প্রথম পাতা > ইসলাম, জীবনী, ধর্মীয়, বাংলাদেশ, বিনোদন > ভাওয়াইয়া গানের সম্রাট আব্বাস উদ্দীন আহমদ

ভাওয়াইয়া গানের সম্রাট আব্বাস উদ্দীন আহমদ

অক্টোবর 27, 2016 মন্তব্য দিন Go to comments

abbasuddin-ahmad-5বাংলা লোকসংগীতের অন্যতম প্রধান গায়ক আব্বাস উদ্দীন আহমদ। আধুনিক গান, স্বদেশী গান, ইসলামি গান, পল্লীগীতি, উর্দু গান সবই তিনি গেয়েছেন। তবে পল্লীগীতিতে তার মৌলিকত্ব ও সাফল্য সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ভাওয়াইয়া গানের ক্ষেত্রে তার কণ্ঠের জাদু দেশের সংগীত ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে ব্যাপকভাবে। তাই তাকে বলা হয়ে থাকে ভাওয়াইয়া সম্রাট। বিশ্বময় বাংলা গানের পরিচিতি বিস্তৃত হয়েছে যে কজন সংগীত স্রষ্টার অতুলনীয় সব সৃষ্টির মাধ্যমে আব্বাস উদ্দীন আহমদ তাদের মধ্যে অন্যতম।

বরেণ্য এ মানুষটির জন্ম ১৯০১ সালের ২৭শে অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ মহকুমার বলরামপুর গ্রামে। তার পিতা জাফর আলী আহমদ ছিলেন তুফানগঞ্জ মহকুমা আদালতের উকিল। বলরামপুর স্কুলে আব্বাস উদ্দীনের শিক্ষা জীবন শুরু হয়। ১৯১৯ সালে তুফানগঞ্জ স্কুল থেকে তিনি প্রবেশিকা এবং ১৯২১ সালে কুচবিহার কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। এখান থেকে বিএ পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়ে তিনি সংগীত জগতে প্রবেশ করেন। এ জগতে তার ছিল না কোন ওস্তাদের তালিম। আপন প্রতিভাবলে নিজেকে সবার সামনে তুলে ধরেন।

তিনি প্রথমে ছিলেন পল্লী গানের একজন গায়ক। যাত্রা, থিয়েটার ও স্কুলকলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান শুনে তিনি গানের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন এবং নিজ চেষ্টায় গান গাওয়া রপ্ত করেন। এরপর কিছু সময়ের জন্য তিনি ওস্তাদ জমিরউদ্দীন খাঁর কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীত শিখেছিলেন। রংপুর ও কুচবিহার অঞ্চলের ভাওয়াইয়া, ক্ষীরোল এবং চটকা গেয়ে আব্বাস উদ্দীন প্রথমে সুনাম অর্জন করেন। তারপর জারি, সারি, ভাটিয়ালি, মুর্শিদি, বিচ্ছেদি, দেহতত্ত্ব, মর্সিয়া, পালাগান ইত্যাদি গেয়ে জনপ্রিয় হন।

তিনি তার দরদভরা সুরেলা কণ্ঠে পল্লী গানের সুর যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন তা আজও অদ্বিতীয়। তিনি কাজী নজরুল ইসলাম, জসীমউদ্দীন, গোলাম মোস্তফা প্রমুখের ইসলামী ভাবধারায় রচিত গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন। আব্বাস উদ্দিন ছিলেন প্রথম মুসলমান গায়ক যিনি আসল নাম ব্যবহার করে এইচ এম ভি থেকে গানের রেকর্ড বের করতেন। রেকর্ডগুলো ছিল বাণিজ্যিকভাবে খুব সফল। তাই অন্য ধর্মের গায়করা মুসলমান ছদ্মনাম ধারণ করে গান করতে থাকেন।

আব্বাস উদ্দীন আহমদ ১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কলকাতায় বসবাস করেন। প্রথমে তিনি রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ডিপিআই অফিসে অস্থায়ী পদে এবং পরে কৃষি দপ্তরে স্থায়ী পদে কেরানির চাকরি করেন। এ কে ফজলুল হকের মন্ত্রীত্বের সময় তিনি রেকর্ডিং এক্সপার্ট হিসেবে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন। চল্লিশের দশকে আব্বাস উদ্দীনের গান পাকিস্তান আন্দোলনের পক্ষে মুসলিম জনতার সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশ বিভাগের পর (১৯৪৭ সালে) ঢাকায় এসে তিনি সরকারের প্রচার দপ্তরে এডিশনাল সং অর্গানাইজার হিসেবে চাকরি করেন। পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে ১৯৫৫ সালে ম্যানিলায় দক্ষিণপূর্ব এশীয় সংগীত সম্মেলন, ১৯৫৬ সালে জার্মানিতে আন্তর্জাতিক লোকসংগীত সম্মেলন এবং ১৯৫৭ সালে রেঙ্গুনে প্রবাসী বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনে তিনি যোগ দেন।

ব্বাস উদ্দীন আহমদ গানের জগতে বিচরণের পাশাপাশি সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন। মোট ৪টি বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সিনেমাগুলো হচ্ছে ‘বিষ্ণুমায়া’ (১৯৩২), ‘মহানিশা’ (১৯৩৬), ‘একটি কথা’ ও ‘ঠিকাদার’ (১৯৪০)। ‘ঠিকাদার’ ছবিতে তিনি একজন কুলির ভূমিকায় অভিনয় করেন। তখনকার দিনে মুসলমান ব্যক্তির সিনেমা করা ছিল একটা ব্যতিক্রম ঘটনা। তাই হয়তো ‘বিষ্ণুমায়া’ ছবিতে অভিনয়ের পরও এর ভূমিকা লিপিতে আব্বাস উদ্দিনের নাম ছিল না। যার তথ্য সংগৃহীত হয়েছিল কানন দেবীর কাছ থেকে।

আমার শিল্পীজীবনের কথা’ (১৯৬০) আব্বাস উদ্দীনের রচিত একমাত্র গ্রন্থ। সংগীতে অবদানের জন্য তিনি মরণোত্তর প্রাইড অব পারফরমেন্স (১৯৬০), শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭৯) এবং স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (১৯৮১) ভূষিত হন। ১৯৫৯ সালের ৩০শে ডিসেম্বর পল্লীগানের এ কিংবদন্তি মৃত্যুবরণ করেন। তার সন্তান মুস্তাফা জামান আব্বাসী এবং ফেরদৌসী রহমানও দেশের খ্যাতিমান শিল্পী।

সূত্রঃ মানবজমিন, ২০১৬১০২৭

shere-bangla-by-abbasuddin

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: