প্রথম পাতা > ইসলাম, জীবনযাপন, ধর্মীয়, বাংলাদেশ, রাজনীতি, সমাজ > সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশের রক্ষাকবচ

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশের রক্ষাকবচ

লক্ষ্যণীয় বিষয় যে, নাসির নগরে হিন্দুদের উপর আক্রমণ নিয়ে বাংলাদেশের ইসলামী নেতৃবর্গ এবং ইসলামী রাজনৈতিকঅরাজনৈতিক দলগুলোর বেশীর ভাগই মুখে কুলুপ এঁটে থেকেছে বা পত্রিকায় দায়সারা গোছের লোকদেখানো বিবৃতি দিয়ে “ঈমানী” দায়িত্ব পালন করেছে । একথা জামাতশিবির বা তাদের বিটিম হিসেবে কাজকরা হেফাজতে ইসলামের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য । আল্লামা শফীর হেফাজতে ইসলাম” তো আবার শুধু ইসলাম ধর্মের হেফাজতের আঞ্জাম দেবার জন্য তারা আবার অন্য ধর্মের হেফাজত করবেন কেনো ?!

communal-harmony-4একে মোহাম্মাদ আলী শিকদার : প্রথমে ৩০ অক্টোবর এবং দ্বিতীয়বার তিন নবেম্বর দিবাগত রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় কয়েকটি গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ও বাড়িঘরে উপর্যুপরি আগুন দেয়া এবং লুটপাট চালানো হয়েছে। তাতে ডজনের অধিক মন্দির এবং নিরপরাধ হিন্দু পরিবারের শতাধিক ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অসহায় মানুষের আর্তনাদে সমস্ত বাংলাদেশ কেঁপে উঠেছে। ঘটনার বৃত্তান্তে এটা পরিষ্কার যে, শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়ার জন্যই তাদের ওপর এমন বর্বরতা চালানো হয়েছে। এদের কেউ কোন অপরাধ করেনি। রসরাজ নামের একজন জেলে সম্প্রদায়ের যুবকের ফেসবুক এ্যাকাউন্টে একটি আপত্তিকর ছবি প্রকাশিত হওয়ার সূত্র ধরে এলাকার পুরো সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ চালানো কোন সভ্য দেশে চলতে পারে না। তারপর এটা এখন সবাই জানেন, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে রসরাজের এ্যাকাউন্টে এমন ছবি তার অজান্তেই অন্য কেউ ট্যাগ করে দিতে পারে। আগেই রসরাজকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। যদি তর্কের খাতিরে ধরে নিই রসরাজ নিজে এই কাজ করেছে, তার পরেও কি একজন রসরাজের অপরাধের জন্য পুরো হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ চালানো যায়? তাই যদি হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে একজন মুসলমান কেউ অপরাধ করলে পুরো মুসলমান সম্প্রদায়ের ওপর কি আক্রমণ চালানো হবে? ঘটনার বৃত্তান্ত মিডিয়ায় যেভাবে এসেছে তা সত্য হলে স্থানীয় প্রশাসনের চরম ব্যর্থতাই শুধু নয়, সূক্ষ্ম কোন বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তারা জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা দরকার।

জানা যায়, ইউএনও এবং থানার ওসি আক্রমণকারীদের পক্ষে আয়োজিত সমাবেশে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য দেন। এটা শোনার পর আমার মনে হয়েছে গায়ে চিমটি কেটে দেখি আমি কি হুঁশে আছি, নাকি অন্য কিছু। এটা তো দেখেছি পাকিস্তান আমলে। গত শতকের পঁচাত্তরের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে প্রলয় কান্ড ঘটে গেছে তাতে জামায়াতশিবিরসহ সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বড় পক্ষের প্রতি সহানুভূতিশীল কর্মকর্তারা আজও প্রশাসনের সর্বত্র অত্যন্ত দাপটের সঙ্গেই বিরাজমান রয়েছেন। যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের রায়ের সময় এ ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল সরকারের জন্য সতর্ক বাণী উচ্চারণ করেন। দেশের যে কোন প্রান্তে সামান্য একটা স্ফুলিঙ্গ কি রকম লঙ্কাকান্ড ঘটাতে পারে তার সাম্প্রতিক উদাহরণ আরব বসন্ত বা আরব উত্থান। তিউনিসিয়ার একজন সবজি বিক্রেতা সরকারের পুলিশের অত্যাচারে ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। তারই জের ধরে তিউনিসিয়া, মিসর, ইয়েমেন, লিবিয়াসহ সমগ্র আরব বিশ্বে যে ভয়ঙ্কর লঙ্কাকান্ড ঘটেছে তা এখন সারা বিশ্বের জন্য ঘুম হারাম করে দিয়েছে।

নাসিরনগরের ঘটনাও অবশ্যই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। কারণ, দেখা গেল নাসিরনগরের ঘটনার পর পরই প্রায় একই সঙ্গে নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, নেত্রকোনাসহ দেশের অন্যান্য জায়গাতেও মন্দিরের প্রতিমা ভাঙ্গা হয় এবং ঘরবাড়িতে আগুন দেয়ার চেষ্টা হয়। নাসিরনগরে রসরাজের ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি ট্যাগ করার খবর প্রকাশিত হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে আক্রমণের ঘটনা ঘটে। মাইকিং হয়, সমাবেশ হয়, দূর গ্রাম থেকে দলবেঁধে লোক আসে। সুতরাং যথেষ্ট সময় প্রশাসনের হাতে থাকার পরেও কেন তান্ডব ঠেকানো গেল না তার জন্য শুধু উপজেলাথানা পর্যায়ের নয়, জেলা ও তার উর্ধতন কর্তৃপক্ষকেও জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত এবং শুধু প্রত্যাহার নয়, ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা একান্ত প্রয়োজন।

প্রশাসনের মধ্যে ভাইবন্ধু করা মানেই হলো রাষ্ট্রযন্ত্র বিকল হয়ে যাওয়া। মনে রাখতে হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশের রক্ষাকবচ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সে যেই হোক না কেন, কাউকে কোন রকম ছাড় দেয়া যাবে না। বড় ক্ষতি হওয়ার আগে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করা প্রয়োজন। পাকিস্তান সময়ের কথা বাদ দিলাম। স্বাধীনতার পরেও অপ্রত্যাশিতভাবে হিন্দু জনসংখ্যার অনুপাত কমে গেছে। অনেকেই দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বলতে যা বোঝায় তা আর থাকবে না। ২০১২ সালে কক্সবাজারে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে একই রকম অভিযোগ ওঠে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এমনটা জানা যায়নি। প্রত্যাহার ও বদলি কোন শাস্তি নয়। এটা নিয়মিত ব্যাপার। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকা এবং উত্তেজনা সৃষ্টিতে সহায়তা করার অভিযোগে আওয়ামী লীগের তিনজন ইউনিয়ন সভাপতিকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় এমপি ও মন্ত্রী ছায়েদুল হকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের কথা শোনা যাচ্ছে।

nasir-nagar-attack-131116অভিযোগ সত্য হলে তা বাংলাদেশের জন্য অশনি সঙ্কেত। বুঝতে হবে আদর্শের দীক্ষা তাদের কাছে পৌঁছায়নি। বঙ্গবন্ধুকে তারা কেবল মুখে ধারণ করে, বুকে নয়। বঙ্গবন্ধুকে যারা বুকে ধারণ করে তারা এ কাজ করতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রকৃতপক্ষেই বঙ্গবন্ধুর আকাঙ্ক্ষা অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র রাষ্ট্রের সর্বত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য অবিরাম সংগ্রাম করছেন এবং অনেকটা সফলও হয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষও মনে করে মুক্তিযুদ্ধের মূল দর্শন অর্থাৎ অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ফিরিয়ে আনার একমাত্র অবলম্বন আওয়ামী লীগ ও এর নেত্রী শেখ হাসিনা। অন্য কোন বিকল্প নেই। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের তো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য দল বেঁধে বুক চিতিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা। সেখানে তারা যদি জামায়াত এবং তার সঙ্গে মুসলিম লীগের প্রতিকৃতি বিএনপির মতো সাম্প্রদায়িক শক্তি ও চক্রান্তকারীদের পাতা ফাঁদে পা দেয় তাহলে সেটা তো সর্বনাশের কথা। শেখ হাসিনাকে যারা ক্ষমতায় দেখতে চায় না, তারা সকলে সম্মিলিতভাবে বহুমুখী তৎপরতার সঙ্গে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে কৌশলী ভূমিকায় নেমেছে যাতে ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সম্পর্ক নষ্ট হয়, দূরত্বের সৃষ্টি হয়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামা বাধিয়ে হিন্দুদের দেশত্যাগে বাধ্য করা গেলে চক্রান্তকারীদের লক্ষ্য অর্জন অনেক সহজ হয়ে যায়। নাসিরনগরের ঘটনার পর সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রবর্তক, সমর্থক ও ধারকবাহকদের ক্রোকোডাইলস টিয়ারস বা কুমিরের কান্না দেখে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন। এরা তো তারাই, যারা পঁচাত্তরের পর রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে হিন্দুশূন্য করে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো ইসলামিক রাষ্ট্র ঘোষণার জন্য।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সকালে খুনীদের মধ্যে অন্যতম মেজর ডালিম বাংলাদেশ বেতার থেকে বাংলাদেশকে ইসলামিক রিপাবলিক অব বাংলাদেশ হিসেবে ঘোষণা দেয় (বাংলাদেশ, অ্যা লেগেসি অব ব্লাড, এ্যান্থনী মাসকারেনহ্যাস, পৃ.-৭৭)। সুতরাং ১৫ আগস্টের মূল ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশকে যে আরেকটি পাকিস্তান স্টাইলের রাষ্ট্র বানাতে চেয়েছিল তা কিন্তু খুনীরা একেবারে প্রথমেই ঘোষণা দিয়ে দেয়। আরেকজন বাঙালী, নাম মাহমুদ আলী, বাড়ি সুনামগঞ্জ। তিনি একাত্তর সালে পাকিস্তান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির কার্যকরী সদস্য ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে ইউরোপ আমেরিকা সফর করেন। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরের আগেই পাকিস্তানে পালিয়ে যান। এহেন মাহমুদ আলী পাকিস্তানের তখনকার প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর দূত হিসেবে ১৫ আগস্টের পর পরই বিশেষ মিশন নিয়ে লন্ডনে হাজির হন এবং বাংলাদেশের খুনী ও সদ্য ক্ষমতায় আসা সামরিকবেসামরিক অধিকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। মাসকারেনহ্যাসের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে মাহমুদ আলী বলেন, ‘I want reunification of Pakistan. This Bangladesh thing must be finished with.’ (প্রাগুপ্তপৃ.-৮৬)

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে ৭ নবেম্বরের ঘটনার প্রধান সুবিধাভোগী হিসেবে জেনারেল জিয়াউর রহমান এক সময়ে রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হন। সেই ক্ষমতা বলে রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি ধর্মনিরপেক্ষতাসহ মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত সবকিছু তিনি বাহাত্তরের সংবিধান থেকে বাতিল করে দেন। নিশ্চিত করেন যাতে আগত প্রজন্ম জানতে না পারে একাত্তরের পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাংলাদেশে গণহত্যাসহ ভয়ঙ্কর ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, একাত্তরে পরাজিত ও নিষিদ্ধ জামায়াত মুসলিম লীগসহ সব ধর্মীয় রাজনৈতিক শক্তিকে পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন, পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার আন্দোলন বাতিল না করা সত্ত্বেও গোলাম আযমকে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেন এবং এই মেজর ডালিম, যে ১৫ আগস্টের সকালে বাংলাদেশকে ইসলামী রাষ্ট্র ঘোষণা দেন তাকেসহ বঙ্গবন্ধুর সব খুনীকে দায়মুক্তি প্রদানসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি দেন। জিয়াউর রহমানের এসব কর্মের উদ্দেশ্য কি ছিল? কোন জনমত ছাড়া, নির্বাচন ব্যতিরেকে, পার্লামেন্ট ব্যতীত শুধু সামরিক আদেশ ও একক ক্ষমতা বলে তিনি এসব কর্ম কেন করলেন? তিনি তো কোন জননেতা ছিলেন না।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে বিএনপির প্রবল বিরুদ্ধাচরণ, বিচার সম্পর্কে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় অবস্থান, ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে জামায়াতবিএনপির ক্যাডার বাহিনী কর্তৃক হিন্দু নিধন অভিযান, ২০১৩, ’১৪ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন ও জ্বালাও পোড়াও এবং জিয়াউর রহমানের উপরোক্ত অবৈধ কর্মকান্ড কি একই সূত্রে গাঁথা নয়? শুধু সময় এবং কর্মের ধরন ও কৌশলের মধ্যে পার্থক্য ছাড়া এগুলোর লক্ষ্যউদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। ২০০১ সালের নির্বাচনের অব্যবহিত পর জামায়াতবিএনপির ক্যাডার বাহিনীর পক্ষ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যে নির্যাতন নেমে আসে তা বর্ণনাতীত। ২০০৩ সালের ২৩ নবেম্বর বিশ্বখ্যাত দ্য ইকোনমিস্ট পত্রিকার হেডলাইন ছিল– ‘Bangladesh religious minorities; safe only in departure lounge.’। সুতরাং ২০১৬ সালে এসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে যা ঘটেছে তা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ১৯৭৫ সালের পর জামায়াতসহ যেসব সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উত্থান ঘটেছে তারা এখনও পূর্বের অবস্থানে অটুট আছেন। তাদের নীতি, আদর্শ এবং দৃষ্টিভঙ্গির কোন পরিবর্তন হয়নি। তাই সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রতিহত করতে না পারলে ২৩ বছরের সংগ্রাম এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি তা এক সময়ে আর থাকবে না।

লেখক : ভূরাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক

সূত্রঃ দৈনিক জনকন্ঠ, ১৩ নভেম্বর ২০১৬

বাংলাদেশ ভাষারাষ্ট্র ধর্মরাষ্ট্র নয়

co-existence-artমোস্তাফা জব্বার : বাংলাদেশ কেমন রাষ্ট্র? এর জাতিসত্তা কি? কিসের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে এই রাষ্ট্রের জাতীয়তা? আমরা কি রাগ করে দুই ভাই আলাদা হওয়ার জন্য পাকিস্তান ভাংলাম? মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ কি ছিল? স্বাধীনতার এত বছর পর এসব প্রশ্ন ওঠারই কথা নয়। এসব প্রশ্নের জবাব আমাদের জানা থাকার কথা। কিন্তু আমরা কি জানি? আমাদের আচরণ কি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় যে, আমরা একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র নই। সংবিধানে এরশাদের প্রবর্তন করা রাষ্ট্রধর্ম বহাল থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রটির সংবিধানের মূলনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানলে এটি জানার কথা যে, বাংলাদেশ একটি ভাষাভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক, শোষণহীন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। দেশের তাবত নাগরিককুলের জানার কথা, এই রাষ্ট্রের ভিত্তিটা ধর্ম নয়। বরং মনে রাখা দরকার যে পাকিস্তান নামক একটি ধর্মরাষ্ট্রকে লাথি মেরে ভেঙ্গে আমরা বাংলা ভাষাভিত্তিক বিশ্বের প্রথম ও একমাত্র স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন করেছি। আমাদের যদি একটি ধর্মরাষ্ট্রের প্রয়োজন থাকত তবে আমরা পূর্ব পাকিস্তানের মুসলমানরা পাকিস্তানেই খুশি থাকতাম। অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুর বসবাস করার কোন যৌক্তিক কারণ ছিল না। মুসলমানের পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুর থাকার কি অধিকার ছিল? আমরা একাত্তরে এটি লক্ষ্য করেছি যে বাঙালীরা হিন্দু হিসেবে নির্যাতিত হয়েছে। এর বহু আগেই পাকিস্তানীরা যখন বাঙালীর ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ওপর নগ্নভাবে হামলা করে, আমাদের মুখের ভাষা উর্দু করতে চায় ও নিজেদের হাজার বছরের সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে চায়, তখন আমরা আমাদের ভাষাসংস্কৃতিভিত্তিক বাঙালী জাতীয়তা গড়ে তুলেছি। আমরা বাঙালীরা হিন্দুমুসলমান দ্বিজাতিতত্ত্ব না মেনে এই অঞ্চলের প্রথম ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন দেখি। শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ মানুষের এই দেশে ধর্মরাষ্ট্র থেকে বের হয়ে এসে ভাষাভিত্তিক একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলার লড়াইটা দুঃসাহসী পদক্ষেপ ছিল। কিন্তু আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তান আমলেই আওয়ামী মুসলিম লীগকে শুধু আওয়ামী লীগ করেছি। এরপর বাঙালীর ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। সেই লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে আমরা সশস্ত্র যুদ্ধ করে জিতে বাঙালীদের রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের সংবিধান বলছে বাংলাদেশ একটি জাতীয়তাবাদী, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। এর জন্মকালীন নীতিমালায় সমাজতন্ত্রও ছিল। ৭২ সালের সংবিধান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেশের সকল নাগরিককে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং কে হিন্দু, কে মুসলমান বা কে বৌদ্ধখ্রীস্টান তার কোন বাছবিচার করেনি। কিন্তু পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করার পর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের চাকাকে পাকিস্তানের দিকে ঘুরিয়ে দেন এবং এরশাদ কফিনের শেষ পেরেক হিসেবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংবিধানে যুক্ত করেন। এর প্রথম ব্যতিক্রম হয় ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা যখন তাঁর প্রথম সরকার গঠন করেন। তিনি পাকিস্তানমুখী চাকাটিকে বাংলাদেশের দিকে ঘুরিয়ে দেন। কিন্তু ২০০১ সালে সেই চাকাকে আবার উল্টে ফেলা হয়। তবে ২০০৮এর নির্বাচনের পর বাংলাদেশ তার জন্মকালীন পরিচয়ে ফিরে যেতে শুরু করে। এরপর থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ফাঁসি পাকিস্তানপন্থীদের অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলে। সেজন্য জামায়াতের ইচ্ছায় বিএনপিসহ পাকিস্তানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতাকে নানাভাবে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন করার জন্য ব্যবহার করতে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজ বাড়তেই থাকে। সুখের বিষয় হচ্ছে বছরের পর বছর পরিচালিত সেই সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই দেশের মানুষ মোকাবেলা করে আসছে। মাঝে মধ্যে হলি আর্টিজানের মতো হামলা হলেও মোটামুটি এক ধরনের স্থিতিশীলতার মাঝে আমরা বসবাস করছিলাম। চারপাশে জীবনের চিত্র স্বাভাবিকই ছিল। বিদেশী ক্রিকেট টিম পর্যন্ত বাংলাদেশে খেলে গিয়ে প্রমাণ করেছে যে আমরা অশান্তিতে নেই। এমন একটি স্থিতিশীল অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদরে শত শত হিন্দুর বাড়িঘর লুটপাট হয়, হামলা হয়, অগ্নিসংযোগ হয় এবং মন্দিরও ভাঙ্গা হয়। এর কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও ঘটে। দেশের নানা স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে আগুন দেয়ার চেষ্টা বা মূর্তি ভাঙ্গার চেষ্টাও হয়। সেই সব ঘটনা বিশাল আকৃতি ধারণ করতে না পারলেও আমরা নাসিরনগরের ঘটনাটিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে পারি না। আমাদের জন্য এই ঘটনাটি নানাভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, এই ঘটনাটি ঘটেছে একটি ডিজিটাল প্রযুক্তিকে ঘিরে। নাসিরনগরের রসরাজ নামক এক জেলে কাবা শরীফের ছবির ওপর শিবের মূর্তি বসিয়ে একটি ছবি বানিয়ে তার ফেসবুক পেজে পোস্ট দেয়ার অভিযোগ ওঠে। নাসিরনগরের ফারুক নামক এক লোক সেটিকে সাধারণ মানুষের কাছে প্রচার করে এবং পুলিশ তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করে। আমি বিস্মিত হয়েছি এটি দেখে যে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে কোন ধরনের যাচাইবাছাই না করে রসরাজকে গ্রেফতার করে এবং তাকে রিমান্ডেও নেয়া হয় কেন? আমি ছবিটি দেখেছি। ছবিটি এতই নিখুঁতভাবে তৈরি করা যে পঞ্চম শ্রেণী পাস করা কোন জেলের পক্ষে ফটোশপে সেটি তৈরি করা অসম্ভব, পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করা একজন যুবকের ফেসবুক পেজ খোলা, ব্যবহার করা ও তাতে সাম্প্রদায়িক চিত্র আপলোড করার বিষয়টি আগে খতিয়ে দেখে পরে তাকে গ্রেফতার করা যেত। সেসব বিষয়গুলো তলিয়ে না দেখে রসরাজকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে বস্তুত প্রাথমিকভাবে সাম্প্রদায়িকতাকেই উস্কে দেয়া হয়। আমরা আরও লক্ষ্য করলাম যে প্রশাসন এরপর একটি উগ্রবাদী একটি সাম্প্রদায়িক দলকে রসরাজের ঘটনার বিরুদ্ধে সমাবেশ করতে দেয় এবং সেই সভাতে সরকারী দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ প্রশাসনের লোকেরাও যোগ দেয়। আরও অবাক করার বিষয় ছিল যে, প্রশাসনের নাকের ডগায় সেই সমাবেশের লোকজন মিছিল করে নাসিরনগরের শত শত বাড়ি ভাঙ্গে, আগুন লাগায়, লুটপাট করে, মারধর করে এবং আমরা একাত্তরে যে ধরনের নৃশংসতা দেখেছি তার মতোই ভয়াবহতম ঘটনা ঘটে।

আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার দ্বিতীয় ঘটনাটি হচ্ছে সরকারী দলের রাজনীতিকদের সম্পৃক্ততা। দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্রের জন্মদাতা আওয়ামী লীগের স্থানীয় কিছু নেতা এমন একটি সাম্প্রদায়িক কাজে লিপ্ত হয়েছে। এর ফলে সরকারী দলটির মাঝে পাকিস্তানপন্থীদের ঘাপটি মেরে বসে থাকার বিষয়টি আশঙ্কায় পরিণত হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই ঘটনায় শাসক দলের স্থানীয় সাংসদ পুরো বিষয়টিকে গুরুত্বহীনভাবে নিয়েছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শম্বুকের গতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটির গুরুত্ব যথাযথভাবে যথাসময়ে অনুধাবন করা হয়নি এবং এর কুফল হিসেবে দেশজুড়ে আরও কিছু ঘটনা ঘটতে পারে সেটিও ভাবা হয়নি।

আমাদের তৃতীয় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে। আমাদের স্মরণে থাকা দরকার যে, এর আগে রামুতে ফেসবুক নিয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। বগুড়ায় সাঈদীকে চাঁদে দেখার ঘটনাও ফেসবুকেরই প্রভাব। এছাড়াও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে ফেসবুক ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে অপপ্রচার চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে বিরাজ করছে।

নাসিরনগরের ঘটনায় কতটা অপ্রিয় সত্য দেশবাসীর সামনে উঠে এসেছে। ক. বাংলাদেশের সকল মানুষ দেশটির অস্তিত্বের আদর্শ বা অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে না। ’৭০এর নির্বাচনে এবং তার পরের বছরগুলোতে বাংলাদেশে পাকিস্তানী ধর্মরাষ্ট্রের আদর্শকে লালন করে। রামু ও নাসিরনগরের ঘটনায় উদ্বেগজনকভাবে আওয়ামী লীগের নেতাদের সাম্প্রদায়িকতায় লিপ্ত হতে দেখা গেছে। এতে বোঝা যায় যে আওয়ামী লীগের এই নেতারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস না করেই আওয়ামী লীগার হয়েছে। তারা পাকিস্তানপন্থী অনুপ্রবেশকারীও হতে পারে। শাসক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে তার সকল নেতাকর্মীকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে স্থিরভাবে অনুপ্রাণিত করা। পাকিস্তানের আদর্শ মগজে রেখে আর যাই হোক আওয়ামী লীগ করা যাবে না।

পাকিস্তানের আদর্শ দেশের প্রশাসনেও রয়েছে বলে নাসিরনগরের ঘটনায় ওসি এবং ইউএনও নিজেরাও সাম্প্রদায়িকতায় যুক্ত হয়ে গেছেন যা আমাদের সংবিধানের লঙ্ঘন ও সরকারী চাকুরের জন্য দন্ডনীয় অপরাধ। আমার কাছে মনে হয়েছে স্থানীয় সাংসদ একটি নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করার বদলে সাম্প্রদায়িকতার দায়ে নিজেই অভিযুক্ত হয়ে পড়েছেন। ঘটনাটি এমন হতে পারে যে, স্থানীয় সাংসদ যথাযথ ভূমিকা পালন না করায় আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসন ভুল পথে পা দিয়েছেন। এখানে ভোটের রাজনীতি বা স্থানীয় দলীয় কোন্দল যুক্ত থাকতে পারে। অন্যদিকে ঘটনাটি এমন হতে পারে যে কোন একটি গোষ্ঠীর দুর্বলতার সুযোগ নেয়া হয়েছে।

তবে ঘটনা যাই হোক না কেন নাসিরনগরের ঘটনায় আমাদের জাতীয় ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। এর আগে রামুবগুড়ার ঘটনার পাশাপাশি দিনাজপুরের সাঁওতালদের ওপর গুলিবর্ষণও পুরো জাতিকে ভুল সঙ্কেত দিচ্ছে। সেখানেও স্থানীয় সাংসদ ও প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আওয়ামী লীগ বরাবরই জনগণের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। কিন্তু দিনাজপুরে সেই দলের সাংসদ গুলিবর্ষণের পরও জনগণের পক্ষে দাঁড়াতে পারেননি।

আমরা শঙ্কিত হচ্ছি ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে। ফেসবুক ব্যবহার করে যেমনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসাংসদসহ কিছু মানুষকে বিভ্রান্ত করা গেছে, তেমনি প্রশাসনকেও বিভ্রান্ত করা গেছে। অন্যদিকে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রমাণ করেছে যে, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেসব অপরাধ করা হচ্ছে সেটি মোকাবেলা করার ক্ষমতা তাদের নেই। বরং রসরাজের দৃষ্টান্ত বা উত্তম বড়ুয়ার দৃষ্টান্ত প্রমাণ করেছে যে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এই বিষয়ে ন্যূনতম যোগ্যতাও রাখে না।

আমাদের এই কথাটি মনে রাখা দরকার যে সাধারণ মানুষ যাদের সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তির সম্পর্ক নেই, তাদের এই প্রযুক্তির অন্তর্গত বিষয়াদি এখনও বোঝানো যায় না। ওরা আমাজনের জঙ্গলে বাস করার মতো চাঁদে সাঈদীর ছবিকে বিশ্বাস করে। তারা রসরাজকে বা উত্তম কুমারকে অপরাধী মনে করেছে। তারা কোনভাবেই প্রকৃত অবস্থা বিবেচনা করেনি। আমরা যারা দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের পক্ষে কাজ করি তাদের জন্য এটিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখতে হবে। আমরা যদি এই অবস্থার পরিবর্তন না করতে পারি তবে রামুনাসিরনগরের পুনরাবৃত্তি হতেই থাকবে এবং আমাদের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা বিঘ্নিত হবে।

তবে সবার ওপরে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির। এই রাষ্ট্রের জন্মের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭২ সালের সংবিধান যদি এভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকে, তবে আমাদের জাতিসত্তায় বড় ধরনের আঁচড় পড়তে বাধ্য। যদিও পাকিস্তানপন্থীদের সংখ্যা তত বেশি নয় এবং আমাদের সঙ্গে তারা কখনও জয়ী হতেই পারেনি। তবুও আমাদের জন্য একটি বড় কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের সব নাগরিকের কাছে আমাদের রাষ্ট্রের জন্মকাহিনী তুলে ধরা। আমরা যে পাকিস্তান, আফগানিস্তান নই এবং একটি আধুনিক ধারণার রাষ্ট্র সেটি বোঝাতে না পারলে আমরা দেশটিকে ডিজিটাল যুগের শ্রেষ্ঠ আসনে স্থাপন করতে পারব না।

আসুন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতায় আমরা আমাদের ডিজিটাল যুদ্ধটাতে ঝাঁপিয়ে পড়ি।

সূত্রঃ দৈনিক জনকন্ঠ, ১৩ নভেম্বর ২০১৬

nasir-nagar-attack-letter

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: