প্রথম পাতা > অপরাধ, আন্তর্জাতিক, ইসলাম, ধর্মীয় > দক্ষিণ এশিয়ায় সৌদি-ইরান দ্বন্দ্ব

দক্ষিণ এশিয়ায় সৌদি-ইরান দ্বন্দ্ব

অক্টোবর 9, 2016 মন্তব্য দিন Go to comments

sunni-shia-3নীচের নিবন্ধে সুন্নী অপকর্মগুলো তেমন একটা তুলে ধরা হয়নি । যেমন, আইএস ধর্মীয় আদর্শগতভাবে সৌদী ওয়াহাবী সুন্নীপন্থী হওয়ায় শিয়াদের মাজারে আক্রমণ করে সেগুলো ধ্বংস করা এবং শিয়াদের হত্যা করা শিরকবিদআত উৎপাটন করে পুণ্য অর্জন করা মনে করে । সৌদীদের মিথ্যা প্ররোচনায় সিরিয়ার গৃহযুদ্ধকে সুন্নী বিশ্বে স্বৈরশাসক আসাদ সরকারের নিষ্ঠুর সুন্নী দমনপীড়ন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সে কারণে তাবৎ বিশ্বের সুন্নীদের সিরিয়ায় হিজরত করে সেখানে যুদ্ধ করা জিহাদ হিসেবে ফতোয়া দিয়ে রেখেছে । এতে উদ্ধুদ্ধ হয়ে সারা বিশ্ব থেকে সুন্নীরা দলে দলে সিরিয়ায় যেয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়েছে । অথচ মূল কারণ, আসাদ সরকার কর্তৃক কাতার এবং সৌদী আরবের থেকে গ্যাস পাইপ লাইন সিরিয়ার উপর দিয়ে টেনে নিতে অস্বীর্কতি জ্ঞাপন ! গালফভুক্ত দেশগুলোর সাথে ইঙ্গমার্কিনন্যাটোইইউ এতে যোগ দিয়েছে যাতে ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহে একাধিপত্য ক্ষুন্ন করে রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা যায় । প্রথমদিকে তুরস্ক ও জর্ডানের সহায়তায় আইএস সেসব কাজ ভালভাবে করলেও পরবর্তীতে আইএসএর সাথে বিভিন্ন বিরোধী দলগুলোর আপাত দূরত্ব সৃষ্টি হলে সৌদী সমর্থনপুষ্ট হিংস্র দলগুলো পৃষ্ঠপোষকতা পেতে শুরু করে । এই সুন্নী দলগুলোর মধ্যে আছে, আলনুসরা, আহরার আলশাম, আলকায়েদা, ফাইলাক আলশাম, জুন্দ আলআকসা, ইত্যাদি ।

মধ্যপ্রাচ্যের সৌদিইরান বিরোধ নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে আফগানিস্তান, ভারত, পাকিস্তানের মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। একদিকে, ইরাকসিরিয়ায় যুদ্ধের জন্য শিয়া যোদ্ধা সংগ্রহ, অন্যদিকে কট্টর সুন্নীপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে সৌদি আরবের অর্থায়নের ফলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে এই অঞ্চলে।

গত আগস্টে সিরিয়ায় যুদ্ধের জন্য আফগানিস্তানে শিয়া মিলিশিয়া সংগ্রহের সময় গ্রেপ্তার করা হয় এক ইরানিকে। গ্রেপ্তারকৃত কুরবান ঘালামবোর ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দপ্তরের একজন প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আফগানিস্তানের কর্মকর্তারা জানান, ইরানি রেভলিউশনারি গার্ড কোরের হয়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আলআসাদের পক্ষে যুদ্ধের জন্য পাকিস্তানি ও আফগান নাগরিকদের সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে করে শিয়াদের ওপর বিদ্বেষ বাড়ছে লড়াইরত সুন্নী যোদ্ধদের। এরই পরিপ্রেক্ষিতে, মধ্যপ্রাচ্যের মতো দক্ষিণ এশিয়ার শিয়ারাও শিকার হচ্ছে আইএসের হামলার। গত জুলাইয়ে মধ্য আফগানিস্তানবাসী শিয়া হাজারা সম্প্রদায়ের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালায় আইএস। পরবর্তী সময়ে আইএসের এক কমান্ডার সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘যদি তারা ইরানের দাস হয়ে সিরিয়ায় যাওয়া বন্ধ না করে, তাহলে আমরা অবশ্যই এমন হামলা অব্যাহত রাখব।কাবুলে ওই বোমা হামলায় ৮০ জন নিহত এবং ২৬০ জনের বেশি আহত হয়।

এছাড়া, দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রদায়িক উদ্বেগ উসকে দিচ্ছে সৌদি আরব বা উপসাগরীয় অন্য আরব দেশগুলো। আর তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এই অঞ্চলের বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেয়ারও অভিযোগ আছে দেশগুলোর বিরুদ্ধে। এমনই একটি কট্টর সুন্নীপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী লস্করজাংভি। গত বছরের অক্টোবরে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের জ্যাকোকাবাদে আশুরা অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী হামলা চালায় গোষ্ঠীটি। এতে ২৪ জন নিহত হন। উল্লেখ্য, সংগঠনটি আইএসের ঘনিষ্ঠ বলেও জানা গেছে।
দক্ষিণ এশীয় শিয়াদের ৫০০ ডলার মাসিক বেতন এবং স্থায়ীভাবে ইরানে বসবাসের প্রলোভন দেখিয়ে সিরিয়ায় নিয়ে যাচ্ছে রেভলিউশনারি গার্ড। আফগানিস্তানের তিন কোটি জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশই হাজারা গোষ্ঠী। ফার্সিভাষী এসব মানুষ শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো নথিপত্র ছাড়াই হাজারো আফগান শরণার্থী বর্তমানে ইরানের আশ্রয়ে রয়েছে। তারা প্রধানত আফগানিস্তানে যুদ্ধ বা বিচারব্যবস্থা থেকে পালিয়ে যাওয়া মানুষ।

সিরিয়ায় আফগান শিয়া যোদ্ধাদের মোতায়েন করা হচ্ছে ফাতেমিউন ডিভিশনে। ২০১৪ সালে গঠিত এই বাহিনীর সদস্য প্রায় ২০ হাজার। মূলত শিয়া পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা কাজেই তাদের নিয়োজিত করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এগুলোই আইএসের হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু। আরও জানা যায়, এই বাহিনীর প্রশিক্ষণ দেয় লেবাননভিত্তিক শিয়াপন্থী সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

একইভাবে পাকিস্তান থেকে সংগ্রহ করা শিয়া যোদ্ধাদের স্থান দেয়া হয় জয়নাবিউন ব্রিগেডে। সিরিয়ায় এরা হিজবুল্লাহ পাকিস্তাননামে পরিচিত। ২০১৪ সালের জুন মাসে প্রায় ৩০ হাজার ভারতীয় শিয়া স্বেচ্ছাসেবী ইরাকে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নেয়। তাদেরও দায়িত্ব ছিল শিয়া পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা কাজে অংশগ্রহণ। এসব স্বেচ্ছাসেবীর মধ্যে আছেন ব্যাংকার, ছাত্র, ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার। ভারতভিত্তিক শিয়াগোষ্ঠী আঞ্জুমানহায়দারির মুখপাত্র সৈয়দ বিলাল সংবাদ সংস্থা ইরাকি নিউজকে বলেন, ‘আমরা ১০ লাখ স্বেচ্ছাসেবী সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, যারা কারবালা ও নাজাফের পবিত্র এলাকা আইএসের হাত থেকে রক্ষা করবে।

এদিকে, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে রিয়াদ ও তেহরান উভয়েই বিভিন্ন মাদ্রাসা, মসজিদ ও মিডিয়ার ব্যয়ভার গ্রহণ করে থাকে। পাকিস্তানের মোট ২৮৫টি ইসলামী ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৈদেশিক সাহায্যে পরিচালিত হয়, যার দুইতৃতীয়াংশের অর্থের জোগানদাতা সৌদি আরব বা মিত্র কোনো আরব রাষ্ট্র। আর বাকি একতৃতীয়াংশের অর্থের জোগানদাতা ইরাক বা ইরানের মতো শিয়াপন্থী রাষ্ট্র। দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ ব্রুস রেইডেল বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতা পাকিস্তানি যুবকদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বের ইন্ধন জোগায়।

কাবুলে অন্যতম বৃহত্তম উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খাতামুল নাবিয়্যিন ইসলামিক ইউনিভার্সিটিপ্রতিষ্ঠা করেছে ইরান। বলা হয়, এটি আফগানিস্তানে ইরানের প্রভাব বিস্তারকারী কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু। অন্যদিকে, সৌদি আরব ১০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে কাবুলে তৈরি করেছে একটি মসজিদ ও ইসলামী এডুকেশন সেন্টার।

ইরাকসিরিয়াকে আইএসের জন্য উর্বর ভূমিতে পরিণত করতে মধ্যপ্রাচ্যে শিয়াসুন্নী বিরোধ অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করেন অনেকে। আর এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিমদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিরোধ উসকে দেয়ার মাধ্যমে এ অঞ্চলের শৃঙ্খলা বিনষ্ট করছে সেই সৌদিইরান দ্বন্দ্বই।

সংবাদসূত্র : দ্য ডিপ্লোম্যাট

shia-sunni-conflict-1

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: