প্রথম পাতা > ইতিহাস, বাংলাদেশ, ভ্রমণ, শিল্প > রানী ভবানীর ‘নাটোর রাজবাড়ি’

রানী ভবানীর ‘নাটোর রাজবাড়ি’

অক্টোবর 25, 2016 মন্তব্য দিন Go to comments

rani-vabani-natore-rajbariনাজমুল হাসান : নাটোর রাজবাড়ি’ নাটোরসহ সারা বাংলাদেশের গৌরব। এই বাড়িতে বসেই এক সময় অর্ধেক বাংলা শাসন করেছেন নাটোর রাজবংশের উজ্জ্বলতম চরিত্র রানী ভবানী। বর্তমানে বাড়িটি পর্যটনস্থল হয়ে উঠেছে। অবসর সময় কাটাতে এখানে স্থানীয়রা ছাড়াও দূরদূরান্তের অনেক ভ্রমণপিপাসু আসেন। যান্ত্রিক নগরীর কোলাহল থেকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতেই এখানে আসেন তারা।

নাটোর শহর থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত রানী ভবানীর রাজবাড়ি। পাঁচ টাকা দর্শনীর বিনিময়ে রাজবাড়ির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। পর্যটকরা মুগ্ধদৃষ্টিতে দেখেন ছায়াঘেরা বিভিন্ন গাছপালা শোভিত ও কারুকার্য খচিত ভবন, পুকুর, দৃষ্টিনন্দন মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

রাজবাড়ি ঘুরতে আসা ফারজানা কেয়া জানান, যান্ত্রিক জীবনে ছায়াঘেরা বৃক্ষশোভিত রাজবাড়িতে এলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। দর্শনার্থী মেহেদী হাসান জানান, ইতিহাস জানতে এসেছি। নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, নাটোরকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য রাজবাড়ি সংস্কারে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। ইতোমধ্যে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৭০৬১৭১০ সালের মধ্যে পঞ্চাশ একর জমির ওপর গড়ে উঠে ‘অর্ধ বঙ্গেশ্বরী’ খ্যাত নাটোরের রানী ভবানীর রাজবাড়ি। রাজবাড়ির চারদিকে পরিখা দিয়ে ঘেরা, মূল রাজপ্রাসাদ দুটি ছাড়াও রয়েছে ছোটবড় অনেক ভবন, রয়েছে পাঁচটি পুকুর, মন্দির, মৃত্যুকূপসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

কামদেবের ছেলে রামজীবন এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। বাংলার নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁর সময়ই মূলত রানী ভবানীর ‘অর্ধ বঙ্গেশ্বরী’ খ্যাতি লাভ এবং রাজবাড়ির প্রসার হয়। অর্ধ বঙ্গেশ্বরী রানী ভবানী রাজ্যের শাসনভার নিজ হাতে তুলে নেওয়ার পর থেকেই সফলভাবে রাজ্য পরিচালনা করেন। দেশবাসীর কাছে এমনকি ইংরেজদের কাছেও রানী ভবানী ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্রী।
কথিত আছে, পলাশীর যুদ্ধে রানী ভবানী সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে সৈন্য পাঠিয়েছিলেন। এও শোনা যায় যে, নবাব সিরাজউদ্দৌলা রানী ভবানীর মেয়ে তারাসুন্দরীকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন।

রানী ভবানীর গর্ভে দুই পুত্রসন্তান ও এক কন্যাসন্তান জন্মে। কিন্তু দুই ছেলের অকাল মৃত্যু হলে ১৭৫১ সালে রানী ভবানী রামকৃষ্ণকে দত্তকপুত্র হিসেবে নেন। রামকৃষ্ণ ও রানী ভবানীর মৃত্যুর পর রাজবাড়ি দু’অংশে ভাগ হয়ে যায়। রানী ভবানীর দত্তকপুত্র রামকৃষ্ণের দু’ছেলে বিশ্বনাথ পিতার ক্ষুদ্র জমিদারির মালিক হন এবং শিবনাথ লাভ করেন দেবোত্তর সম্পত্তি। এ সময় থেকেই নাটোর রাজবংশ বড় তরফ ও ছোট তরফ নামে পরিচিত হয়। ১৯৮৫ সালে এটার একাংশকে যুবপার্ক হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। তারপর এখানে গড়ে তোলা হয় শিশুপার্ক ও পিকনিক স্পট, আনন্দ ভবনসহ বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য।
ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রাজবাড়িতে নেই রাজা। নেই অর্ধ বঙ্গেশ্বরী, যাকে নাটোরের মানুষজন এখনও বঙ্গমাতা বলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

সূত্রঃ দৈনিক সকালের খবর, ২৪ অক্টোবর ২০১৬

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: