ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও কবি সুফিয়া কামাল অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত দুই নাম। সমাজরাষ্ট্রদেশবাসী নরনারী সবার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের কাজ; পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা এবং পবির্তনের লক্ষ্যে জনমত গড়ে তোলার কাজ; নারীসমাজকে সচেতন ও সংগঠিত করার কাজ; নারীসমাজকে তার ন্যায়সঙ্গত জš§গত অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা, অধিকার অর্জনের সংগ্রামের জন্য সংগঠিত করা; নারীপুরুষের মাঝে বিরাজমান বৈষম্য দূর করার জন্য সামাজিকঅর্থনৈতিকরাজনৈতিকশিক্ষাগতসাংস্কৃতিকআইনগত তথা সামগ্রিক পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টিভঙ্গি পূর্ণ আন্দোলন গড়ে তোলা যে আন্দোলনের যোগসূত্র রয়েছে এই উপমহাদেশে গড়ে ওঠা নারীর ব্যক্তিঅধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সঙ্গে, যে আন্দোলনের ধারা মানবিক মুক্তিআন্দোলনের ধারার সঙ্গে ধীরে ধীরে সম্পৃক্ত হয়ে ব্যাপক মাত্রা লাভ করবে। সুফিয়া কামাল আমাদের এই বিরামহীন, বহমান সংগ্রামের ধারায় অতীত ও বর্তমানের মাঝে ঐতিহাসিক সেতুবন্ধন। অপূর্ব যোগসূত্র। অর্থনৈতিক দিক থেকে নারীসমাজকে স্বাবলম্বী, আত্মনির্ভরশীল ও দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ দান ও সর্বোপরি অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় অর্থনীতির মূলস্রোত ধারায় নারীসমাজকে বাস্তব অর্থে সম্পৃক্ত করার দাবি ও কর্মসূচিতে কাজ করছে যা আজ দেশের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায়, নারী উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুক্ত হয়েছে। আজকের এই পরিবর্তন, সরকারি নীতি প্রণয়ন, অর্থনীতিতে নারীর দৃশ্যমানতায় সরকারের সদিচ্ছা, বেসরকারি প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব যেমন আছে তেমনি নারী আন্দোলনেরও ভূমিকা রয়েছে। পূর্ণমানবাধিকার ও মর্যাদা ভোগ করার জন্য, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি ফলপ্রসূ দায়িত্ব পালন করার জন্য, নারীর রাজনৈতিক অধিকার কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সুস্পষ্ট কর্মসূচি ও দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে মহিলা পরিষদ। রাষ্ট্র ও দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যাতে নারী সমাজ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সচেতন ও দক্ষ হয়ে উঠতে পারে, অংশগ্রহণ করতে পারে, সেই লক্ষ্যে মহিলা পরিষদ কাজ করছে সূচনা থেকেই। একজন সচেতন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য নিজেদের আত্মপ্রচেষ্টা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া, নারী কর্মীদের গড়ে তোলার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি দাবি রাখছে, লবি করছে দীর্ঘ সময় ধরে। ফলাফল আকাক্সিক্ষত পর্যায়ে আজো হয়নি, এটা সত্য হলেও আবার এটাও সত্য মহিলা পরিষদ নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের আন্দোলন দীর্ঘকাল থেকে উদ্যোগ নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করা, নারী নির্যাতন ও সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে সমাজের বিবেক জাগ্রত করার জন্য কাজ চলছে অক্লান্ত উদ্যোগে। নির্যাতিতা, আশ্রয়হীনা নারীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৫ বছর ধরে ‘রোকেয়া সদন’ নামে পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। ‘রোকেয়া সদন’ নামটি কবি সুফিয়া কামালেরই দেয়া। রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেনের স্বপ্নের ‘তারিনী ভবন’ হলো সুফিয়া কামালের ‘রোকেয়া সদন’। রোকেয়া সদনের প্রতিটি কাজে তিনি উদ্যোগী ও সক্রিয় ছিলেন। এত আগ্রহ এত আনন্দ রোকেয়া সদনের কাজে! অনেক দুর্ভাবনাও ছিল এই সদন পরিচালনার অর্থ সংগ্রহ হবে কীভাবে? একটি স্থায়ী আশ্রয়স্থল কীভাবে তৈরি করা যাবে? কী অসীম অপার মমতাবোধ ছিল এই সদনে আশ্রিত নারী শিশুদের জন্য।

দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ধারার আমূল পরিবর্তন ঘটে, শুরু হয় হত্যা ‘ক্যু’ পাল্টা ‘ক্যু’ এবং ক্ষমতা দখল, পরিণতিতে সামরিক শাসনও স্বৈরশাসনগণতন্ত্রের বিকাশের পরিবর্তে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। প্রায় দুই দশক ধরে চলে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জাতীয় সংগ্রাম। সামরিক শাসনবিরোধী গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে মহিলা পরিষদ দেশবাসীর পাশে থেকে সংগ্রামের প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন। স্বৈরশাসনের পতন, জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠাসহ প্রায় সব জাতীয় দাবিতে মহিলা পরিষদ সোচ্চার থাকে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ব্যাপক নারীর অংশগ্রহণের লক্ষ্যে গঠিত হয় ঐক্যবদ্ধ নারীসমাজ। ঐক্যবদ্ধ নারী সমাজ একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এই প্রচেষ্টার অন্যতম প্রধান উদ্যোগী সংগঠন মহিলা পরিষদের পুরোভাগে সুফিয়া কামাল। শতাব্দীর সহস্র বাধা, নিপীড়ন, অন্ধকার গৃহকোণে পড়ে থাকা নারীসমাজের মাঝে চেতনা সৃষ্টি, আত্মসম্মানবোধ জাগিয়ে তোলা, জাগরণ সৃষ্টি করার কাজ মহিলা পরিষদ আজো চালিয়ে যাচ্ছে, সেই নিরলস প্রচেষ্টার আমৃত্যু নেতৃত্ব দিয়েছেন কবি সুফিয়া কামাল।

আশি ও নব্বইয়ের দশকে বিশ্বব্যাপী নারী আন্দোলনের যে নতুন পর্যায় শুরু হয়, তাতে বাংলাদেশের নারীআন্দোলন, নারী সংগঠনও গভীরভাবে প্রভাবান্বিত হয়। সুফিয়া কামাল অতীতের নারী আন্দোলনের রেশ ধরে পরিবর্তনশীল তার সময়ের নারীআন্দোলনকেও অগ্রসর করার ক্ষেত্রে দিকপালের ভূমিকা পালন করেছেন। মহিলা পরিষদ ছাড়াও অন্য অনেক সংগঠন ও সংগঠনের নেত্রী সংগঠকদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে উপদেষ্টা ও পরামর্শকদের ভূমিকা পালন করেছেন। নারী সংগঠন, নারীআন্দোলন ছাড়াও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিশুকিশোরছাত্র সংগঠনসহ বিভিন্ন ধরনের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও বিভিন্নভাবে তিনি জড়িত ছিলেন। মুক্ত চিন্তাচেতনা বিকাশের সচেতন প্রয়াসে গড়ে ওঠা সাহিত্যিকদের সংগঠন শিখাগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থেকে সুফিয়া কামাল প্রায় সব ধরনের সাহিত্যিকসাংস্কৃতিক আন্দোলন কর্মপ্রচেষ্টার সঙ্গে যেমন জড়িত ছিলেন, তেমনি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক দল ও বিশেষ করে সেসব দলের নেতা সংগঠকদের অনেকের সঙ্গেও তার একটা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছিল। তিনি যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে, তার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখেছেন তেমনি অন্যদিকে ’৬৯৭০ সালের দিকে মণি সিংহ প্রমুখ বামপন্থি নেতাদের সঙ্গেও তার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। বাংলাদেশসোভিয়েত মৈত্রী সমিতির সভাপতি হিসেবে সোভিয়েতসহ অনেক সমাজতান্ত্রিক দেশ ও তাদের ধ্যানধারণা জানা ও দেখার সুযোগ হয়। আমার কাছে শ্রদ্ধেয় কবি সুফিয়া কামালের সারা জীবনের কর্মকাণ্ড ও জীবনাচরণ দেখলে মনে হয় কবি সুফিয়া কামাল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই ভাবনার অনুসারী ছিলেন যেখানে রবীন্দ্রনাথ বলেন ‘যুক্ত করো হে সবার সঙ্গে মুক্ত করো হে বন্ধ।’

বাংলাদেশের নারীসমাজকে, নারীআন্দোলনকে, আন্দোলনকারীদের ভাবনা দিয়েছেন, প্রেরণা দিয়েছেন, পথ দেখিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন, আশ্রয় দিয়েছেন, লালন করেছেন কবি সুফিয়া কামাল। আজকের বাংলাদেশে নারী আন্দোলনের চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই পরিবর্তিত হচ্ছে, বিশেষ করে গত দুই দশকে বৈশ্বিক নারী আন্দোলনে জাতিসংঘের উদ্যোগে, প্রচেষ্টায়, কর্মসূচিতে, দাতা সংস্থা উন্নয়ন সংস্থার কার্যকলাপে অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন উদ্যোগ চালাচ্ছে। শত বছর বা পঞ্চাশ বছর পূর্বে নারীর ব্যক্তিঅধিকার প্রতিষ্ঠার যে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল, আজ নারীর সেই ব্যক্তি অধিকারের স্বীকৃতি অর্জিত হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে, জাতীয়ভাবে, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে নারীর ব্যক্তি অধিকার রক্ষায় বিশেষ ঘোষণা ও বিশেষ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। জাতীয়ভাবে শাসনতন্ত্রে নীতি গ্রহণ করছে, উন্নয়ন পরিকল্পনায় কর্মপরিকল্পনায় ঘোষণা করছে। বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চলছে সরকারিভাবে, রাষ্ট্রীয়ভাবে।

বাংলাদেশের আজকের নারীসমাজের চেহারাও পরিবর্তন হচ্ছে, শতমুখী বাধা ও শত সংকটের মাঝেও বাংলাদেশের নারীরা অগ্রসর হচ্ছে। পরিবারে, ব্যক্তি জীবনে, সামাজিক কর্মকাণ্ডে, দেশের উন্নয়ন কাজে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে, রাজনৈতিক অঙ্গনে মেয়েরা এগিয়ে এসেছে। মেধায়মননেচিন্তাচেতনায়কর্মেস্পৃহায় এক নতুন আলোকিত নারীসমাজ তৈরি হচ্ছে। দু’হাতে আঁধার ঠেলে নারীরা এগিয়ে আসছেন আজকের বাংলাদেশে। নারীর এই জাগরণে, এই এগিয়ে আসার পথ যারা একদিন পাথর কেটে তৈরি করেছেন তাদের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব কবি সুফিয়া কামাল। তাই তিনি আমাদের জননী সাহসিকা।


লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

সূত্রঃ দৈনিক মানবকন্ঠ, ২০ নভেম্বর ২০১৬

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: