প্রথম পাতা > অপরাধ, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক, রাজনীতি, সমাজ > যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন, শেখার কিছু আছে কি!

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন, শেখার কিছু আছে কি!

cr-trump-wins-against-hillaryঅনেক বড় গণতন্ত্রের দেশ যুক্তরাষ্ট্র। সেই দেশে নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর পরাজিত প্রার্থী নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানাতে কার্পণ্য বোধ করেননি। ইতিমধ্যে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে দেড়ঘন্টার বৈঠক করেছেন। এসব রাজনৈতিক সংস্কৃতি আমাদের দেশে আশা করা যায় কেবল। বাস্তবে তা সম্ভব নয়, কারো দরজা অন্য কারো জন্যে খুলতে পছন্দ করেন না আমাদের রাজনীতিকরা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক রীতি নীতি অনুযায়ী ভোটাররা ভোট দেয়ার সকল সুবিধা কাজে লাগানোর পর নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে শুধু অস্বীকার করছেন না, তাকে হত্যা, দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়ে রাজপথে নেমেছেন। এ থেকে আদতে শেখার কি কিছু আছে?

এমনিতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে তাবৎ বিশ্বের যত মাথাব্যথা ততটা দেশটির অনেক ভোটারেরও নেই। অনেক ভোটার নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলায় ভোটকেন্দ্রে যেতে চান না। এবারও অনেক ভোটার খোলাখুলি মিডিয়াকে বলেছেন, দুজন প্রার্থীর কাউকে পছন্দ না হওয়ায় তারা ভোট দিতে যাবেন না। আমাদের দেশে একবার ‘না’ ভোট চালু হবার তা বাতিল হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে তেমন কোনো সুযোগ নেই।

অর্থনৈতিক দুরাবস্থা, লিঙ্গ বৈষম্য, মধ্যাপ্রাচ্যে মার্কিন নীতি, সার্বিক পররাষ্ট্রনীতি এবারের মার্কিন নির্বাচনের আগে তেমনভাবে আলোচনায় স্থান পায়নি। নতুন মার্কিন সরকার সাবেক ডেমোক্রেট সরকারের মত ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, সোমালিয়া, আফগানিস্তানের মত আর কোন মুসলিম দেশে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান শুরু করবে বা তালেবান, আইএস জঙ্গিদের ধারাবাহিকতায় সন্ত্রাসের নতুন কোনো প্রডাক্ট আসবে কি না তেমন কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি। যদিও ইয়েমেনে সৌদি আরব সরকার সামরিক আগ্রাসন চালানোর পর দেশটিতে দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি হয়েছে।

বরং মার্কিন নির্বাচনে এবার হিলারির ইমেইল কেলেঙ্কারী, ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে অর্থায়ন, ট্রাম্পের যৌনতার মত বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বারাক ওবামার চেয়ে ভালো বলেছেন। মিডিয়ার বিশাল বিশাল জরিপ এ নির্বাচনের ফলাফল অনুসরণ করেনি। এই নির্বাচনী ডামাডোলে ১৩ বছরের এক শিশুকে পুলিশ গুলি করে মেরে ফেললেও তা কোনো ইস্যু তৈরি করতে পারেনি। যুদ্ধ ফেরত মার্কিন সৈন্যদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা ও তীব্র মানসিক অবসাদ যে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাও নির্বাচনে কোনো আবেদন রাখেনি। এসব যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে কিন্তু মার্কিন রাজনীতি তো দূরের কথা দেশটির মিডিয়ার এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। যদিও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক যুদ্ধের ব্যয় পৌঁছেছে ৪ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার।

cars-vandalised-oregonতবে এবারের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজে যে দ্বিধাবিভক্তি রয়েছে তা নগ্ন হয়েই প্রকাশ পেয়েছে। মার্কিন নাগরিকরা এবার নিজেদের পতাকা নিজেরাই পোড়াচ্ছেন। এতদিন মার্কিনীদের গণতন্ত্রপ্রীতি আমাদের সুশীল সমাজ যেভাবে বর্ণনা করতেন, অনুসরণীয় বলে সবক দিতেন তারা এবার কি বলবেন? মার্কিনীরা সবসময় বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণের ব্যাপারে সরব থাকেন। এখন তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভক্তি এবং নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের প্রতি অনাস্থার বিষয়ে কি সবক দেবেন?

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘গ্রেট এগেইন’ হিসেবে গড়ে তুলবেন ট্রাম্প। এতদিন পুরোবিশ্বকে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় সাজাতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের গণতন্ত্র নিয়ে মার্কিনীরা কখনো কথাই বলেন না। এবার নির্বাচনের পর আন্দোলন শুরু হয়েছে ট্রাম্পকে সরানোর। তাহলে কি ট্রাম্প তার ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করছেন না। তারা তার পক্ষে রাস্তায় নামছেন না কেন? যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও অর্থনীতি কি তাহলে যুদ্ধবাজ কোনো তৃতীয় দেশের নিয়ন্ত্রণে? যুক্তরাষ্ট্রকে ‘গ্রেট এগেইন’ করে তুলতে ট্রাম্প শ্রেণীযুদ্ধ, উগ্র জাতীয়তাবাদ, সামরিকবাদ এবং পুলিশি রাষ্ট্রের নেতৃত্বে থেকে কতটা কি করতে পারবেন এজন্যে আমাদের আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজপথে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তা দমনে পুলিশি কুকুরের হানা, মরিচ স্পে, টেসার বুলেট নিক্ষেপ, গুলিবর্ষণ এখনো এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করছে পুলিশ। দেশটির ২৬টি রাজ্যে আফ্রোআমেরিকান শ্রমিকদের ওপর নির্বিচারে এসব অস্ত্র ব্যবহার করে এসেছে পুলিশ। ফ্লোরিডায় ১০ লাখের বেশি লোকের ভোটাধিকার নেই। বঞ্চিতদের বেশির ভাগই আফ্রিকান আমেরিকান। সীমান্তবর্তী রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ার মানুষ স্বাধীনতা চাচেছ। তাই পপুলার ভোটের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভরসা ইলেকটোরাল কলেজের ভোটেই বেশি। জনগণের ইচ্ছা যুক্তরাষ্ট্রে কিভাবে প“লিত হচ্ছে তা থেকে কি শেখার আছে? এর বাইরে নির্বাচনের পর পরাজিত ও বিজয়ী প্রার্থীলা যতই নিজেদের মধ্যে সমীহ করে কথা বলুক না কেন তাতে জনগণের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়ে তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে তাতে ঢের সন্দেহ রয়েছে।

এরই মধ্যে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বারাক ওবামার স্বাস্থ্য সংস্কারের আংশিক মেনে চলবেন। নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, ওবামার ওই স্বাস্থ্য নীতি যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কোম্পানির স্বার্থ বিনষ্ট করছে। এখন ওবামার স্বাস্থ্য নীতি পরিবর্তন করতে চাইলে ট্রাম্পকে তার দলের কাছেও জবাবদিহী করতে হবে। ওবামা বলেছিলেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে তার দীর্ঘ শাসনামলের অনেক অর্জন বেহাত হয়ে যাবে। আমেরিকার নীতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে তারপরও তারা দুজনে বসে দেড়ঘন্টার বৈঠক করেছেন। বলেননি, কিসের সংলাপ?

সূত্রঃ দৈনিক আমাদের সময়

anti-trump-protesters

learn-to-accept-result

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: