প্রথম পাতা > জীবনী, বাংলাদেশ, মিডিয়া > ফজলে লোহানী সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চার পথিকৃৎ

ফজলে লোহানী সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চার পথিকৃৎ

অক্টোবর 30, 2016 মন্তব্য দিন Go to comments

fazle-lohani-familyশাকিব লোহানী : লেখক, সাংবাদিক ও টিভি উপস্থাপক ফজলে লোহানী সম্বন্ধে জানতে গেলে তার শৈশব ও পারিবারিক বেড়ে ওঠার পরিমণ্ডলের ওপর কিছুটা আলোকপাত করা প্রয়োজন।

তৎকালীন অবিভক্ত ভারতে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, চৌধুরী মুহাম্মদ ইয়াকুব আলী ও আবু লোহানীর মতো বাঙালি বুদ্বিজীবী ও দিকপাল সাহিত্যিকদের উৎসাহউদ্দীপনা ও আন্তরিক পরিশ্রমে ‘বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতি’ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পরবর্তী সময়ে ১৯১৭১৮ সালে গঠিত কমিটিতে আবু লোহানী অন্যতম সহকারী সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং মাত্র ৩৭ বছর বয়সে ১৯২৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

মৃত্যুকালে আবু লোহানী তিন সন্তান রেখে যান। ফতেহ লোহানী, হুসনা বানু খানম ও ফজলে লোহানী। ফজলে লোহানী ছিলেন সবার ছোট, মাত্র এক বছর বয়সে তিনি বাবাকে হারান। মা, ফাতেমা লোহানী ছিলেন শিক্ষিতা, ধৈর্যশীলা প্রত্যয়দীপ্ত নারী। কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি নিয়ে তিনি সন্তানদের লালনপালন ও সুষ্ঠু শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি নিয়মিত সাহিত্যচর্চাও করতেন।

সাহিত্যনুরাগী আবু লোহানী ও ফাতেমা লোহানীর মতো পিতামাতার সংসারে ফজলে লোহানী কৈশোর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি ও সাহিত্য অঙ্গনের মহান ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ পান। ১৯২৮ সালের ১২ মার্চ ফজলে লোহানীর জন্ম। তার পুরো নাম ছিল আবু নাঈম মোহাম্মদ ফজলে আলী খান লোহানী।

স্কুল জীবনের পড়াশোনা শেষ করে ফজলে লোহানী পদার্থবিদ্যায় অনার্স নিয়ে ভর্তি হলেন প্রেসিডেন্সি কলেজে। ফাইনাল পরীক্ষায় অত্যন্ত ভালো ফলাফলের জন্য তাকে গোল্ড মেডেল দেয়া হয়। পাক ভারত বিভক্তির পর তিনি পূর্ব পাকিস্তানে এসে উচ্চতর শিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার আগেই তিনি সদ্যস্বাধীন দেশে শিল্পসাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

পিতা আবু লোহানীর পদচিহ্ন অনুসরণে ১৯৪৯ সালে তার সাংবাদিকতা জীবনের শুরু হয় তদানীন্তন পাকিস্তান অবজারভারে সহসম্পাদক হিসেবে। বাংলা এবং ইংরেজি উভয় ভাষায় সাবলীল ও পারদর্শী সুপণ্ডিত ফজলে লোহানী ১৯৫১ সালে যোগদান করেন দৈনিক সংবাদে। তিনি ছিলেন দৈনিক সংবাদের প্রতিষ্ঠাতা সহসম্পাদক। এরপর ফজলে লোহানী ইংরেজি দৈনিক ‘দি পাকিস্তান পোস্ট’ এর বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন।

তাসিকুল আলম খান, মুস্তাফা নূরউল ইসলাম ও ফতেহ লোহানীর সঙ্গে মিলে ১৯৫৩ সালে বের করেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সাহিত্যসংস্কৃতি অঙ্গনে প্রভাব বিস্তারি মাসিক পত্রিকা ‘অগত্যা’। পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে মাসিক ‘অগত্যা’ ছিল প্রগতিশীল এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। এর রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক রচনাবলি অল্প সময়ের ভেতর সমাজসচেতন পাঠকদের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এক সময় ‘অগত্যা’ জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যায়। ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও সামাজিক প্রভাবে ভীত হয়ে তদানীন্তন পাকিস্তান সরকার এর প্রকাশনা নিষিদ্ধ করে।

আধুনিক বাংলাসাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান তার আত্মজীবনী ‘কালের ধুলায় লেখা’য় অগত্যা সম্বন্ধে লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তে মনে পড়ছে, একদা সাড়া জাগানো ফজলে লোহানী সম্পাদিত মাসিক ‘অগত্যা’র কথা। এ পত্রিকাটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন ফজলে লোহানীর অগ্রজ ফতেহ লোহানী। মুস্তাফা নূরউল ইসলাম ‘অগত্যা’র অন্যতম চালিকাশক্তি ছিলেন। ফজলে লোহানী এবং মুস্তাফা নূরউল ইসলামের লেখনী থেকে নিঃসৃত হতো অনেক রসালো রচনা, নানা চুটকি। ফতেহ লোহানী ছদ্মনামে নিয়মিত লিখতেন অনুজের পত্রিকায়। সেসব লেখায় প্রচুর হাসিমশকরা থাকত। বহু পাঠক ‘অগত্যা’ পড়তেন বিমল আনন্দ লাভের জন্য। হাসিমশকরা উদ্দিষ্ট ব্যক্তিরা বেজায় চটতেন, সন্দেহ নেই। ১৯৫২’র বাংলা ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারীদের ভেতর ফজলে লোহানী ছিলেন একজন অগ্রণী সৈনিক। এ সময় তিনি রচনা করেন বহুল আলোচিত কবিতা ‘একুশের কবিতা’। ‘একুশের কবিতা’ সুরকার খান আতাউর রহমানের সুরে জনপ্রিয় গানে পরিণত হয় এবং দেশবাসী ব্যাপকভাবে একুশের চেতনাকে উজ্জীবিত করে।

সেই কবিতার কয়েকটি পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করছি

শীতল পৃথিবী, অবশ নগর,

অসাড় আকাশ, বাতাস নিথর,

ফুটপাতে শুধু ছড়িয়ে আছে জীবনের সব রেণুকণা যত।

রোদগুলো সব ছড়িয়ে পড়েছে, বিছিয়ে রয়েছে ঘাসের মতন,

পলাশ ফুলের ডগায় ডগায়, ল্যাম্পপোস্টের উঁচু কোণটায়।

একুশে বিকেল।

মৃত্যু হয়েছে আজকে ওদের।

বোবা পাখিগুলো পাখা ঝাপটায়।

একুশে রাতের আঁধার নামে সব শহরের গলি খুঁজিতে

গাঁয়ের বাঁকা পথগুলোতে,

রেল কলোনিতে, কেরানীর ঘরে, কিষানের ঘরে।

ঘরে নয় শুধু। সবার বুকে

আঁধার নেমেছে।

আজকে তাদের মৃত্যু হয়েছে তাই শুনে

সব স্তব্ধ পাষাণ।

ফজলে লোহানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এবং টেলিভিশনের একজন অসাধারণ উপস্থাপক হিসেবে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তার শিক্ষা ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান ‘যদি কিছু মনে না করেন’ এর কথা আজও অনেকের মনে পড়ে।’

স্বাধীনতা পূর্ব বাংলাদেশে (পূর্ব পাকিস্তান) সাহিত্য ও সাংবাদিকতার উভয় ক্ষেত্রে তার উপস্থিতি ছিল গুরুত্বপূর্র্ন। তিনি বেশ কয়েকটি ইংরেজি উপন্যাসের অনুবাদক। ১৯৬৯৭০ সালে ‘দৈনিক বাংলা (তদানীন্তন দৈনিক পাকিস্তানে) ফজলে লোহানীর আলোড়ন সৃষ্টিকারী ধারাবাহিক প্রতিবেদন ‘মহীপুরের প্রান্তর’ ও ‘এই দেশেতে জন্ম আমার’ প্রকাশিত হয়। মওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর লেখা তার দুটি সিরিজ নিবন্ধ বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে। ছোটগল্প রচনায় তার চমৎকার হাত ছিল। কয়েকটি সাইন্স ফিকশনও লিখেছেন। তার বেশকিছু গল্প উপন্যাস অপ্রকাশিত রয়ে গেছে।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি ও সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হকের সঙ্গে ফজলে লোহানীর ছিল গভীর বন্ধুত্ব। সব্যসাচী কবি সৈয়দ শামসুল হক বিভিন্ন লেখায় বিশেষ করে ‘তিন পয়সার জ্যোৎস্না’ উপন্যাসে বারবার করে তার জীবনে ফজলে লোহানীর বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও সাহিত্যমনন বিকাশে গভীর প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন। সৈয়দ শামসুল হকের স্মৃতিচারণ বর্ণনায় সাহিত্যসংস্কৃতির অনেক মূল্যবান তথ্য ও ইতিহাস উঠে এসেছে, যেখানে ফজলে লোহানীর ছিল দৃপ্ত পদচারণা। ৫০ থেকে ৬০এর দশক, যে সময়টিকে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ ও পরিস্ফুটনের স্বর্ণযুগ বলা হয়।

কবি সৈয়দ শামসুল হক তরুণ বয়সে তার সাহিত্যচর্চায় কথা বলতে গিয়ে লিখেছেন, ‘কলকাতার অচলপত্রদীপ্তেন্দ্রকুমার সান্যালের সম্পাদনায় আর ঢাকার অগত্যা ফজলে লোহানীর সম্পাদনায়, তখন এ দুই পত্রিকা লোকের হাতে হাতে, ব্যঙ্গ বিদ্রূপ খোঁচামশকরা আর দারুণ সব রোমান্টিক গল্প এদের পাতায় পাতায়। অচলপত্র আমি খান মজলিশের ফুটপাত স্টলে দাঁড়িয়ে দুএক পাতা পড়ি, কেনার তত রেস্ত নেই; কিন্তু পয়সা জমিয়ে রাখি অগত্যার জন্য, কী সব লেখা অগত্যায়! বারবার পড়েও আশ মেটে না, কলমের খোঁচায় খোঁচায় প্রতি সংখ্যায় ধরাশায়ী হয়ে পড়ছে পাকিস্তানের তল্পিবাহকরাগল্পের একটা জগৎ খুলে দিচ্ছে যেখানে আধুনিক ও শহুরে বাঙালি মুসলিম চরিত্রদের এ প্রথম আমি দেখে উঠছিতবে এটাও নয়, বড় যে বিশাল কাজটা করেছিল অগত্যাপাকিস্তানটা যে বিশাল একটা ভুয়া আর ইসলামী জোশে লাফানো মানুষগুলো যে আসলে আপনাফায়দা লোটার মানুষ, এই সত্যটা রঙ্গরসের মাধ্যমে সেদিন খুব পরিষ্কার করেই আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছিল অগত্যা’।

আমার প্রথম লেখা যিনি ছেপেছিলেন, যিনি আমাকে জীবনযাপনের ও লেখার ভেতর দিয়ে বড় হওয়ার অনেক পাঠই দিয়েছিলেন, আমাদের সাহিত্যসংসারে সেই এখন অনেক দিন থেকেই বিস্মৃত। ফজলে লোহানী আমাকে ইংরেজি সাহিত্যের বই একটার পর একটা জুগিয়ে যেতেন, তাড়া দিতেন দ্রুতই শেষ করবার জন্য।

টেলিভিশন সাংবাদিকতায় তার প্রোজ্জ্বল ভূমিকা বিস্মৃত হওয়ার নয়। বিশাল হৃদয়ের সাহসী মানুষটি ছিলেন তীক্ষè মেধা ও বুদ্ধির দীপ্তিতে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো। তিনি ছিলেন রুচিবান, উন্নত চিন্তার মানুষ।’

যদি কিছু মনে না করেন’, বিটিভিতে সুদীর্ঘ ৬ বছর কাল ধরে চলা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান তাকে তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

আকর্ষণীয় উপস্থাপন, সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় মানবিক আবেদনময়ী বিষয়বস্তুর জন্য ‘যদি কিছু মনে না করেন’ সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দেশের সব শ্রেণীর আমলা, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের টেলিভিশনের পর্দার কাছে নিয়ে এসেছিল। টেলিভিশন অনুষ্ঠানের জনপ্রিয়তার অনন্য নজির সৃষ্টির পাশাপাশি এটি একটি সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করে।

১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘যদি কিছু মনে না করেন’ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করে ১৯৮৫ সালের ৩০ অক্টোবর তার মৃত্যুতে সমাপ্তি টানে। টেলিভিশনের কোনো ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান যে বিনোদনের পাশাপাশি দর্শক জীবনে এতটা ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করতে পারে তা হয়তো এ দেশের মানুষের জানা ছিল না।

৫০এর দশকে ফজলে লোহানী সম্পাদিত সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা ‘অগত্যা’ যেমন রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক রচনাবলির মাধ্যমে সমাজ সচেতন মানুষের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পেরেছিল, তেমনি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ৮০এর দশকে তার উপস্থাপনা, সম্পাদনা ও নির্দেশনায় তৈরি টিভি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘যদি কিছু মনে না করেন’ লাখো দর্শকদের জীবনকে বিপুলভাবে আলোড়িত করে, সচেতন করে এবং সংবেদনশীল হয়ে উঠতে উজ্জীবিত করে।

লন্ডনে, বিবিসিতে কর্মরত সময়ে সুদর্শনা শিক্ষিতা ব্রিটিশ নারী এলিজাবেথ হডজিনসের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয় এক সময় প্রণয়ে গড়ায়। ১৯৫৯ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ফজলে লোহানীর ঘটনাবহুল বৈচিত্র্যময় জীবনে এলিজাবেথ ছায়ার মতো সব সময় পাশে ছিলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি এলিজাবেথকে নিয়ে ঢাকায় আসেন। সমাজবাদী চেতনায় বিশ্বাসী ফজলে লোহানী মওলানা ভাসানীর অনুসারী হিসেবে দেশের কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এসময় বাম রাজনীতির দীক্ষায় উজ্জীবিত এলিজাবেথ লোহানী মাথায় লাল কাপড় বেঁধে দলের বিভিন্ন কর্মী সম্মেলনে যোগ দিতেন।

রাজনৈতিক কারণে ফজলে লোহানীকে অনেকবার পুলিশি নির্যাতনের শিকার হতে হয়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রথমে ভারতে যান এবং পরবর্তী সময়ে লন্ডনে একজন সক্রিয় মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে তিনি কর্মতৎপর ছিলেন। স্বাধীনতা উত্তরকালে ফজলে লোহানী ভাষানী ন্যাপে যোগদান করেন এবং ১৯৭৩ সালে ভাসানী ন্যাপের টিকিটে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে ফজলে লোহানীর নির্বাচন প্রচারণায় এলিজাবেথ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালে রাজনৈতিক কারণে ফজলে লোহানী গ্রেফতার হলে তিনি ওয়ার্ল্ড ভিশনে যোগদান করেন। ফজলে লোহানীর মৃত্যুর পর এক সাক্ষাৎকারে এলিজাবেথ বলেন, ‘আমি সত্যিই ভাগ্যবতী এ কারণে, ফজলে লোহানীকে বিয়ে করে আমি দুস্থ মানুষের সেবায়ই আত্মনিয়োগ করতে পেরেছিলাম। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন খুবই পরিশ্রমী, তাকে কখনও রাগতে দেখিনি।’

৫০এর দশকে তার সম্পাদিত মাসিক পত্রিকা ‘অগত্যার’ সামাজিক প্রভাবে ভীত হয়ে তদানীন্তন পাকিস্তান সরকার তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ৮০এর দশকে স্বাধীন বাংলাদেশে সমাজের অসংলগ্নতা, অনিয়ম এবং অবিচার সাধারণ মানুষের কাছে সাহসিকতার সঙ্গে উপস্থাপন করে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন ফজলে লোহানী। তার অনেক প্রতিবেদন সমাজ জীবনে যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল এ দেশের মানুষ তা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। তার কর্মময় জীবনের স্মৃতিগাথা এমনি উজ্জ্বল হয়ে অম্লান থাকুক চিরদিন আমাদের সবার হৃদয়ে।

সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর, ২৮ অক্টোবর ২০১৬

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: