প্রথম পাতা > আন্তর্জাতিক, রাজনীতি, সমাজ > ট্রাম্পের লম্ফ-জম্ফঃ যতো গর্জে ততো বর্ষে না !

ট্রাম্পের লম্ফ-জম্ফঃ যতো গর্জে ততো বর্ষে না !

নভেম্বর 12, 2016 মন্তব্য দিন Go to comments

truth-the-new-hate-speechপৃথিবীতে আসলে কি ঘটছে বা কিভাবে বিভিন্ন বিষয় ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করতে হবে সেটা করতে ধাপ্পাবাজ মেইন ষ্ট্রীম মিডিয়ার (MSM যেমন, ফক্স নিউজ, রয়টার্স, এপি, বিবিসি, এএফপি ইত্যাদি) বলয় থেকে বেরিয়ে এসে অল্টারনেইটিভ মিডিয়া(যেমন, globalresearch.ca, informationclearinghouse.info, antiwar.com, americanfreepress.net ইত্যাদি) মনোনিবেশ করতে হবে ।

ক্ষমতায় বসার আগেই ট্রাম্প হাড়ে হাড়ে টের পেতে শুরু করেছেন যে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অনেক কিছুই বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় তার ব্যক্তিগত অভিরুচি ও অভিলাষ যাই হোক না কেনো ! ট্রাম্পকে সাইনবোর্ড (অর্থাৎ ক্রীড়ানক) হিসেবে ব্যবহার করে আমেরিকার নিওকন রাজনীতিবিদরা, সিআইএ, বহুজাতিক কোম্পানীগুলো, রথসচাইল্ড ব্যাংকিং ব্যবস্থাধীন ফেডারেল রিজার্ভ এবং ওয়ালষ্ট্রীট ও অস্ত্রনির্মাতারা (সংক্ষেপে, মিলিটারী ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টেলিজেন্স কমপ্লেক্স) তাদের স্বার্থ হাসিল করে যাবে প্রেসিডেন্ট আইসেনআওয়ার যেটা ভালোভাবে উপলদ্ধি করেছিলেন । রেগানের সাবেক অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড পল ক্রেইগ রবার্টসএর দুটো সাম্প্রতিক লেখা পড়ুন বিষয়গুলো বুঝতেঃ

The Working Class Won the Election? What Kind of Trump Administration? By Dr. Paul Craig Roberts, November 10, 2016

http://www.globalresearch.ca/the-working-class-won-the-election-what-kind-of-trump-administration/5556135

The Anti-Trump Protesters Are Tools of the Oligarchy. Their Objective: Delegitimize Donald, Install “Madam President” By Dr. Paul Craig Roberts, November 11, 2016

http://www.globalresearch.ca/the-anti-trump-protesters-are-tools-of-the-oligarchy-their-objective-delegitimize-donald-install-madam-president/5556434

us-media-control

ট্রাম্প যাদের মন্ত্রী পদে নিয়োগ দেবার জল্পনাকল্পনা করতে শুরু করেছেন এতে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, তাঁর দ্বারা রাতারাতি তেমন কোনো পরিবর্তন আশা করা বৃথা তাঁর ইচ্ছা থাকলেও ঐ কমপ্লেক্স সেটা করতে দেবে না । তাছাড়া, পশ্চিমা মিডিয়া তার বৈরী অবস্থানে আছে । রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাংদেহী অ্যাংলোজার্মান প্রভাবিত ইইউ এবং ন্যাটো ট্রাম্পের সামরিক ব্যয় কৃচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ পরিকল্পনায় ভীত হয়ে পড়েছে এবং তাদের সেবাদাস মিডিয়া দিয়ে ইতোমধ্যে জোরেশোরে প্রপাগান্ডা শুরু করে দিয়েছে । রাশিয়ার সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকা মানে আমেরিকার অস্ত্র ব্যবসায়ীদের লাল বাতি জ্বলে যাওয়া (ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে অস্ত্র রফতানিতে ভাটা পড়ার কারণে) । সুতরাং ট্রাম্পের ঐ ধরণের সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে দেয়া হবে না ইউক্রেনের সমস্যা জিইয়ে রাখা হবে কারণ ইউক্রেনে সামরিক অভ্যুত্থানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে ১৯৯১ সাল থেকে সিআইএ ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছিলো এনজিওদের মাধ্যমে গণতন্ত্রায়নের নামে ।

দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধ থেকে আমেরিকা সরে এলে কোরিয়া, জাপান, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ায় অস্ত্র বিক্রীতে ভাটা পড়বে যা আমেরিকার অর্থনীতির জন্য শুভ সংবাদ বয়ে আনবে না । মধ্যপ্রাচ্য (বিশেষত সিরিয়া ও ইয়েমেন) অশান্ত করে না রাখতে পারলে আরব শেখদের কাছে অস্ত্র বিক্রীতে সুবিধা করা যাবে না । হিলারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে সিরিয়া নিয়ে রাশিয়ার সাথে পরমাণু যুদ্ধে জড়িয়ে যাবার সমূহ সম্ভাবনা ছিলো বলে পর্যবেক্ষক মহল দাবী করেছিলেন । সিরিয়া সংকটের ব্যাপারে ট্রাম্প রাশিয়ার সাথে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ভোটাভুটির আগে । কিন্তু ঐ মহলটি তার পরিকল্পনায় বাদ সাধবে মনে হচ্ছে । ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির পক্ষে ! গ্রীন পার্টির প্রেসিডেন্ট ড জিল ষ্টাইন কি বলেছিলেন দেখুনঃ ‘US foreign policy is a marketing strategy for selling weapon’ – Jill Stein

war-good-businessglobal-warfare

ডোনাল্ড ট্রাম্প তো নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই জানান দিয়ে এসেছেন যে মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। যারা বৈধ বা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন তাদের সকলকেও বহিষ্কার করবে তার সরকার। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। প্রশ্নসাপেক্ষ কারণে সৌদি আরবের ব্যাপারে তাকে অবশ্য অন্য রকম মনে হয়েছে। কারণ, মুসলিম বিরোধী প্রচারণায় সোচ্চার হলেও একই ট্রাম্প আবার বলেছিলেন, সৌদি আরবের হাতে পারমাণবিক সমরাস্ত্র তুলে দেবেন তিনি। এ ছিল এক বিস্ময়কর ঘোষণা। কারণ, সৌদি আরবকে মুসলিম বিশ্বের নেতা বা প্রধান রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেজন্য একদিকে মুসলিম বিরোধী প্রচারণা এবং অন্যদিকে সৌদি আরবের হাতে পারমাণবিক সমরাস্ত্র তুলে দেয়ার ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে আলোড়ন উঠেছিল। অনেকে ‘ব্যবসায়ী’ ট্রাম্পকে প্রাধান্যে আনলেও সাধারণভাবে বলা হয়েছিল, মূলত টাকার প্রয়োজনে সৌদি আরবকে খুশি করতে চেয়েছেন ট্রাম্প। এই ব্যাখ্যার সুফলও অবশ্য ট্রাম্পের পক্ষে যায়নি। কারণ, কথায় বলে, গাছের শিকড় কেটে ফেলে ওপরে পানি ঢেলে কোনো লাভ হয় না। একই কারণে মুসলিম বিরোধী ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবের হাতে পারমাণবিক সমরাস্ত্র তুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে লাভবান হতে পারবেন না ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হতে না হতেই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প অবশ্য নাটকীয় পরিবর্তন ঘটিয়ে ফেলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে ট্রাম্প বলেছেন, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড বন্ধ করার লক্ষ্যে এটা ছিল তার একটি পরামর্শ, কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়। অর্থাৎ মুসলিমরা আগের মতোই যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত ও বসবাস করতে পারবেন। কথা শুধু এটুকুুই নয়। নির্বাচনের পরপর প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওয়েবসাইট থেকে মুসলিম বিরোধী সকল বক্তব্য ও বিবৃতি ‘গায়েব’ হয়ে গেছে! এখন আর সহজে প্রমাণ করা যাবে না, মুসলিমদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প কোনো কঠোর বক্তব্য রেখেছিলেন। উল্লেখ্য, বিদেশীদের বহিষ্কার প্রসঙ্গেও কথা পাল্টে ফেলেছেন ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর দিনগুলোতে তিনি বলেছিলেন, প্রায় দেড় কোটি মেক্সিকানকে তো বটেই, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত সকল বিদেশীকেও ঝেঁটিয়ে তাড়ানো হবে। নির্বাচিত হওয়ার পর একই ট্রাম্প শুনিয়েছেন নতুন কথা। বলেছেন, অবৈধভাবে বসবাসরত সকলকে নয় বরং শুধু অপরাধীদের তাড়ানো হবে। অবৈধভাবে প্রবেশ করা এবং বসবাস করাটাও যে বড় ধরনের অপরাধ সে কথা বেমালুম পাশ কাটিয়ে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট। এতে অবশ্য অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ, দেশটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এর সকল প্রেসিডেন্টই কথা পাল্টানোর ও নিজের বলা কথা অস্বীকার করার ব্যাপারে সব সময় এগিয়ে থাকেন। কথা বা অঙ্গীকারও তারা সাধারণত রক্ষা করেন না।

এ প্রসঙ্গে উদাহরণের ভিড়ে গিয়ে হিমশিম খাওয়ার পরিবর্তে দুএকটি মাত্র তথ্যের উল্লেখই যথেষ্ট হতে পারে। কথিত মুসলিম জঙ্গি নেতা ওসামা বিন লাদেনের আড়াল নিয়ে টুইন টাওয়ার ধ্বংস করা থেকে শুরু করে সর্বশেষ সিরিয়ায় গণহত্যাসহ যুদ্ধ ছড়িয়ে দেয়া পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহের পর্যালোচনায় দেখা যাবে, সব অজুহাত ও উপলক্ষই যুক্তরাষ্ট্র সৃষ্টি করেছে। দেশটির নেতৃত্বে ইরাকের পর লিবিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো একের পর এক ধ্বংস ও পঙ্গু হয়ে গেছে। এখন চলছে সিরিয়ার পালা। দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে জর্জ বুশ এসে চলে গেছেন, এসেছেন মুসলিম নামধারী বারাক হোসেন ওবামা। তাদেরও আগে বিল ক্লিনটনও যথেষ্টই দেখিয়ে গেছেন। ধারণা করা হয়েছিল, বিশেষ করে ওবামার আমলে হয়তো মুসলিমরা কিছুটা হলেও নিস্তার পাবে। কিন্তু সেটা হয়নি। ঘটনাপ্রবাহে বরং আইএস তথা ইসলামিক স্টেট নামের নতুন একটি জঙ্গি সংগঠনের জন্ম ও বিস্তার ঘটেছে, যার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছেন ওবামার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। ডোনাল্ড ট্রাম্প তো বেশ কিছু উপলক্ষেই অভিযোগ করেছেন, হিলারি ক্লিনটনই আইএসএর প্রকৃত জন্মদাত্রী। ট্রাম্পের অভিযোগটি সারা বিশ্বেই সত্য বলে স্বীকৃতি পেয়েছে। অথচ এই হিলারি ক্লিনটনকে নিয়েই অন্য অনেক রাষ্ট্রের মতো মুসলিম প্রধান বাংলাদেশেও প্রচুর হৈচৈ হয়েছে। তিনি হেরে যাওয়ায় দুঃখে মরি মরি হয়েছেন এদেশের অনেকেই!

তারও আগে নির্বাচনী প্রচারণার দিনগুলোতে বাংলাদেশের মিডিয়ার ভূমিকার কথা স্মরণ করে দেখুন। নির্বাচনের তারিখ ৮ নভেম্বরও একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিকের প্রথম কলামের শিরোনাম ছিল, ‘ঐতিহাসিক জয়ের পথে হিলারি ক্লিনটন’। আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশিষ্ট বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিখেছিলেন, বিজয় নাকি হিলারির একেবারে ‘হাতের মুঠোয়’ এসে গেছে! শুধু তাই নয়, একই দৈনিকের দ্বিতীয় প্রধান খবরে সেদিন বলা হয়েছিল, হিলারি নাকি ৯০ শতাংশ ভোট পেতে চলেছেন! অন্যদিকে বাস্তবে কী ঘটেছে সে সম্পর্কে নিশ্চয়ই বলার দরকার পড়ে না। পপুলার তথা সাধারণ ভোটারদের ভোটেও হিলারি ক্লিনটন মাত্র দশমিক তিনচার শতাংশে এগিয়ে থাকতে পেরেছেন। আর ইলেক্টোরাল ভোটে তো তার ভরাডুবিই ঘটেছে।

এখানে হিলারি ক্লিনটন এবং তারও আগে বারাক ওবামার উদাহরণ দেয়ার কারণ আসলে একটি কঠিন সত্য জানানো। আর সে সত্যটি হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে যিনিই নির্বাচিত হোন না কেন, এতে বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশগুলোর তো বটেই, বিশেষ করে মুসলিমদের জন্য লাভবান হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সুতরাং আশাবাদী হয়ে ওঠাও অনুচিত। এ ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবশ্য ধন্যবাদ দেয়া দরকার। কারণ, অনেক কথা পাল্টে ফেললেও একটি বিষয়ে তিনি ধারণা পরিষ্কার করে দিয়েছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের প্রশ্নে আপসহীন থাকবে তার সরকার। আর মার্কিন স্বার্থের অর্থই যে দেশে দেশে যুদ্ধ বাধানো এবং সমরাস্ত্র বিক্রি করা সে কথা এতদিনে শিশুকিশোররাও বুঝতে পেরেছে। আমাদের ভীতি ও আতংকের কারণও সেটাই। তা সত্ত্বেও আমরা আশা করতে চাই, অতীতের মতো মল্লযুদ্ধে নামার পরিবর্তে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারেই নিজেকে বেশি নিয়োজিত রাখবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রচেষ্টায় তিনি যদি ব্ল্যাক বেল্টধারী আরেক মল্লবীর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনকে নিজের পাশে আনতে পারেন তাহলে বিশ্বের নির্যাতিত ও শান্তিকামী মানুষ ডোনাল্ডের নামে জয়ধ্বনি করে উঠবে। আমরা আবশ্য জানি না, এই বারতা নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছাবে কি না এবং কোনোভাবে পৌঁছালেও শান্তির আহ্বানে তিনি সাড়া দেবেন কি না! সাড়া দিন আর নাই দিন, ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফল ‘হাই জাম্প’এর কথা বিশ্ববাসীর মনে থাকবে বহু বছর পর্যন্ত।

আপস করছেন ট্রাম্প?

obama-trump-mtg-jgআপসের পথে হাঁটতে শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানিয়েছেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা পুরোপুরি বাতিল করবেন না। বরং এর কিছু অংশ সংশোধন করবেন। ওয়ালস্ট্রিট জার্নালকে আজ শনিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেছেন। নির্বাচনের আগে তিনি বলেছিলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর ওবামাকেয়ার বাতিল করাই হবে তাঁর প্রথম কাজ।

হোয়াইট হাউসে গত বৃহস্পতিবার বারাক ওবামার সঙ্গে দেখা করেন ট্রাম্প। ওই বৈঠক এবং ওবামার পরামর্শ নিয়ে ওয়ালস্ট্রিটের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, বৈঠকে স্বাস্থ্যবিমা পুরোপুরি বাতিল না করতে ওবামা পরামর্শ দিয়েছেন। ওয়ালস্ট্রিট জার্নালকে ট্রাম্প জানান, ওবামার পরামর্শ তিনি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন। তিনি আরও বলেন, ওবামার স্বাস্থ্য বিমার বৈষম্য দূর করা সংক্রান্ত বিষয় ও মাবাবার স্বাস্থ্য পরিকল্পনায় সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত রাখার বিষয়গুলো তাঁর পছন্দ। তিনি দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে চান। এমন দেশ চান, যেখানে সবাই একে অন্যকে ভালোবাসবে।

সূত্রঃ প্রথম আলো, ১১ নভেম্বর ২০১৬

কিছু পাঠক মন্তব্যঃ

# আপোস করলে তিনি তাঁর ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা করবেন। তিনি তাঁর নিজের পাতা ফাঁদে নিজেই ফেঁসে আছেন।

# কোথায় পেলেন যে ট্রাম্প আপোশ করছেন? অবামার অনুরোধ তিনি ভেবে দেখবেন বলে বলেছেন। এটাই ভদ্রতা। যখন ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদ গ্রহ্ন করবেন তখন তিনি তার মতন করেই সিদ্ধান্ত নিবেন।

# যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতির বাজারে ট্রাম্প সাহেব যে নেই তা তার মেরুডন্ডহীন আচরণ ও কথায় বলে দিচ্ছে। যে দিকে বৃষ্টি বা কড়া রৌদ্র সেই দিকে তার ছাতা ধরার কৌশল

# জানুয়ারির ২০ তারিখের আগে উনি ওভাল অফিসে বসবেন না, আর না বসার আগে উনি আসলে কি করবেন আর কি করবেন না তা এখনই বলা কিভাবে সম্ভব? আর ঐ মিটিং সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে হয়েছে, মুখের উপর ওবামাকে বলবেন না যে অফিস গ্রহণ করার পরের দিনই সব উলটায়ে দিবেন, সাংবাদিকদের আরেকটু মনে হয় কমনসেন্স ব্যবহার করা উচিৎ।

# His target was white house. So he delivered speech which people will like. Now he will start practical life and deviate from promises he made. Still it is better if he realize practical life is different from theatrical.

আমেরিকার নির্বাচন: ফাটা ডিমে তা দিয়ে লাভ কী?

কাওসার শাকিল : ভেবে দেখলাম আমরাই ভালো। জেনে শুনে বুঝে আগুনে ঝাপ দিই। গত ছ মাসে ইউরোপ আমেরিকার দুই ধরনের দুটো ভোট দেখেছে বিশ্ব। ব্রিটেন ইউরোপে থাকবে কি থাকবে না সেটা নিয়ে ব্রেক্সিট গণভোট। আর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। দুটো ভোটের পর পরই মজার দুটো ঘটনা ঘটেছে। গুগল বলছে বৃটিশরা ব্রেক্সিটে ইয়েস ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরে সবচেয়ে বেশি সার্চ করেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন জিনিসটা কি। আর আমেরিকানরা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গুগলের কাছে জানতে চেয়েছে কি করে প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করা যায়। মজা না?

একটা দেশে গণতন্ত্র শুধু থাকলেই হয় না, সেই সাথে যে জিনিসটা আরো বেশি জরুরি, সেটা হলো বোধ বুদ্ধি সম্পন্ন ভোটার। মানের ভোটারের বিবেচনা বোধ যদি বিকশিত না হয় তাহলে সেই গণতন্ত্রে ঝামেলা বাড়ে, কমে না। ভালোর সাথে মন্দের পার্থক্য, দুটো ভালোর মধ্যে কোনটা বেশি ভালো কিংবা দুটো মন্দের মধ্যে কোনটা বেশি মন্দ এই পার্থক্য না ধরতে পারলে সেই জনতার পালের সাথে ভেড়ার পালের খুব একটা ইতর বিশেষ থাকে না। এবং ভেড়ার পালের মতই তাদের ইচ্ছে মতন দলে দলে তাড়িয়ে বেড়ানো যায়। যেমন ঘটেছে বৃটেনে, যেমনটা ঘটলো আমেরিকায়।

not-my-presidentট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পরের তিন ঘণ্টায় গুগল ট্রেন্ড বলছে ৫০ গুণ বেড়েছে শুধুমাত্র একটা প্রশ্নের খোঁজ– “হাও টু ইমপিচ ইউএস প্রেসিডেন্ট।” মানে যুক্তরাষ্টের রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতাচ্যুত করার উপায় কি সেটাই এখন জানতে চা্‌ইছে মার্কিনিরা। মুশকিল হলো সে পথ আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। তার কারণ দুই কক্ষ বিশিষ্ট কংগ্রেসের সিনেট আর হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস, দুই জায়গাতেই সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং সুবিধাজনক জায়গায় আছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। তার মানে সেদিক থেকে ট্রাম্পের অবস্থান যথেষ্ঠ সুদৃঢ়, অন্তত আগামী চার বছরের জন্য।

ফলাফল ঘোষণার পরপরই অবশ্য হিলারি ক্লিনটন পরাজয় মেনে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আর সেজন্য ট্রাম্পও তাকে বিজয়ী বক্তৃতায় ধন্যবাদ দিয়েছেন। তবে এতো সৌজন্যতা দুই দলের দুই নেতা দেখালেও তাদের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না। ট্রাম্প জয়ের পর পরই কৃষ্ণাঙ্গ, অভিবাসী এবং মুসলমানদের উপর বিচ্ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হামলার খবর এসেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয়। দুই একটি খণ্ড খণ্ড লড়াইও বেধেছে কোথাও কোথাও। এরই প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে হিলারি সমর্থকদের একাংশ। তাদের প্ল্যাকার্ড বলছে “নট মাই প্রেসিডেন্ট”।

এদিকে ক্যালিফোর্নিয়া ভোটের পর থেকেই গো ধরেছে নিজেদের আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র চাই তাদের। যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হয়ে তারা আর থাকবে না। বৃটেনের ব্রেক্সিটের অনুকরণে ক্যালিফোর্নিয়ার চায় “ক্লেক্সিট”। তিনদিন হলো রাস্তায় নেমেছে ইয়েস ক্যালিফোর্নিয়া নামের একটা সংগঠন। দীর্ঘদিন ধরে ইয়েস ক্যালিফোর্নিয়া নামের সংস্থাটি দাবি করে আসছে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহৎ অর্থনীতির অঞ্চল ক্যালিফোর্নিয়া একটি আলাদা রাষ্ট্র হওয়ার সকল যোগ্যতা রাখে। এর অর্থনৈতিক দৃঢ়তা ফ্রান্সের চেয়ে শক্তিশালী আর জনসংখ্যা পোল্যান্ডের চেয়ে বেশি। তারচেয়ে বড় কারণ যেটা ইয়েস ক্যালিফোর্নিয়া বলছে, সেটা হলো তারা এই যুক্তরাষ্ট্রের চলমান মূল্যবোধের সাথে নিজেদের মেলাতে পারছে না। ট্রাম্প তাদের প্রেসিডেন্ট না।

প্রায় একই কথা বলছে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের মানুষগুলোও। গত তিনদিনে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে চলেছে জনতা। তার বেশ কিছুটা সহিংসও ছিলো। গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রচুর বিক্ষোভকারী। গাড়ি ভাঙচুর আর পুলিশের উপর আক্রমণের ঘটনাও ঘটেছে। নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এর বিক্ষোভকারীদের পেশাদার বলে গালমন্দ করেছেন। এরও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ডেমোক্র্যাটদের এক অংশ। বিষয়টা মোটেই ভালোভাবে নেয়নি তারা। সব মিলিয়ে খুব ধীরে ধীরে হলেও একটা প্রতিচিত্র তৈরি হচ্ছে আমেরিকায়।

কিন্তু এতে করে আদৌ কি কিছু হবে? অকুপাই ওয়ালস্ট্রিটের মতন গণআন্দোলন, যার বিষাক্ত থাবায় ঘর বাড়ি ছেড়ে, গলা ধাক্কা খেয়ে পথে নামতে বাধ্য হয়েছে মানুষ, সেই আন্দোলনেরও তো কোনো ইতিবাচক ফল পায়নি আমেরিকার জনতা। এতটাই দৃঢ় আর শক্ত আমেরিকার কর্পোরেট দুনিয়ার ভীত। সেখানে সেই কর্পোরেটদের প্রতিনিধত্ব করা খোদ প্রেসিডেন্টকে গদি থেকে নামিয়ে দেয়ার মতন ঘটনা ঘটানো যে কতটা শক্ত সেটা আঁচ করতে পারছে কি আমেরিকার আম জনতা?

আসল কথা হলো যা হবার তা হয়ে গেছে। যে ট্রেন ছোটার ছিলো সেটা ছুটে গেছে। ডেমোক্র্যাটরা বার্নি স্যান্ডার্সের মতন একজন প্রতিনিধিকে মনোনয়ন দিতে যখন দোনোমোনো করে তখনই আশাহত হয় লাখ লাখ উৎসুক সমর্থক এবং ভোটার। বোঝার জায়গায় থাকলে তখনই ডেমোক্র্যাটদের হর্তাকর্তারা বুঝে ফেলতো, চালে ভুল হয়ে যাচ্ছে। তার ফলাফল এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে রাষ্ট্রের ক্ষমতা। এখন শত চেচিয়ে, বিক্ষোভ দেখিও আর কোনো লাভ নেই। ফাটা ডিমে তা দিয়ে আর কি হবে?

লেখক: গণযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ

উৎসঃ dhakatimes24

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: