প্রথম পাতা > অপরাধ, জীবনযাপন, ধর্মীয়, বাংলাদেশ, রাজনীতি, সমাজ > ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার কদর্য রূপ আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে !

ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার কদর্য রূপ আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে !

ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা কিসের ইঙ্গিত বহন করে?

bd-9মাছুম বিল্লাহ : ১৯৯২ সালে ভারতে কট্টরপন্থী হিন্দুরা বাবরি মসজিদ ভেঙে সেখানে রামমন্দির নির্মাণ করার জন্য মসজিদে হামলা করেছিলো। ঐ ঘটনার জের ধরে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধার সম্ভাবনা ছিল কিন্তু তৎকালীন এরশাদ সরকার দৃঢ়ভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

আমি সে সময় টাঙ্গাইলে একটি কলেজে শিক্ষকতা করতাম। আমার কলেজের কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী ছাত্র আমাকে ক্লাসে বলল, ‘স্যার আমাদের বাবরি মসজিদে হিন্দুরা হামলা করেছে। আমাদের ক্লাসে যে ক’জন হিন্দু ছাত্র আছে আমরা ওদের মাইর শুরু করি।’

আমি বই বন্ধ রেখে বললাম, ‘কেন? ওরা কি করেছে? ওরা তো ভাঙেনি।’ তারা বলল, ‘স্যার ওরা তো হিন্দু। ওদের তো সমর্থন আছে বিষয়টিতে।’

আমি তখন বললাম, ‘তোমরা একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখ, তোমরা যদি ওদের অবস্থানে থাকতে এবং তোমাদেরকে ওরা বা অন্য কেউ এই কথা বলতো তাহলে তোমাদের কেমন লাগত? ওরাও মানুষ, ওরাও এ দেশের নাগরিক। ওদের যে অনুভুতি, ব্যথা বেদনা, হাসি কান্না আছে, তোমাদেরও তাই আছে। ওদেরও মন আছে, স্বপ্ন আছে, স্বাদ আছে। সব কিছুই এক। ওরাও তোমাদের মতো ছাত্র। তাহলে ওদের কেন মারবে?’

ওরা বলল, ‘স্যার ওরা তো হিন্দু, ওরা তো দেবদেবীর পূজা করে।’ আমি বললাম, ‘দেবদেবীর পূজা করলেই তাদের মারতে হবে? আমরা মসজিদে যাই। আমাদের সংখ্যা যদি ওদের চেয়ে অনেক কম হতো, তাহলে ওদের কাছে আমাদের মসজিদে যাওয়া, জোরে জোরে মাইকে আজান দেওয়া নিশ্চয়ই ভাল লাগত না। ওরা তোমাদের বলতো ওরা মসজিদে যায়, কাজেই ওদের মাইর শুরু করি। বিষয়টি তোমাদের কাছে কেমন লাগত? আসলে তুমি ও আমি এমন ঘরে জন্মগ্রহণ করেছি যেখানে আমরা দেখেছি পরিবারের লোকজন নামাজ পড়ে, মসজিদে যায়। ওরা যে ঘরে জন্ম নিয়েছে সেখানে ওরা দেখতে পেয়েছে ঘরে প্রতিমা আছে, পরিবারের সদস্যরা অন্য এক ধরনের প্রার্থণা করে, মন্দিরে যায়। ওরা মনে করে স্রষ্টাকে খুশী রাখার জন্য ওভাবেই প্রার্থণা করতে হবে।’

আমরা মনে করি, মসজিদে গেলে নামাজ পড়লে স্রষ্টা খুশী হবেন তাই আমরা মসজিদে যাই, নামাজ পড়ি। যারা খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী তারা মনে করেন, গির্জায় গেলে স্রষ্টা খুশী হবেন। তারা তাই করেন। সবচেয়ে বড় কথা, যে শিশুটি ছোট থেকে তার পরিবারে ও চারদিকে যে কালচার দেখে, সে সেই কালচারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তার প্রতি এক ধরনের আলাদা আকর্ষণ ও ভালবাসা জন্মায়। তার অর্থ এই নয় যে, আমার পাশে যারা স্রষ্টাকে খুশী করার জন্য অন্যকিছু করে বা করছে তারা আমাদের শত্রু। আমাদের শক্তি ও সামর্থ্য থাকলে তাদের আক্রমণ করতে হবে, মারতে হবে।

এই পৃথিবীর সবাই নামাজ পড়ে না, সবাই পূজা করে না, সবাই গির্জায় যায় না, কিন্তু সবাই মানুষ। সবাই একই সূর্যের তাপ ভোগ করে, সবাই অক্সিজেন গ্রহণ করে, কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে। সবাই একইভাবে জন্ম নেয়, সবাই মারা যায়।

মনে পড়ে, ঐদিন ক্লাসে ইংরেজি না পড়িয়ে পুরো ক্লাসই নিতে হয়েছিল এই দাঙ্গা, সাম্প্রদায়িকতা, হিন্দুমুসলমান বিভেদ ইত্যাদি নিয়ে। ছেলে মেয়েরা ঐদিন আমার ঐ ক্লাসেই যেন বেশি আনন্দ পেয়েছিল। বোধ হয় বেশ কাজও হয়েছিল। পরে তাদের মধ্যে আর মারমুখী ভাব দেখতে পাইনি। চাকরি ছেড়ে আসার পর ঐসব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনেকদিন পর্যন্ত চিঠিপত্রও পেতাম, এমনকি এখনও কেউ কেউ ফেসবুক বা অন্যান্য মাধ্যমে আমার সাথে যোগাযোগ রাখছে।

সাম্প্রদায়িকতা কথাটি আমাদের দেশে ধর্মীয় ব্যাপারেই বেশি ব্যবহৃত হচেছ। আসলে এর ব্যাখ্যা বেশ বড়। কোন এক জায়গায় যদি চারজন মানুষও একত্রিত হয়, তাহলেও দেখা যাবে তাদের মধ্যে দুটি কিংবা তিনটি গ্রুপ বা সম্প্রদায়। প্রথমে দেখা যাবে সাধারন কিছু বৈশিষ্ট্য ছাড়া সবারই আলাদা আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যার কারণে তারা চারজন চার রকমের। এরপর দেখা যাবে দ্’ুজনের মধ্যে কিছু আলাদা বৈশিষ্ট্য যা তাদেরকে বাকী দুজন থেকে আলাদা করেছে। আবার তিনজনের মধ্যে কিছু সাধারন বৈশিষ্ট্য তিনজনকে এক গ্রুপে ফেলেছে, আর একজন একেবারেই একা। এরকম সবাই কোন গুণ, বৈশিষ্ট্য, সামাজিকতা বা বিশ্বাসের কারণে কোন না কোন সম্প্রদায়ে বিভক্ত। এক ধরনের মিলঅমিল, আচারআচরণ ও স্বার্থ তাদের একজনকে অন্যের থেকে একটু আলাদা করে রাখে। একইভাবে একটি এলাকায় মানুষ কয়েক ভাগে বিভক্ত।

ধরুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়েন তাদের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের একটি গ্রুপ, ঢাকার আশপাশ এলাকার একটি গ্রুপ, উত্তরবঙ্গের একটি গ্রুপ। আবার যারা সরকারে থাকা দল করে তাদের একটি গ্রুপ, যারা সরকারের বিরোধীতা করে তাদের একটি গ্রুপ। বামপন্থী রাজনীতির একটি গ্রুপ। সব গ্রুপই তাদের নিজেদের মধ্যে একটি সমঝোতা গড়ে তোলে, ফলে তারা অন্যদের থেকে কিছু দিক দিয়ে কিছুটা আলাদা থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে কালো মানুষ ও সাদা মানুষের মধ্যে এক ধরনের দ্বন্দ্ব যা আর এক ধরনের সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করেছে। এটি পৃথিবীর বাস্তবতা।

সত্য, সুন্দর, আদর্শ ও মানবতার কথা হলো মানব সমাজের মধ্যে বিরাজমান বৈশিষ্ট্য স্বীকার করে নিয়ে রাষ্ট্রে বাস করতে হবে মিলেমিশে, বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ রক্ষা করে। এখানেই মানুষ ও পশুর মধ্যে তফাৎ। সমস্যা হলো, আমরা এই শিক্ষা কোথাও পাই না, কোন আদর্শ নেই যা আমরা অনুসরণ করবো। না পাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, না পাই সমাজে, না পাই রাষ্ট্রে। কারণ, সবকিছুই নিয়ন্ত্রন করে পেশিশক্তি, দুষ্ট রাজনীতি ও অসততা।

বাংলাদেশে যারা ভিন্ন ধর্মাবলম্বী বা ভিন্নমতের তারা এক ধরনের নিরাপত্তহীনতায় ভোগে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে যারা থাকে। একইভাবে ভারতে এবং অন্যান্য দেশে যারা সংখ্যায় একটু কম তারাই নিরাপত্তহীনতায় ভোগে। একেক সময় মনে হয় সুন্দরবনের হরিণগুলো যেমন বাঘের ভয়ে থাকে ব্যাপারটা অনেকটা সে রকম। আসলে মানবসমাজে তাই কি হওয়া উচিত? তাহলে আমরা মানুষ কেন? আমরা নিজেদের শিক্ষিত বলি কেন? শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের শিক্ষা আমাদের কোথা থেকে অর্জন করতে হবে? বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকিয়ে দেখুন, কি হচেছ সেখানে? শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দলাদলি, হাতাহাতি, মারামারি এবং সাময়িক স্বার্থের জন্য তারা কি না করছে !

রাজনীতি যাকে ‘নীতির রাজা’ বলা হয় সেখানে কি হচ্ছে? নাসিরনগরে যে হামলা হলো, কেউই ধরতে পারছে না কে করেছে, কেন করেছে? রাষ্ট্রের জন্য, প্রশাসনের জন্য এটা কি অসম্ভব? এখানে কেউ যদি বলে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য বিএনপি এই কাজ করেছে, তা অনেকের কাছে খুবই সহজ ও বিশ্বাসযোগ্য হবে। আবার কেউ যদি বলে যে, সরকার বিএনপিকে আরও ঘায়েল করার জন্য এ কাজ করিয়েছে। তাও বিশ্বাসযোগ্য কারণ, এখানে সততার কোন উদাহরণ আমরা কোথাও পাই না। কাঁদা ছোড়াছুড়ি সবাই করে থাকে শুধু স্বার্থের জন্য। কিন্তু মানুষের এই স্বার্থ কদিন থাকে? নির্দিষ্ট সময় পর সবাইকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয়, সেকথা আমরা ভুলে যাই।

৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দিরে ভাংচুর, বসতবাড়িতে হামলা ও লুটপাটের পর দেশব্যাপী প্রতিবাদ, সভাসমাবেশ ও মানববন্ধন হচ্ছিলো। ওই এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিলো। এরই মধ্যে আবার ৩ নভেম্বর রাতে একই এলাকায় বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে পশ্চিমপাড়ায় অন্তত পাঁচটি ঘর পুড়ে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি মন্দির। অনেক নারীকে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে রাতের আধারে অন্যত্র পালাতে হয়েছে। নিজ দেশে, নিজ ভিটেমাটিতে এ কেমন বর্বরতা?

সংখ্যায় যারা কম তারা নিরাপদে নিজ বাসভূমে বাঁচতে পারছে না। প্রথম দিনের হামলার পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। কিন্ত তারই মধ্যে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটল। একে আমরা রাজনীতি ছাড়া আর কি বলতে পারি? আমরা কি একবারও চিন্তা করে দেখেছি যে, এই রাজনীতি আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে ?

লেখক : ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচিতে কর্মরত।

সূত্রঃ রাইজিং বিডি ডট কম

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য এগিয়ে আসতে হবে

nasir-nagar-protestশাহেদ হোসেন : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বসতবাড়িতে হামলার পর সপ্তাহ না ঘুরতেই তিন জেলায় প্রতিমা ভাংচুর ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়, পুলিশের নিরাপত্তা সত্বেও নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর বলে বাংলায় একটা প্রবাদ আছে। নাসিরনগরের হামলার ঘটনায় সরকারের একজন মন্ত্রী এবং ইউএনওওসির কথাবার্তা ও কার্যকলাপে আমরা শোকে পাথর হয়ে গেছি।

২৮ অক্টোবর নাসিরনগরে রসরাজ দাস নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক পেজে ধর্ম অবমাননাকর একটি পোস্ট দেওয়া হয়। স্থানীয় মুসলমানদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারও করে। তারপরও বিষয়টি উস্কে দিয়ে রোববার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরমন্দিরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। নাসিরনগরের জের ধরে হবিগঞ্জের মাধবপুরে মন্দির ও বাড়িঘরে হামলাভাঙচুর চালানো হয়। সারা দেশে যখন এ ঘটনায় তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা ঝড় উঠেছে এর মধ্য দিয়েই বৃহস্পতিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। অথচ ওই এলাকায় পুলিশি প্রহরা ছিল। আবার গত বুধ ও বৃহস্পতিবার বরিশাল, ঠাকুরগাঁও, বরিশাল ও নেত্রকোনায় প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।

বাংলাদেশে হাজার বছর ধরে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। তবে ব্রিটিশ শাসনামলের সময় থেকে একটি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী এই সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর পেছনে বরাবরই আমরা শাসক গোষ্ঠীর পরোক্ষ মদদ থাকতে দেখেছি। ২০১২ সালে ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার গুজব ছড়িয়ে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ মন্দির ও বৌদ্ধ পল্লীতে হামলা চালানো হয়। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীর রামু পরিদর্শন করেছেন, আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলেছেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ঢাকায় ফিরে মন্ত্রী তদন্তের আগেই পুরো ঘটনাটিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করলেন। প্রমাণ ছাড়াই তিনি এর দায় বিএনপির ঘাড়ে চাপিয়ে দিলেন। উত্তম বড়ুয়া নামের যে যুবকের ফেসবুক পেজ থেকে অবমাননাকর পোস্ট হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল, তার খোঁজ মেলেনি আজও। রামুর ঘটনায় ২০১৫ সালে সর্বশেষ আট মামলার ৩৫ আসামি খালাস পেয়েছেন। অর্থাৎ এতো বড় একটি ঘটনার হোতারা অনায়াসে পার পেয়ে গেলেন। তাই দেখা গেছে, এর পরের বছরই একইভাবে ফেসবুকের সূত্র ধরে পাবনার সাঁথিয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হয়েছে। সাম্প্রদায়িক হামলার সর্বশেষ ভয়াবহ চিত্রটি আমরা দেখলাম নাসিরনগরে।

নাসিরনগরে যার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ উঠেছে, তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, আদালতের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাহলে এরপরও কেন হামলা হলো ? যারা গুজবের জের ধরে বিক্ষোভ সমাবেশ আহ্বান করেছেন তারা দাবি করেছেন হামলা তারা চালাননি। আবার গুজবের রেশ ধরে ডাকা সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন ইউএনওওসি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী এবং নাসিরনগর আসনের সংসদ সদস্য ছায়েদুল হক ঘটনার পর দাবি করেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। উপরন্তু তিনি এ সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদেরই দায়ী করেছেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও স্থানীয়দের ভাষ্য বিশ্লেষণ করে এটা বুঝতে কষ্ট হয় না যে, প্রশাসনের অবহেলার কারণেই এ হামলা হয়েছে। বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখতে পাবো মূলত বৈষয়িক স্বার্থ হাসিল এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টায় একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, ওই সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল স্রেফ বৈষয়িক স্বার্থে। গ্রামের ধনী হিন্দু পরিবারটির সম্পত্তি দখলের জন্য ধর্মের নামে হামলা চালিয়ে হয় পরিবারটিকে হত্যা করা হয়েছে নতুবা দেশছাড়া করা হয়েছে। স্বাধীনতার পরও প্রতিক্রিয়াশীলরা এ সুযোগ কাজে লাগিয়েছে এবং এখনো এ চেষ্টা অব্যাহত আছে। যতোদিন অন্যায়কারীরা প্রশাসনের নীরব সহযোগিতা পাবে কিংবা অপরাধ করেও পার পেয়ে যাবে ততোদিন এই পোড়া দেশে প্রতিক্রিয়াশীলরা সুযোগ কাজে লাগাবেই। এটাই স্বাভাবিক।

ইসলাম কখনোই অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনা কেন্দ্র, বাড়িঘর কিংবা অনুসারীদের ওপর হামলাকে সমর্থন করে না। শান্তির সময় তো দূরের কথা যুদ্ধকালেও সংশ্লিষ্ট দেশের একটি গাছেরও ওপর আঘাত হানতে নিষেধ করেছেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। যারা একদিন তার ওপর নির্মম আঘাত হেনেছিল, অত্যাচারনিপীড়ন চালিয়েছিল, ইসলামের বিজয়ের সময় তাদেরকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন। এছাড়া ইসলাম কখনোই একের অপরাধে অন্যকে শাস্তি দেওয়া সমর্থন করে না। যারা ইসলামের ইতিহাস জানেন কিংবা যারা সত্য অর্থে ইসলামের অনুসারী তাদের দ্বারা কখনোই পরধর্মের মানুষ লাঞ্ছিত হতে পারে না। যারা ইসলামের নামে এসব করে তারা অবশ্যই স্বার্থবাদী, ধর্মের নামে ব্যবসায়ী কুচক্রী।

সাম্প্রদায়িক সংঘাত কিংবা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও কখনো শুভ হতে পারে না। আমরা চাই নাসিরনগর এবং যেসব স্থানে হিন্দু ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা হয়েছে তার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হোক। এর পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের অগ্রণী ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসতে হবে। এর জন্য সরকারকেই সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

সূত্রঃ রাইজিং বিডি ডট কম

সাইবার রাজনীতিতে আমরা কি অসহায়?

রাশেদা রওনক খান : ফেসবুক, টুইটার, গুগল তথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কি এই সময়ে আমাদের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীবানিয়ে দিচ্ছে? আমাদেরকে একটা মিথ্যাঅসত্যঅসাড়মানবিক মূল্যবোধহীনবিবেকবুদ্ধিহীন একটা সময়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে? সত্য জানতে কি ভুলে গেছি আমরা? অথবা সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বলে প্রমাণ করার যে অপচেষ্টা চলছে তাতে গা ভাসিয়ে দিচ্ছি আমরা? মিথ্যাঅপ্রয়োজনীয়কাল্পনিক সত্যনির্মাণের রাজনীতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছি সারাক্ষণ? কোনও একটা ছবি বা লেখা ফেসবুকে এলেই তা ‘সত্য’ কিংবা ‘মিথ্যা’ হয়ে যায়? ‘সত্য’ কি এতটাই সহজ? আমরা আদৌ ‘সত্য’ কি জানতে চাই আসলে? আমাদের হাতে কি সেই সময় এবং ভাবনার পরিসর আছে? খোদ মার্কিন মুল্লুকের নির্বাচন প্রচারণা কৌশলে এফবিআই প্রধান কিংবা পুতিনের সংশ্লিষ্টতার খবর কিংবা নাসিরনগরের মন্দিরে হামলা কিংবা পরবর্তীতে মন্ত্রী ছায়েদুল হকের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগএসবই কি আমাদের ‘ডিজিটালাইজড মনোজগৎ’কে প্রশ্নবিদ্ধ করছে না?

ডিজিটাল যুগে এসে আমরা তো কেবল ডিজিটালাইজড মনোজগৎ নিয়ে বেড়ে উঠছি, যেখানে মনকে জগতের সঙ্গে যুক্ত করছিনা, করছি যন্ত্রের সঙ্গে! ফলে আমাদের চিন্তাভাবনায় এসেছে অস্থিরতা এবং অসারতা, ভাবনার দুয়ার প্রসারিত হয় কেবল ডিজিটাল দুনিয়ায়, দেখার সম্ভাবনা তৈরি হয় সাইবার জানালা দিয়ে, ঘরের দরজাজানালা দিয়ে নয়! তাই কোনও কিছুতেই নেই যেন আমাদের ভাবনার গভীরতা, নেই মানবিকতা বোধ, নেই চিন্তার সময়! এই অস্থিরতা কেবল আমাদের বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্ব জুড়েই! তাইতোযে ট্রাম্পকে ভোগবিলাসী ধনকুবের আর নারী লিপসু বলে চিনতেন মার্কিনিরা, সেই কিনা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মঞ্চে দাপুটে হিলারিকে টক্কর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত! ডিজিটাল যুগে এসে নির্বাচনি প্রচারণা যতটা বাস্তবের মাঠে, তার চেয়ে বেশি সাইবার স্পেসে। তাই সাইবার স্পেস এখন আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সাইবার স্পেসের তথ্যকে আমরা কতটা এবং কিভাবে গ্রহণ কিংবা বর্জন করবো, তা আমাদেরই ভাবতে হবে। কেন বলছি, তা একটু স্পষ্ট করি:

এক. ফেসবুকের একটি ছবিকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত আমরা একসাথে ১৫ টি মন্দির জ্বালিয়ে দিয়ে আসতে পারি, আল্লাহ’র সৃষ্টি মানুষ পুড়িয়ে ফেলতে পারি কিন্তু একজন ৫০ বছর বয়সী মুসলমান পুরুষ ‘বড় আব্বা’ যখন ৫ বছরের হিন্দু শিশু পূজার প্রজনন অঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে ধর্ষণ করে, সিগারেটের ছেঁকা দিয়ে, সারা দেহে নানাভাবে ছিন্নভিন্ন করে একটা নেকড়ে বাঘের মতো, তখন এই উত্তেজিত আমরাই আবার অনায়াসে নিশ্চুপও থাকতে পারি! আমাদের এই ‘সচেতন বিপ্লবী স্বর’ ‘ধর্মের রাজনীতি’ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও তা যদিও লিঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়, তা আমাদের আর ভাবায় না। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া এই দুটো ঘটনার মাঝে কোনটা আসলে ‘সত্য’? আমার কাছে এটাই বড় সত্য যে, ৫ বছরের শিশু পূজাকে সারারাত ধরে ফেনসিডিল খেতে খেতে একটা নরপশু ধর্ষণ করে ছিন্নভিন্ন করে মেরে ফেলতে চেয়েছে। কিন্তু কী অদ্ভুত জাতি আমরা! এই সত্যকে আড়াল কিংবা অবজ্ঞা করে নেমে পড়েছি ফেসবুকে দেখাঅদেখা, সত্যমিথ্যার আড়ালে লুকিয়ে থাকা ধোঁয়াশাআবছায়া এক ছবি নিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায়! কী বীভৎস আমাদের মনমানসিকতা হয়ে উঠেছে! জয় যোগাযোগ মাধ্যমের, জয় মিথ্যার! আমাদের চৈতন্যবোধের এত অধঃপতন হয়েছে? হেরে গেলো সত্য, চাপা পড়ে গেলো পূজার আর্তনাদ, সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতির ভিড়ে।

দুই. আরেকটি প্রশ্ন অনেকেই ফেসবুকে করছেন, মন্ত্রী ছায়েদুল হক কি আসলেই ‘মালাউনের বাচ্চা’ বলেছেন? অনেকেই তার পদত্যাগ দাবি করেছেন। কেউ কেউ আবার বলেছেন, তিনি যে অশ্লিল শব্দটা করেছেন তার প্রমাণ কী? সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে কেউ যদি এভাবে বলে থাকেন, তাহলে তিনি জঘন্য অপরাধ করেছেন এটা যেমন সত্য, তেমনি যদি তিনি এই ধরনের কিছু না বলে থাকেন, তাহলে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করাটাও কতটা যুক্তিযুক্ত হবে, তা আমাদের ভাবতে হবে। এই বিষয়টি কতটা সত্য আর কতটা ‘নির্মিত’ তা দেখার দায়িত্ব কিন্তু আমাদের সবার।

একজন মন্ত্রী কেবল মন্ত্রী নন, তিনি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন কর্তা ব্যক্তি, যিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনাকেই উদ্বুদ্ধ করার শপথ নিয়েছেন তার নানা কাজে ও কর্মের মধ্য দিয়ে। তিনি এমন কিছু বলতে পারেন না যা সাম্প্রদায়িকতাকে আরও উস্কে দেয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি আসলে সেদিন ভাষণে কী বলেছেন?

সত্য এটাও হতে পারে যে, তিনি এইধরনের কথা বলেছেন। কিন্তু তার প্রমাণ তো লাগবে, সেটা কোথায়? ‘মালাউনের বাচ্চা’ বলেছেন কিনা, তার প্রমাণ কিভাবে পাওয়া যেতে পারে, সেটা কি আমরা কখনও ভেবেছি? ভিডিওঅডিও নেই বলে প্রমাণও পাওয়া যাবে না, তাতো হয় না। যে যুগে ভিডিওঅডিও ছিল না, সেই যুগে কি এইধরনের কথাবার্তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি? এখনও কি খুনধর্ষণঅপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিচার হচ্ছে না অডিওভিডিও ভিত্তিক প্রমাণ ছাড়া? কী ভয়ানক সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি আমরা। কোনও কিছু প্রমাণ করতেও আমাদের প্রযুক্তি অডিওভিডিওর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

কেউ কিছু বললে তা সত্য/মিথ্যা যাচাই বাছাই করার আর কোনও উপায় আমাদের হাতে নেই? আর নেই বলে হঠাৎ কেউ একটা কিছু বললো বা ভুয়া ছবি দেখালো, আর তা নিয়ে মন্দিরে হামলা করবো? এতো ‘চিল কানে নিয়ে গেছে’ জগতে আবার ঢুকে পড়েছি আমরা! আমাদের নিজস্ব সকল বিচারবুদ্ধি এতটা কমে যাচ্ছে কেন, একবারের জন্যও কি ভেবে দেখেছি? যাচাইবাছাই এর জন্য এখন প্রযুক্তিই একমাত্র ভরসা?

মালাউনের বাচ্চা’ বলেছেন, এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই তার পদত্যাগের জন্য জোরালো দাবি করতে হবে। কিন্তু আমার শংকা হলো, যদি এই ধরনের কিছু না বলার পরও পদত্যাগ করতে হয় তাকে, তাহলে কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রজয়ী হয়ে যাবে। এইক্ষেত্রে রাজনীতির খেলাটা এতটা সহজ করে দেখার অবকাশ নেই! তাকে নিয়ে পদত্যাগের এই স্লোগানের ভিড়ে মূল আসামিরা পালিয়ে যাচ্ছে কিনা, তা কিন্তু কেউ ভাবছি না। এক্ষেত্রে মূল আসামিরা শক্তিশালী এবং খুব নগ্নভাবে ‘ধর্মের রাজনীতি’ করছেন, এটাও আমাদের বুঝতে হবে। গণমাধ্যমের কল্যাণে জানতে পারলাম, স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকজনই এই নগ্ন খেলায় জড়িত।

যে মুহূর্তে সারাদেশে আওয়ামী লীগ নিজেদের সুসংহত করতে যাচ্ছিল তৃণমুল হতে কেন্দ্র পর্যন্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে দলের একটি অংশের এই ধরনের সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে কী ধরনের হীন স্বার্থ জড়িত, তা খুব সুক্ষ্মভাবে বিচারবিশ্লেষণ করতে হবে। আজকে যদি এই ঘটনার আদ্যোপান্তো না জানা যায়, সামনের দিনগুলোতে নির্বাচন, মনোনয়ন, এবং নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে আরও খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করবে ষড়যন্ত্রকারীরা। মনে রাখতে হবে, ‘ধর্মের রাজনীতিএতটাই ভয়ানক এবং সংক্রামক ব্যাধি যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ষড়যন্ত্রের পুনরাবৃত্তি হলে সারাদেশ জুড়ে তা ছড়িয়ে পড়বে এবং তার ফায়দা লুটবে কেবলমাত্র ষড়যন্ত্রকারীরা।

অতএব নাসিরনগর নামক এই পুকুরের জল ঘোলা করা হয়েছে ‘ধর্মের রাজনীতি’ এবং ‘দলীয় রাজনীতির’ সংমিশ্রণে। ঘোলা এই জলে কে কাকে শিকার করতে চাইছে, তার পেছনের রাজনীতি আমাদের বুঝতে হবে। পুরো ঘটনার ভেতরেই পারস্পরিক সংযুক্ততাবিযুক্ততাক্ষমতার লড়াইনেতৃত্বমন্ত্রিত্বহাইব্রিডিটিটেন্ডারবাজিসহ আরও অনেক কিছুই জড়িত! সেই সম্পর্কগুলোকে তদন্তের মধ্য দিয়ে বের করে নিয়ে আসতে হবে।

আবার অন্যদিকে এটাও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, মন্ত্রী ছায়েদুল হক কেন দুইদিন সময় নিয়ে মুখ খুললেন? তিনিওবা সঙ্গে সঙ্গে এই দাবি করেননি কেন যে, তিনি এমনটি বলেননি? তবে কি তিনিও অডিওভিডিওর অপেক্ষায় ছিলেন? হতে পারে বয়সের কারণে রাজনিতির চাল তিনি বুঝতে পারছিলেন না। হতে পারে আরও অনেক কিছুই। তবে ফেসবুকে কেউ কেউ তার আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করছেন, তাদের প্রতি প্রশ্ন, এই আমরাই আবার তৃণমূল হতে নেতৃত্ব উঠে আসে না কেন, তা নিয়ে সমালোচনা করি না? ভাষার শুদ্ধতাঅশুদ্ধতা দিয়ে নয়, বরং ব্যক্তি মানুষের জ্ঞানপ্রজ্ঞাবিনয়ব্যক্তিত্বভদ্রতাসততাএকাগ্রতানেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাএসব মিলিয়েই একজন নেতা। সেসব মাপকাঠিতে তাকে বিবেচনা করাই উত্তম হবে। সেই বিবেচনায় তার অবস্থান কোথায়, তাও দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

সবশেষে বলবো, যখন অডিওভিডিওর যুগ ছিল না, তখন কিভাবে এই ধরনের ইস্যুতে প্রমাণ মিলতো তা নিয়ে ভাবার দরকার। এই নিয়ে একটা নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা যেতে পারে, যারা উপস্থিত জনতা কিংবা নেতাকর্মীদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে একটি রিপোর্ট দেবেন যে, মন্ত্রী আসলে সেদিন ভাষণে কী বলেছিলেন? তাহলে হয়তো কিছুটা সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের পথ পাওয়া যেতে পারে।

লেখক: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন, ৮ নভেম্বর ২০১৬

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: