প্রথম পাতা > ইসলাম, চিকিৎসা, ধর্মীয় > অ্যালকোহলযুক্ত ওষুধ কি নিষিদ্ধ?

অ্যালকোহলযুক্ত ওষুধ কি নিষিদ্ধ?

নভেম্বর 4, 2016 মন্তব্য দিন Go to comments

মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ : অ্যালকোহল এক জাতীয় মাদকদ্রব্য। বস্তুর পচন রোধ ও কার্যকারিতা হ্রাস না হওয়ার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। বর্তমান যুগে অ্যালকোহলমুক্ত ওষুধ পাওয়া এক কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশ্চাত্য দেশগুলোর প্রায় সব ওষুধেই অ্যালকোহল মেশানো হয়। কিন্তু বিষয়টি কেবল পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ওষুধের সঙ্গে অ্যালকোহল মেশানোর এ সমস্যা আজ প্রায় ইসলামী দুনিয়ার সব দেশেই বিদ্যমান। কিন্তু এর সমাধান কী? ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মাজহাব অনুসারে এর সমাধান খুবই সহজ। কেননা ইমাম আবু হানিফা ও আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে, আঙুর ও খেজুর ছাড়া অন্য বস্তু থেকে প্রস্তুতকৃত মাদকদ্রব্য ওষুধ হিসেবে এ পরিমাণ ব্যবহার করা বৈধ, যে পরিমাণ ব্যবহার করলে নেশা হয় না। (ফাতহুল কাদির, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ১৬০)

অন্যদিকে ওষুধের সঙ্গে যে অ্যালকোহল মিশ্রণ করা হয়, তার বেশির ভাগই প্রস্তুত করা হয় খেজুর, আঙুর ছাড়া অন্য বস্তু থেকে। যেমন—চামড়া, গন্ধক, মধু, শিরা, চাল, গম, ভাত ইত্যাদি অ্যালকোহল তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। (এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা : খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৪৪)

সুতরাং ওষুধে ব্যবহৃত অ্যালকোহল যদি আঙুর ও খেজুর ছাড়া অন্য বস্তু থেকে প্রস্তুত হয়ে থাকে, তাহলে ইমাম আবু হানিফা ও আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে, ওষুধ হিসেবে তা ব্যবহার করা যাবে। তবে শর্ত হলো, সে ওষুধ যেন নেশাকর না হয়। তবে অ্যালকোহল যদি আঙুর ও খেজুর দ্বারাই প্রস্তুত করা হয়, তাহলে তার দ্বারা প্রস্তুতকৃত ওষুধ ব্যবহার করা নাজায়েজ। কিন্তু স্মরণ রাখতে হবে, কোনো মাদকদ্রব্য বা অ্যালকোহল এমনভাবে মিশ্রণ করা হয় যে এর মাধ্যমে তাতে মাদকদ্রব্যের অস্তিত্ব লোপ পেয়ে যায়, আর যে রোগের জন্য ওই ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা ছাড়া যদি রোগমুক্তির জন্য বিকল্প ওষুধ পাওয়া না যায়, তাহলে তখন চিকিৎসাস্বরূপ ওই ওষুধ ব্যবহার করা বৈধ। এ প্রসঙ্গে আল্লামা রমলি (রহ.) লিখেছেন : এমন মাদকদ্রব্য, যা অন্য ওষুধের সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে তার প্রকৃত অস্তিত্ব নিঃশেষ হয়ে গেছে, এজাতীয় ওষুধের দ্বারা চিকিৎসা করা বৈধ। যেমন—অন্যান্য নাপাক বস্তুর ক্ষেত্রেও একই বিধান রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত হলো, চিকিৎসাশাস্ত্রে ওই ওষুধের দ্বারা রোগ নিরাময় প্রমাণিত হতে হবে, কিংবা পরহেজগার কোনো ডাক্তারকে ওই ওষুধের উপকারিতা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে অবগত করতে হবে। এরই সঙ্গে ওই ওষুধ ছাড়া রোগ নিরাময়ের আর কোনো বিকল্প পবিত্র ওষুধ না থাকতে হবে। (নিহায়াতুল মুহতাজ : খণ্ড, পৃষ্ঠা : ১২)

আর ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ও ইমাম মালেক (রহ.)-এর মাজহাব অনুসারে, একান্ত নিরুপায় ও অপারগ অবস্থা ছাড়া অন্য কোনো অবস্থায় হারাম বস্তু দ্বারা চিকিৎসা জায়েজ নেই।

বর্তমান যুগে যেহেতু এ জাতীয় ওষুধের ব্যবহার ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, এ জন্য এ ব্যাপারে হানাফি ও শাফেয়ি মাজহাব অনুসারে এ জাতীয় ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ আছে। এ ছাড়া বিষয়টি সমাধানের আরো একটি পন্থা অবলম্বন করা যেতে পারে। আর তা হলো, যখন ওষুধে অ্যালকোহল মিশ্রিত করা হয়, তখন দেখতে হবে যে অ্যালকোহল মিশ্রণের পর ওষুধের মধ্যে এর কোনো অস্তিত্ব অবশিষ্ট আছে কি না? যদি অ্যালকোহলের অস্তিত্ব একেবারেই নিঃশেষ হয়ে যায়, তাহলে এ অবস্থায় সব ইমামের ঐকমত্যের ভিত্তিতে তা ব্যবহার করা বৈধ। কেননা শরাব বা মদ যখন শিরকায় রূপান্তরিত হয়, তখন শরাবের অস্তিত্ব পরিবর্তন হওয়ার কারণে তা ব্যবহার করা জায়েজ আছে। (ফিকহি মাকালাত : খণ্ড, পৃষ্ঠা : ২৫৫)

লেখক : বিশিষ্ট ইসলামী গবেষক

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: