প্রথম পাতা > আন্তর্জাতিক, রাজনীতি > মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনোত্তর পর্যবেক্ষণ -১

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনোত্তর পর্যবেক্ষণ -১

ট্রাম্প খোলা মনের মানুষ, হিলারি মুখোশপরা নারী: মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ

hillary_sad-trump_happyমার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয় নিয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের চেয়ারম্যান ও শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ আওয়ার ইসলামকে বলেন, ট্রাম্প জেতায় আমি শঙ্কিত নই। কারণ ট্রাম্প একজন খোলা মনের মানুষ। তার অন্তরে কী আছে এবং বাইরে কী তা বোঝা সহজ। বিপরীতে হিলারি ক্লিনটন একজন মুখোশে ঢাকা নারী যাকে বোঝা ও চেনা দুষ্কর।

তিনি বলেন, ট্রাম্পকে আমি সমর্থন করছি না। আসলে বলতে চাই ট্রাম্প হিলারি দুজনই মুসলিমদের বিপক্ষে। দুজনই উগ্র ও বদ মেজাজের। অতীতে হিলারি যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন আমরা দেখেছি বিশ্বের প্রতি তার মনোভাব কেমন ছিল। ক্লিনটন যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন তার অসভ্যতার ইতিহাসও আমাদের জানা।

আওয়ার ইসলামের নির্বাহী সম্পাদক রোকন রাইয়ানকে দেয়া বক্তব্যে মাওলানা মাসঊদ জানান, আমেরিকা যাই বলুক তাদের নির্ধারিত রাষ্ট্রনীতি রয়েছে। এর বাইরে কেউ যেতে পারবে না। এখানে নিজের মতামতকে চাপিয়ে দেয়া কঠিন। নির্ধারিত সিস্টেমের বাইরে ব্যক্তিমতামত প্রতিষ্ঠিত করা প্রায় অসম্ভব। সুতরাং ট্রাম্প নির্বাচনের আগে যা বলেছে তা খুব সহজে প্রতিফলিত করতে পারবে এটা ভাবা বোকামি। তাছাড়া নির্বাচনের আগে অনেক প্রার্থীই নানা কথা বলে থাকে যা পরবর্তীতে কাজের ক্ষেত্রে মিলে না। ট্রাম্পের বিষয়গুলোও এমন হবে।

তিনি বলেন, পৃথিবীতে একেকটা সময় একেকটা ট্র্যান্ড আসে। এখন সারা বিশ্বে উগ্রবাদের প্রভাব বেশ লক্ষণীয়। বৃটেনে ক্যামেরনকে হটিয়ে ব্যক্সিটের আগমন, জার্মানির নতুন করে মাথা চাড়া দেয়ার চেষ্টা, এসব উগ্রবাদ ট্রাম্পের বিজয়কে সহজ করে দিয়েছে।

এই ভোট মার্কিন নাগরিকদের নিজের দেশের নীতির ওপর চপেটাঘাত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমেরিকা যে বিশ্বায়নের কথা বলে, পরের বিষয়ে সর্বদা নাক গলায় মার্কিনদের এবারের ভোট এসব নীতির ওপর চপেটাঘাত। ভোটারটা ডেমোক্রেটদের বুঝিয়ে দিল অন্যের বিষয়ে নাক গলাতে ব্যস্ত নয় নিজের দেশকে নিয়ে ভাবতে হবে।

অভিবাসীদের বের করে দেয়া ও মুসলিমদের শঙ্কা ইস্যুতে তিনি বলেন, মুসলিমদের এত শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তার উগ্র বক্তব্যের প্রভাব বাস্তবে ফলবে না। অতীতের প্রেসিডেন্টরাও কিন্তু মুসলিমদের ব্যাপারে এমনই মনোভাব প্রকাশ করত। কেবল তারা মুখে সেটা বলত না। আর অভিবাসীদের তাড়িয়ে দেয়ার ব্যাপারে তো তিনি স্পষ্ট বলেছেন, অবৈধ অভিবাসীদের উচ্ছেদ করা হবে। এটা তো অযৌক্তিক কিছু নয়। আমার দেশেও যদি একটা অবৈধ অভিবাসী প্রবেশ করে আমি তাকে বাধা দেব। এটাই সবার নীতি।

মার্কিন গণতন্ত্র বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকৃত গণতন্ত্র আমেরিকাতেও নেই। ওখানকার নির্বাচনেও বাংলাদেশের মতো কাঁদা ছোড়াছুড়ি দেখলাম। আসলে প্রকৃত গণতন্ত্র আমেরিকায় কখনো ছিল না, আসবেও না। আমেরিকায় গণতন্ত্রের নামে আছে ধোঁকাবাজি।

উৎসঃ আওয়ার ইসলাম

ট্রাম্পের সেক্স স্ক্যান্ডেলকে পাত্তা দিল না মার্কিনিরা

women-for-trump-2এই মুহূর্তে সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নামডোনাল্ড ট্রাম্প। সবেমাত্র জিতে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের মহারণ। কিন্তু আজকের এই জয়ের পেছনে ছিল নির্বাচনের আগে প্রচার চলাকালীন কলঙ্কময় কাদা ছোড়াছুড়ি ও কুত্সার অধ্যায়। আক্রমণ যে শুধু ট্রাম্প একাই করেছেন তা নয়, করেছে দুপক্ষই। কিন্তু এই কুত্সিতব্যক্তিগত আক্রমণের একটা অনুচ্ছেদ শুরু করেছিলেন ট্রাম্প নিজেই। তিনিই প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের মঞ্চে টেনে এনেছিলেন যৌন হেনস্থার বিষয়। অবশ্যই ট্রাম্পের অভিযোগের তীর ছিল তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিন্টনের স্বামী তথা প্রক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন। কিন্তু যে অভিযোগ শুরু করেছিলেন ট্রাম্প নিজেই, পরে দেখা গেল সেই একই অভিযোগে তাঁর মুখ পুড়েছেই বেশি। যদিও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যেসব যৌন হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে তার একটিও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তবুও বিতর্ক দানা বেঁধেছে দুনিয়া জুড়ে। মিডিয়ার সামনে ১২জন মহিলা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ করেছেন।

এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক কী কী অভিযোগ এসেছিল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে

) মেকআপ আর্টিস্ট জিল হার্থ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ আনেন। তাঁর অভিযোগ অনুসারে ঘটনাটি ঘটে ছিল ১৯৯৭ সালে।

) ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম স্ত্রী ইভানা ট্রাম্প তাঁর প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে জোর করে যৌন মিলনের অভিযোগ এনেছিলেন।

) ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সব থেকে ভয়ঙ্কর অভিযোগ হল এক তেরো বছর বালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ।

তবে এসব বিতর্ক যে তাঁকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড় থেকে এক চুলও সরাতে পারেনি তা তো আজকের ফলেই প্রমাণিত এবং অবশ্যই এই একটি অভিযোগও আইনের চোখে প্রমাণিত নয়।৪) এক পর্নতারকা বলেছিলেন, ট্রাম্প তাঁকে জোর করে ধরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

ট্রাম্পের জয় ও আমেরিকান ফ্যাক্ট

silent-majority-for-trumpফাতেমা আবেদীন : অবশেষে হিলারি ভক্তদের হতাশ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন ডোনাল্ড জে ট্রাম্প। ৪৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটের ফল দেখে বিশ্ববাসীর চক্ষু চড়কগাছ। ট্রাম্প পেয়েছেন ২৮৯ ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। হিলারি পেয়েছেন ২১৮টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। মোট ৫৩৮টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল ২৭০ ভোট। এসব তথ্য এখন আমাদের মুখস্ত। ইতোমধ্যে ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন হিলারিসহ বিশ্ব নেতারা। হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানিয়েছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

তবে বিশ্ববাসী হতভম্ভ! কেন, কিভাবে ট্রাম্পের মতো একজন প্রার্থীকে বেছে নিলেন আমেরিকানরা। অনেকে বলেই বসেছেন ট্রাম্পের মতো একজন ইসলামবিদ্বেষী, অভিবাসনবিরোধী, বর্ণবাদী, মিথ্যাবাদী, আয়কর ফাঁকি দেওয়া লম্পটকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে আমেরিকার জনগণ তাদের কদাকার চেহারাটিই দেখিয়ে দিল। তবে মার্কিন জনগণকে খুব একটা দোষ দেওয়া যায় না, তাদের হিসাব আলাদা।

এখানে কয়েকটি ফ্যাক্ট কাজ করেছে। প্রথমত, মার্কিনিদের একটি জেন্টলমেন্ট এগ্রিমেন্টের কথা বলা যেতে পারে। যেহেতু সে দেশে রাজনৈতিক দল মানেই ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান, সেহেতু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, আট বছর ডেমোক্র্যেট ছিল এবার রিপাবলিকানদের পালা। ভাগাভাগি করেই দেশ চালানোর একটি ইচ্ছা হয়তো দু’দলের মধ্যেই আছে। এটি ধারণার কথা মাত্র। তবে ৪৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যক্তি ট্রাম্পের চেয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যেট ফ্যাক্ট অনেক বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে—এটিকে এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই।

আট বছর ক্ষমতায় থাকা বারাক ওবামার যে স্বচ্ছ ইমেজ বিশ্ববাসী দেখে পুলকিত হয়ে আসছে, খোদ আমেরিকায় কিন্তু তার ইমেজ সে রকম নয়। বিশ্ববাসীর কাছে উদারপন্থী হিসেবে পরিচিত প্রেসিডেন্টকে দ্বিতীয় দফায় জিততেও বেশ কষ্ট করতে হয়েছে। বিশেষ করে অস্ত্র আইন, অভিবাসন ও স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে জনগণকে সন্তুষ্ট করার মতো কোনও শক্ত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতা ওবামার ছিলই। সেটি ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর জন্য নেতিবাচক বলেই বিবেচিত হয়েছে।

চলতি বছর জুনে গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওবামার দ্বিতীয় দফা ক্ষমতার সাড়ে তিন বছরে ১ হাজার বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্বয়ং রিপাবলিকানদের অস্ত্র ব্যবসায়ীর তকমা দিয়ে ডেমোক্র্যাটরা ভোট জেতার ফায়দা লুটলেও ওবামা এই ক্ষেত্রে একদম ব্যর্থ বলে বিবেচিত হয়েছেন। তাই এ নিয়ে মার্কিনিদের মনে বেশ ক্ষোভ ছিল। এটিকে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশও বলা চলে।

এরপর রয়েছে অভিবাসননীতি। ওবামা অভিবাসীদের প্রতি বরাবরই সহনশীল। কিন্তু কট্টরপন্থী মার্কিনিরা বরাবরই অভিবাসীমুক্ত যুক্তরাষ্ট্র চেয়ে এসেছে। যদিও বাস্তবিক অর্থে এটি একটি আকাশকুসুম চাওয়া। কিন্তু ট্রাম্পের কঠোর হওয়ার প্রতিশ্রুতিই আমেরিকানদের মনে ধরেছে, সেটি প্রত্যাশিত। তাই বিশ্ববাসী ট্রাম্পের জয়ে অখুশি হয়েছে। কারণ অভিবাসন ফ্যাক্টস নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। বিশ্লেষকরা ইতোমধ্যে বলতে শুরু করেছেন, ট্রাম্পের জয় আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বিশাল পরিবর্তন আনবে। তবে বিশ্বমোড়লদের প্রধান ট্রাম্প যে নিন্দিত হওয়ার পথে যাবেন না, তার প্রমাণ প্রথম ভাষণেই দিয়ে রেখেছেন তিনি। ‘ম্যাড’ ট্রাম্প এখনই মন জয় করার পথে হাঁটা শুরু করেছেন।

নারীর ক্ষমতায়ন ফ্যাক্টটিকে এড়িয়ে গেলে চলবে না। নারীর ক্ষমতায়ন শব্দটি যুক্তরাষ্ট্রের কেতাবে রয়েছে বলে দাবি করেন অনেকে। আন্তর্জাতিক জরিপগুলোও এই দাবিকে এড়িয়ে যেতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম ১৮৭২ সালে ভিক্টোরিয়া উডহল নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন। তিনি ওই বছরই প্রতিষ্ঠিত ইকুয়াল রাইট পার্টির পক্ষ থেকে লড়াই করেছিলেন। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মোট ১২ জন প্রার্থী দিয়েছিলেন। তবে ডেমোক্র্যাট দলের মতো বড় ক্ষমতাসীন দল থেকে হিলারিই প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন।

১৭৮৯ সালে মার্কিন সিনেট প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ১২৬ বছরে মাত্র ৪৬ জন নারী সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। কংগ্রেস, গভর্নর পদসহ রাজনৈতিক বড়বড় অবস্থানে নারীদের অবস্থান ৩০ শতাংশেরও কম। ক্যাপএর হিসাব মতে ২০১৬ সালের হিসাবে ফেডারেল এক্সিকিউটিভ বা মন্ত্রী পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন মাত্র সাতজন নারী। অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনসভায় মাত্র ২৪ শতাংশ নারী। সুপ্রিম কোর্টে শীর্ষপদে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন ৩জন নারী। সিনেটে এ যাবতকালে মাত্র ২২ শতাংশ নারী নির্বাচিত হয়েছেন। স্টেট হাউস অ্যাসেম্বলিতে মাত্র ২৫ শতাংশ নারী নির্বাচিত হয়েছেন। ১০০ বড় শহরের মেয়র পদে মাত্র ১৯ জন নারী আছেন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নারীর ক্ষমতায়ন ৩০ শতাংশ ছাড়ায়নি। সেখানে হিলারিকে রক্ষণশীল আমেরিকানরা জয়ী করবেন, এমনটা ভাবাটাই ভুল ছিল। বরং বিতর্কিত আমেরিকান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে মিডিয়া একহাত নিয়েছে, এমনটাই বলা যায়। তারা পপুলার ভোটে হিলারির জয়কে এগিয়ে দিয়ে রক্ষণশীলদের কাছে ট্রাম্পের জয়ের পথ সুগম করেছেন বলে মনে হয়।

অন্যদিকে রাজনৈতিক ফ্যাক্ট এড়িয়ে যাওয়াটা উচিত হবে না। রাজনীতিক হিসেবে হিলারির দক্ষতা প্রশ্নের সম্মুখীন বরাবরই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে লিবিয়ার মতো সংকট সামাল দিতে হিমসিম খাওয়া হিলারির ওপর বুঝদার আমেরিকানদের ভরসা একটু কমই ছিল বলে ধারণা করা যাচ্ছে। আর হিলারির ইমেইল কেলেঙ্কারিও একটি বড় ফ্যাক্ট হিসেবে বিবেচিত ছিল।

অনেকেই ভয় পাচ্ছেন ট্রাম্প মুসলিম ও অভিবাসীদের জন্য ভয়ঙ্কর হবেন। কট্টরপন্থী ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদাহরণ হিসেবে যদি ধরে নেওয়া যায়, তবে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। মোদি কিন্তু হিন্দুমুসলিম নির্বিশেষে মন জয় করে নিয়ে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উত্থানই ঘটাতে চলেছেন। ট্রাম্পও সেই পথেই হাঁটবেন বলেই আশা করা যাচ্ছে। বিশ্ব মোড়লদের নেতা আর যাই হোক, মাথা গরম করবেন না।

আর যারা ট্রাম্পের নারী কেলেঙ্কারিকে আমলে নিয়ে নারীরা ভোট দেবেন না আশা করেছিলেন, তারা নিশ্চয় এতক্ষণে জেনে গেছেন ট্রাম্প নারীদের ভোটই বেশি পেয়েছেন। চারবার প্রধানমন্ত্রী হওয়া ইতালির বার্লুসকোনি এক্ষেত্রে উদাহরণ ছিলেন। তার মতো নারী কেলেঙ্কারির ইতিহাস তো কম নেতারই ছিল।

তবে হিলারি আর ট্রাম্প যেই জয় লাভ করুন না কেন, দক্ষিণ এশিয়ার ছোট্ট দেশ বাংলাদেশ কিংবা প্যালেস্টাইনের জন্য পররাষ্ট্রনীতি একই থাকবে। তাই এই জয় শুধু জাতীয়তাবাদী মার্কিনিদের জয়। এতে ঘাবড়ানো বা অতি আনন্দিত হওয়ার কিছুই নেই।

লেখক: সাংবাদিক, বাংলা ট্রিবিউন, নভেম্বর ১০, ২০১৬

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: