প্রথম পাতা > ইতিহাস, পরিবেশ, বাংলাদেশ > ইতিহাসের সাক্ষী শতবর্ষী গাছগুলো বেঁচে থাক

ইতিহাসের সাক্ষী শতবর্ষী গাছগুলো বেঁচে থাক

jessore-centenarian-treesফারুক হাসান : একাত্তর সালে শরণার্থীদের করুণ অবস্থা দেখে মার্কিন কবি অ্যালান গিনসবার্গ ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ নামে বিখ্যাত কবিতাটি লিখেন। ইতিহাসের সাক্ষী ওই গাছগুলো যে কোনো মূল্যে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশি শরণার্থীরা রাস্তার দুই ধারের ওই গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিল।

যশোরবেনাপোল মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার প্রক্রিয়ায় অংশ হিসাবে রাস্তার দুই পাশে থাকা শতবর্ষী গাছগুলো কাটা পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রেখেই এই মহাসড়ক চার লেন করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যেমনটি করা হয়েছে একই মহাসড়কের ভারতীয় অংশে।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে থেকে এটি ‘যশোর রোড’ নামে পরিচিত। ভারতীয় অংশে সড়কটির নাম এখনও যশোর রোড। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাক্ষী যশোরবেনাপোল মহাসড়কটি ‘যশোর রোড’ নামকরণ করলে আমাদের মর্যাদা বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

যশোর(শার্শা) আসনের এমপি শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, যশোরবেনাপোল মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ভাল ও বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ইতিমধ্যে গাছগুলো বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপনও করেছি। যশোরবেনাপোল রোড চার লেন হলে বেনাপোল বন্দরের সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ আরো উন্নত হবে। তবে দুই ধারের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী গাছগুলোকে রেখেই রাস্তাটি চার লেন করা হলে ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষা পাবে।
তিনি আরো বলেন, বেনাপোলের ওপারে ভারতীয় অংশের এই রোডটি চার লেনের। ওখানে শতবর্ষী গাছগুলোই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে চার লেনের মাঝখানে। ফলে কোনো গাছ কাটতে হয়নি। গাছগুলো রাস্তার সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ভারতীয়দের মতো যশোরবেনাপোল মহাসড়কের পাশের গাছগুলোও রাখার দাবি জানান তিনি।

শার্শা বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, যশোরবেনাপোল মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হলে ইতিহাসের সাক্ষী হিসাবে দাড়িয়ে এই গাছগুলো বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

যশোর থেকে বেনাপোল পর্যন্ত মহাসড়কের ৩৫ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার রাস্তা দুই লেনবিশিষ্ট। আর চার লেন রাস্তা মাত্র ২ দশমিক ৩১ কিলোমিটার। প্রকল্পটিতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৩২৯ কোটি টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাল ধরা হয়েছে ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর।

সূত্রঃ দৈনিক মানবকন্ঠ, ২০ নভেম্বর ২০১৬

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: