প্রথম পাতা > অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক, বাংলাদেশ, রাজনীতি > চীন ও ভারতের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখা

চীন ও ভারতের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখা

অক্টোবর 15, 2016 মন্তব্য দিন Go to comments

জামাতশিবির ও অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলো চীনা রাষ্ট্রপতির সফরকালে চীনে মুসলমানদের উপর দমনপীড়নের ব্যাপারে কোন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেনি বা প্রতিবাদ করেনি । কোনো ?

xi-visit-bd

চীনের সঙ্গে কাজ করছি, ভারতের সঙ্গেও: আশরাফ

ভারতচীন সম্পর্ক শীতল হলেও দুই দেশের সঙ্গেই সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সরকার চীনের সঙ্গে যেমন কাজ করছে, তেমনি ভারতের সঙ্গেও কাজ করছে। আজ শনিবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে বিদায় জানানোর পর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দুই দিনের সফরে গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকায় আসেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। আজ সকাল ১০টার পরে তিনি ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

চীনের প্রেসিডেন্টের এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশচীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উঠেছে বলে আলোচনা চলছে সর্বত্র। এদিকে এ সরকারের সঙ্গে ভারতেরও সুসম্পর্ক রয়েছে। অথচ বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের সঙ্গে এশিয়ার বিশাল আকৃতির দেশ ভারতের সম্পর্ক তত মধুর নয়। বিশেষ করে সম্প্রতি পরমাণুপ্রযুক্তি সরবরাহের অভিজাত গোষ্ঠী নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপে (এনএসজি) ভারতের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চীনের বিরোধিতা এ সম্পর্ককে আরও শীতল করেছে। চীনের কারণেই ভারত বহু বছর ধরে চেষ্টা করেও এনএসজির সদস্য হতে পারছে না বলে দাবি করা হয়। ফলে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, এ প্রশ্ন রাখা হয় জনপ্রশাসনমন্ত্রীর কাছে। জবাবে মন্ত্রী বলেন, সবার সঙ্গেই সম্পর্ক রাখতে হবে। একা কোনো কিছুই করা সম্ভব না। সরকার চীনের সঙ্গে যেমন কাজ করছে, তেমনি ভারতের সঙ্গেও কাজ করছে।

সৈয়দ আশরাফ বলেন, চীন এখন পরাশক্তি। এটা মেনে নিতে হবে। এখন পর্যন্ত দেখা গেছে, চীন গঠনমূলক। এখানে চীনকে নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। চীনের সঙ্গে পাঁচসাত বছর ধরে সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে। পশ্চিমা বিশ্ব বলে বেশি, বাস্তবায়ন করে খুবই কম। তবে চীন বাস্তবায়নে খুব তৎপর। কোনো সময়েই ফাঁকি দেয় না। চীনের প্রেসিডেন্টের দুই দিনের সফরকে সফল উল্লেখ করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘কত টাকা দিল? কত চাল দিল? কত ডাল দিল? এটা নিয়ে খোঁচাখুঁচি করতে পারেন। বিষয়টা হলো সংযোগ। চীন আমাদের সঙ্গে আছে। এটাই মূল বিষয়।’

মিয়ানমারের সঙ্গে বিরাজমান সমস্যাগুলো চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, মিয়ানামার আর বাংলাদেশ এক নয়। এই ভূখণ্ড মিয়ানমারের চেয়ে অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ ভূখণ্ড কেউ অবহেলা করতে পারবে না। প্রয়োজন থেকেই চীন এ ভূখণ্ডকে গুরুত্ব দেয়। এ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, চীনের সঙ্গে শুধু বাণিজ্য নয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা, শিল্পসাহিত্য—সবকিছুই জড়িত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই অঞ্চলের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা। বাংলাদেশ এটাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

xi-tour-highlightsচীনের ১৩টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১ হাজার ৩৬০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশের ১১টি বেসরকারি ও ২টি সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। এসব চুক্তির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলো মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ করবে।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশচীন ব্যবসায়িক ফোরামের বৈঠকে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশে আসা ব্যবসায়ীদের নিয়ে যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) ও চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য উন্নয়ন কাউন্সিল (সিসিপিআইটি)। এতে চীনের প্রায় ৮৬ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ১৯টি চুক্তির একটি তালিকা দেওয়া হয়। পরে সংগঠনটির সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে সাংবাদিকদের জানান, মোট চুক্তি হয়েছে ১৩টি। চুক্তিতে অংশ নেওয়া চীনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে কিছু সরকারি ও কিছু বেসরকারি। বাকি চুক্তিগুলো হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাকিরা ট্রেন ধরতে পারেনি।’

স্টেডিয়াম নির্মাণের দুটি চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়। বাকি ১১টি চুক্তিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারেরা স্বাক্ষর করেন। বেসরকারি খাতের বেক্সিমকো, ওরিয়ন, মেঘনা গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ চুক্তিগুলো হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে অনুষ্ঠিত আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। যেসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো, তার ফলে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ অনেক বাড়বে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের জন্য একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হচ্ছে। এতে চীনা বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে পারবেন।’

বৈঠকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, সিরামিক ও চামড়া খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মুক্তাদির, ইপিলিয়ন গ্রুপের সিএসআর প্রধান রেজাউল কবির, চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট চং উ দং এতে বক্তব্য দেন। প্রশ্নোত্তরপর্বে বাংলাদেশের ব্যবসার পরিবেশসহ নানা বিষয়ে জানতে চান চীনের ব্যবসায়ীরা।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্যসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি সফিউল ইসলাম ও মাহবুবুল আলম উপস্থিত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার চীনের ৭টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের ব্যবসায়িক চুক্তি করে বাংলাদেশের ১৩টি কোম্পানি টাকার অঙ্কে যা প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। এ চুক্তির আওতায় মূলত বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো মূলত চীনে পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি করবে।

সই হওয়া উল্লেখযোগ্য চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক
=>
শিল্প উৎপাদনের বিষয়ে রূপরেখা চুক্তি
=>
কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণে রূপরেখা চুক্তি
=>
অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতার রূপরেখা চুক্তি

=> এক অঞ্চল, এক পথ

=> তথ্যপ্রযুক্তি
=>
সন্ত্রাসবাদ দমন

=> সামুদ্রিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা সমঝোতা স্মারক

ছয় প্রকল্পের ফলক উন্মোচন
=>
কর্ণফুলী নদীতে টানেল

=> শাহজালাল সার কারখানা

=> বাংলাদেশ ফোর টিয়ার ন্যাশনাল ডেটা সেন্টার

=> পায়রায় ১৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

=> চট্টগ্রামে ১৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

=> ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট

sino-bangla-comments

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: