হুমায়ুন আহমেদ-এর গড়া নুহাশ পল্লী

nuhas-polli-1anuhas-polli-1b

আগের মতো নেই ‘নুহাশ পল্লী’ !

কিংবদন্তি লেখক হুমায়ূন আহমেদ তার পাঠকদের দৃষ্টিতে গল্পের বইয়ের স্বপ্নপুরীর সব বাস্তবরূপ দিয়ে গেছেন ‘নুহাশ পল্লীতে’। গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানাধীন ফিরোজ শাহ ইউনিয়নে অবস্থিত ‘নুহাশ পল্লী’ দেখলে তাই মনে হয়। কোটি বাঙালির মন জয় করা এই লেখকের জন্মদিন আজ রোববার। বাঙালি লেখকদের মধ্যে শুধু হুমায়ূন আহমেদই বইয়ের গল্পের রাজ্যের বাস্তবরূপ নুহাশ পল্লীর মাধ্যমে প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছেন। বিংশ শতাব্দীর বাঙালি জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ১৯ জুলাই ২০১২ সালে ভক্তকুলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান।

প্রিয় লেখকের দেহ ত্যাগের চার বছর অতিক্রম হয়েছে। তার স্বপ্নের সেই ‘নুহাশ পল্লী’ এখন কেমন আছে? লেখকের স্বপ্ন নুহাশ পল্লীতে কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে? এমন সব প্রশ্নের খোঁজে সরেজমিনে নুহাশ পল্লী ঘুরে দেখা যায়, শানবাঁধানো দিঘি লীলাবতী, ভুত বিলাস, রূপকথার মৎস্যকন্যা, রাক্ষস, পদ্মপুকুর দুর্লভ ওষুধী গাছের বাগান ভালো নেই।

নুহাশ পল্লীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে কথা হয় ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা সাইফুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে। হুমায়ূন আহমেদ নিজেই নুহাশ পল্লীর ম্যানেজারের দায়িত্ব তুলে দেন বুলবুলের হাতে। এখানে তিনি ১৪ বছর ধরে একই দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৯৫ সাল থেকে নুহাশ পল্লীর জন্য জমি কেনা শুরু হয়। ২০০৪০৫ সালের দিকে জমি কেনা শেষ হয়। এরপর শুরু হয় নুহাশ পল্লী নির্মাণ কাজ। ২০০৪ সাল থেকেই গাছ লাগানো হয়। তবে বর্তমান রূপ পায় ২০০৮০৯ সালের দিকে। ৪০ বিঘার জমির উপর এই গুণীজন গল্পের রাজ্যের চিত্র ফুটিয়ে তোলেন নুহাশ পল্লীতে।

নুহাশ পল্লী নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্ন কতখানি বাস্তবায়ন হয়েছে? জানতে চাইলে ম্যানেজার বুলবুল বলেন, স্যার মারা যাওয়ার সময় যে নুহাশ পল্লী ছিলো, এখনও সেই নুহাশ পল্লী রয়েছে। স্যার মারা যাওয়ার পরে অনেক লোক এসেছেন। প্রতিদিন পাঁচ হাজারের উপর। সেই সময় কিছু গাছপালা নষ্ট হয়েছে। মাঠের অবস্থা ধানের জমির মত হয়ে গেছিলো। এখন তা সব আগের মতো হয়ে গেছে।

স্যারের স্বপ্ন ছিলো গাছ লাগানো। বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো। তাই একটা গাছ নষ্ট হয়ে গেলে আমরা ১০টা গাছ লাগাই। স্যার মারা যাওয়ার পরে মানুষের ভীড়ে অনেক গাছ নষ্ট হয়। এরপর আমরা অনেক গাছ লাগিয়েছি। ২৫০ প্রজাতির গাছ রয়েছে নুহাশ পল্লীতে।’

নুহাশ পল্লী’ ঘুরে সরেজমিনের চিত্র এই প্রতিবেদক তুলে ধরলে ম্যানেজার বলেন, ‘নুহাশ পল্লীর ২৫ ভাগ গাছের নেইমপ্লেট আছে বাকিগুলোর নেই। স্যার মারা যাওয়ার পরে এক সময়ে ৫ হাজার বেশি লোক আসতো নুহাশ পল্লীতে। সেই সময় অনেক গাছের নেইমপ্লেট নষ্ট হয়ে যায়। এরপর আর লাগানো হয়নি। আমাদের পক্ষে গাছের নেইমপ্লেট লাগানো সম্ভব নয়। উদ্ভিদ বিজ্ঞানী আক্তারুজ্জামান তিনি অনেক গাছ দিয়েছেন। তিনি এসেই নেইমপ্লেট ঠিক করবেন। আগামী বছর এপ্রিল বা মে মাসের দিকে উনি আসবেন। এরপর ১৫ দিন সময় লাগবে গাছে নেইমপ্লেট লাগাতে।’

মৎস্য কন্যার পানির মধ্যে। এছাড়া বাগান, দিঘির ধারে গাছের ডাল পড়ে থাকার কথা জানানো হয় তাকে। তিনি বলেন, ‘মৎস্য কন্যার পানিতে মাছ রয়েছে তাই ডাল ফেলে রাখা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘স্যার যেভাবে চাইতো আমরা তা পারবো না। তিনি মাসে তিন থেকে চার দিন আসতেন। তিনি কোন সমস্যা দেখলে তাৎক্ষণিক সমাধান করা হত। সেটা এখন হয় না।’

স্যার আজকে পাঁচ বছর নেই। এই পাঁচ বছরে নুহাশ পল্লীতে নতুন কিছুই হয়নি। স্যার থাকলে অনেক পরিবর্তন হতো। তার চিন্তা কি ছিলো তা আমরা কেউ বলতে পারবো না।’

স্যার মারা যাওয়ার পর একটা জিনিস হওয়ার দরকার ছিলো, সেটা হলো যাদুঘর। টাকা না থাকায় সম্ভব হয়নি। তবে আগামী বছর যাদুঘরের কাজ শুরু হতে পারে। সেখানে স্যারের সব বই থাকবে। তার পড়ার টেবিল, ব্যবহারের জিনিসপত্র রাখা হবে।’

বর্তমানে নুহাশ পল্লীর মালিক হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সবাই। মা বাবার সামনে সন্তান মারা গেলে ওই সন্তানের সম্পত্তির অংশীদার তখন বাবা মা, ভাই বোন, স্ত্রী, সন্তান সবাই জানান বুলবুল।

নুহাশ পল্লীতে শুক্রবার প্রায় ৩০০ দর্শনার্থী প্রবেশ করেন। এছাড়া অন্যদিনে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন দর্শনার্থী আসেন কিংবদন্তি লেখক হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের গল্পের বাস্তবরূপ দেখতে। আর যারা আসেন তারা সবাই প্রবেশদারে ঘাসের বিছানো কার্পেট মাড়িয়ে সৌন্দর্য নষ্ট করে দেন।

রাস্তা রেখে ঘাসের ওপর হাটে দর্শনার্থীরা। আপনাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন বাধা নিষেধ আছে কি? জবাবে বুলবুল বলেন, ‘স্যার নিজেও হাঁটতেন। আর লোকজন চার পাশের গাছ দেখার জন্য হাটবেন এটাই স্বাভাবিক।’

স্যার যেভাবে নুহাশ পল্লীর দেখভাল করতেন, তিনি মারা যাওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ ওইভাবে দেখভাল করেনা। স্যার থাকালিন সময় আর বর্তমান নুহাশ পল্লী যতটুকু ভালো রয়েছে তা স্টাফদের কারণে। আমরা নিজেদের দায়িত্বের স্থান থেকে কাজ করি। এছাড়া শাওন আপা খোঁজ নেয়।’

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন দেয়ালে, ভাস্কর্যে দোলনায় রঙের কাজ চলছে। এ বিষয়ে ম্যানেজার বলেন, বর্ষাকাল মাত্র শেষ হয়েছে। তাই ঘরেবাইরে সব জাগায় রং করানো হচ্ছে। তবে এই রঙয়ের কাজ করানো হচ্ছে তা পরিবারের কেউ জানে না। আমরা নিজেরাই করাচ্ছি।

তিনি বলেন, ‘স্যার মারা যাওয়ার পরে নুহাশ পল্লীর যে অবস্থা হয়েছিলো। তার থেকে এখন অনেক ভালো আছে।’

উৎসঃ পরিবর্তন

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: