প্রথম পাতা > অপরাধ, জীবনযাপন, নারী, বাংলাদেশ, সমাজ > খাদিজা হত্যাঃ অপরাধী’র দলীয় পরিচয় নির্মাণ ও অন্যান্য

খাদিজা হত্যাঃ অপরাধী’র দলীয় পরিচয় নির্মাণ ও অন্যান্য

খাদিজা হত্যা চেষ্টা: কালান্তরের অন্তর সাফ করা জরুরি

khadijaরাহমান নাসির উদ্দিন : আমরা কোন ঘটনার প্রতিবাদ কোন মাত্রায় করি? কেন করি? কোন ধরনের ঘটনায় সমাজের কোন স্তরে কোন ধরনের প্রতিবাদ হয়? প্রতিবাদের তীব্রতা কতটুকু? এবং রাষ্ট্র এ প্রতিবাদ কিভাবে অ্যাড্রেস করে? কিভাবে রেসপন্স করে? এবং আখেরে কী হয়? প্রভৃতি প্রশ্ন সামনে রেখে আমি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপট, পরিপ্রেক্ষিত এবং ঘটনাউত্তর নানা দৌড়ঝাঁপ গভীর মনোযোগের সঙ্গে অনুসরণ এবং বিশ্লেষণ করছি। সাংবাদিক সাগররুনি হত্যার ঘটনা থেকে শুরু করে, ঢাবির শিক্ষিকা রুমানা মঞ্জুরের ঘটনা, বিভিন্ন জঙ্গি হামলার ঘটনা, ইভটিজিংয়ের কারণে বিভিন্ন আত্মহত্যার ঘটনা, তনু হত্যাকাণ্ড, বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যা থেকে খাদিজা হত্যাচেষ্টা প্রভৃতি ঘটনার পরবর্তী সামাজিক এবং রাজনৈতিক তাৎপর্য বিশ্লেষণ করলে বেশ কিছু চমকপ্রদ ফলাফল পাওয়া যায়। এসব বিষয় নিয়ে সংবাদপত্রে আমি নিয়মিত লেখালেখি করেছি। সেসব পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং প্রাপ্ত ফলাফলের আলোকে খাদিজার ঘটনাটিকে বিশ্লেষণ করা চেষ্টা করছি।

সিলেট মহিলা কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিসকে প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তার ওপর চাপাতি দিয়ে কোপানো হয়েছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র বদরুল এ নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনার ধারণকৃত একটি ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমাদের কপাল ভালো যে, জনতা বদরুলকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে। অন্যথায় পুলিশ ‘সর্বাত্মক’ চেষ্টা চালিয়েও আসামিকে গ্রেপ্তার’ করতে সক্ষম হত কি না, সন্দেহ আছে। এবং আমাদের যথারীতি সেই পুরনো বটিকা খাওয়ানো হত যে, “আসামী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।”

এ ঘটনা আবার প্রমাণ করল, শেষ পর্যন্ত জনগণই ভরসার জায়গা। খাদিজার অবস্থা অপরিবর্তিত। এদিকে ‘খুনি’ বদরুল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে এবং স্বীকার করেছে যে, প্রেমের অফারে প্রত্যাখ্যাত হয়ে সে খাদিজা তখনই মেরে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু খাদিজার ‘দুর্ভাগ্য’ যে সে মরেনি! তবে এখন প্রায় মরমর অবস্থায় আছে। কারণ, ডাক্তাররা বলেছেন, খাদিজার অবস্থা অপরিবর্তিত এবং তার বাঁচার সম্ভাবনা পাঁচ থেকে দশ শতাংশ।

এদিকে এ ঘটনা কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রাণয়ের প্রতিমন্ত্রী বক্তব্য দিয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। আর মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। কিন্তু এসব ‘আশ্বাস’ ও ‘দাবি’ আমজনতার কাছে তেমন কোনো গুরুত্ব বহন করে না। কারণ, এগুলো কিছু মৌসুমী ‘রিচ্যুয়াল’ (আচাররীতি) ছাড়া আর কিছু নয়! কেননা প্রত্যেকটা ঘটনা ঘটনার পর আমরা এসব পদ এবং পদবীর মানুষদের নিয়মিতভাবে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে এসব রিচ্যুয়ালস পালন করতে দেখি। পরবর্তীতের তার কোনো কার্যকর ফলোআপ থাকে না বলে এগুলো কিছু অর্থহীন ‘বাক্যবিলাসে’ পরিণত হয়েছে!

তবে বদরুলের ছাত্রলীগের ‘নেতা’ হওয়াটা ঘটনাটিকে ভিন্ন একটা ‘সেনসেশান’ দিয়েছে। একদল বদরুল যে ছাত্রলীগের একজন নেতা সেটা প্রমাণের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে, আরেকদল বদরুল যে ছাত্রলীগের কেউ নয় সেটা প্রতিষ্ঠার জন্য নিয়মিত কসরত করে যাচ্ছে। বিষয়টা যেন এ রকম, ছাত্রলীগের না হলেই যেন সরকার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে! আবার ছাত্রলীগ হলেই সব দায়দায়িত্ব ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে। বদরুল ছাত্রলীগের কর্মী বা নেতা হতে পারে আবার ছাত্রদলেরও হতে পারত। এখানে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিতে গিয়ে মূল বিষয়টিই গৌণ হয়ে যাচ্ছে।

আমরা বদরুলকে ‘ছাত্রলীগ’ কিংবা ‘ছাত্রদল’– এ রকম বাইনারির মধ্যে ফেলে না দিয়ে তার ভেতর দিয়ে সমাজের বিদ্যমান পুরুষতান্ত্রিকতাকে কেন দেখার চেষ্টা করছি না? এ রকম ঘটনার ভেতর দিয়ে প্রেম, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং সামাজিক মূল্যবোধের নিত্য অবক্ষয় কেন আমরা দেখার চেষ্টা করি না? আসলে আমরা ভয় পাই, পাছে আমাদের নিজেদের চেহারাটা আয়নার সামনে চলে আসে। পাছে নিজের ভেতরেও আমরা এই বদরুলের অস্তিত্ব দেখতে পাই!

বদরুলে বিচার চেয়ে খাদিজার সহপাঠীরা আন্দোলনে নেমেছে। কিন্তু ভিডিওটিতে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে, কিছু লোক ‘ও মাই গড’, ‘ও মাই গড’ বলে দূরে সরে যাচ্ছে কিংবা দূর থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। একজন ভিড়িও করছেন, কয়েকজন দূরে দাঁড়িয়ে দেখছেন, আর কয়েকজন হাহুতাশ করছেন। কিন্তু মেয়েটা তাৎক্ষণিকভাবে বাঁচানোর জন্য কেউ এগিয়ে যাননি। একজনকে দেখলাম সাদা শার্ট গায়ে দিয়ে নির্লিপ্তভাবে হেটে চলে যাচ্ছেন!

এই যে আমাদের নির্লিপ্ততা এবং দায়িত্ব নিয়ে ঘটনার সময় প্রতিরোধ না করা– এটা সমাজের অভ্যন্তরে এ ধরনের ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ। একটা ছেলে রাস্তায় ফেলে একটি মেয়েকে চাপাতি/দা দিয়ে কোপাচ্ছে আর ২০৩০ জন লোক সেটা দূর থেকে দেখছে, এটা সমাজের কোন ধরনের মানসিকতাকে নির্দেশ করে? এটা ভাবা খুবই জরুরি। তবে ইমরানের কৃতিত্বকে এ গড়পড়তায় ফেলে খাটো করা যাবে না যে খাদিজাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। আজ পর্যন্ত যে খাদিজা বেঁচে আছে– এটা ইমরানের জন্য।

তাই সমাজে ইমরানদের অস্তিত্ব স্বীকার করেই বলছি, আমাদের সম্মিলিত নির্লিপ্ততা এবং সমষ্টিগত উদাসীনতা সমাজে এ ধরনের নৃসংশ ঘটনা ঘটার পেছনে অনেকটা দায়ী।

সেদিন যারা খাদিজাকে উদ্ধার নাকরে দূর থেকে দাঁড়িয়ে মোবাইলে রেকর্ড করছিল, তারাই এখন খাদিজা হত্যাচেষ্টার বিচার চেয়ে আন্দোলন করছে। সেদিন ভিড়িও না করে এবং দূর থেকে দাঁড়িয়ে ঘটনা না দেখে সবাই মিলে যদি ঘটনাটি ঘটতে না দিত তাহলে আজকে রাস্তায় মিছিল করে ঘটনার বিচার দাবি করতে হত না। তারপরও এ প্রতিবাদ জরুরি। খাদিজার সহপাঠীদের প্রতিবাদের প্রশংসা করি। কেননা আজ যে ঘটনা খাদিজার সঙ্গে হয়েছে, সেটা আরেকদিন আমার সঙ্গে হতে পারে। খাদিজা আমাদেরই কারো মেয়ে, কারো বোন কিংবা কারো বন্ধু।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি জানিয়েছে, যেগুলোর তিনটি সরকারের কাছে আর একটি দাবি বিশেষ এক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর কাছে–

. মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর;
. হামলাকারীর দৃষ্টান্তমূলক সাজা;
. আইনজীবীদের প্রতি হামলাকারীর পক্ষে কাজ না করার দাবি এবং
. সব কলেজের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

খাদিজার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এ রকম ঘটনা সারা বছর ধরেই নানা জায়গায় আমাদের চোখের সামনে সংঘটিত হচ্ছে। আমাদের দেখা কিংবা না দেখার ভূবনে জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে বদরুলরা নিত্য আসাযাওয়া করে। এ কথা মোটামুটি সবাই জানে যে, বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা প্রধানত ‘পেট্রিয়ার্কাল’ বা পুরুষাধিপত্যবাদী এবং সে কারণেই সমাজ ও রাষ্ট্রের চরিত্রও পুরুষাধিপত্যবাদী।

ফলে বদরুল কোনো একজন ব্যক্তি নয়, বরং পুরুষাধিপত্যবাদী সমাজের ক্ষমতার প্রতিনিধি। আর এর বিপরীতে খাদিজা এ আধিপত্যবাদের তলায় চ্যাপ্টা হওয়া ক্ষমতাহীনের প্রতিবিম্ব।

তাই খাদিজা অসহায় রাস্তায় পড়ে থাকে আর ক্ষমতাশীল বদরুল একের পর এক দায়ের কোপ দেয়। খাদিজার ছিন্নভিন্ন দেহ নিথর হয়ে পড়ে থাকে রাস্তায়।

বদরুল আর খাদিজার সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অসম সম্পর্ক সমাজের সর্বত্র বিরাজমান; পরিবারে, কর্মক্ষেত্রে, পাবলিক পরিসরে এবং রাষ্ট্রের কাঠামোয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক প্রকাশিত ‘ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইম্যান সার্ভে ২০১৫’ শীর্ষক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের বিবাহিত নারীদের ৮০ দশমিক ২ শতাংশ স্বামী ও শ্বশুরপক্ষীয়দের দ্বারা কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার। সে নির্যাতন শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক বা যৌন হতে পারে। শহর এলাকায় এ হার ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে ৭৪ দশমিক ৮ শতাংশ। ৪১ শতাংশ নারী স্বামীর শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার।

এটা হচ্ছে ঘরের ভেতরে ‘আপনার’ লোক দ্বারা নির্যাতনের চিত্র। ঘরের বাইরে ‘পর’ লোক দ্বারা নির্যাতনের চিত্র এ থেকে সহজেই অনুমান করা যায়। কী ঘরে কী বাইরে, নারীর অবস্থান যখন এ রকম তখন কেবল বদরুলের বিচার চেয়ে সমাজের বিদ্যমান ‘বদ’ রুলের (বাজে ব্যবস্থা) কোনো গুণগত পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

তাই খাদিজার ঘটনাকে একটু ভিন্নভাবে দেখতে চাই। এ ঘটনায় সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, যা খুবই স্বাভাবিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। সবাই বদরুলকে একহাত নিচ্ছেন এবং মওকামতো ছাত্রলীগেরও মুণ্ডুপাত করছেন। এসবই ইতিবাচক আলামত। সমাজে নারীর প্রতি সংবেদনশীলতার বহিঃপ্রকাশ।

কিন্তু এসব প্রতিক্রিয়াপ্রতিবাদ ‘মৌসুমী দেখানোপনা’ বলে মনে হয়। আমরা সবসময় প্রবণতাকে বাইপাস করে ঘটনাকে অ্যাড্রেস করি। ফলে ঘটনাটা একসময় ‘বাকি’ হয়ে যায় কিন্তু প্রবণতা ‘নগদ’ থেকে যায়। যেখানে গোটা সমাজ ‘বদরুলে’ পরিপূর্ণ, সেখানে একা খাদিজার জন্য বেসুমার আহাজারি আখেরে সমাজের কোনো কাজে আসবে না।

নিজেদের স্বল্পমেয়াদে মহানুভব হিসেবে জাহির করা ছাড়া, দীর্ঘমেয়াদে এর কোনো নগদ লাভ নেই। খাদিজার সুস্থতা কামনা করার পাশাপাশি আর কোনো খাদিজাকে যেন ভবিষ্যতে রাস্তায় কোপানোর কেউ সাহস না পায়, তার জন্য আমরা কী করতে পারি– সেটা চিন্তা করা জরুরি। সমাজে ক্রমবর্ধমান ‘বদরুল’দের কিভাবে মানুষ করা যায় কিংবা নির্মূল করা যায়, সেটা ভাবা অধিক জরুরি।

খাদিজার ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলাম, “সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকারভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করে তা দ্রুত কার্যকরে কী করা যায়, সেটার জন্য কাজ করা জরুরি। অন্যথায় জিরান (বিরতি) দিয়ে দিয়ে ঘটনা ঘটবে, আর নারীর প্রতি সহিংসতার প্রবণতা ক্রমবর্ধমানই থাকবে! এভাবে চলতে থাকলে, সমাজের কোন গুণগত পরিবর্তন না হলেও আমরা একদিন সত্যি সত্যিই পিকুলিয়ার ‘আহাজারিজীবী’তে পরিণত হব।”

সিমুন দ্য বুব্যুয়ার তাঁর ১৯৪৯ সালে প্রকাশিক বিখ্যাত দ্য সেকেন্ড সেক্স’ গ্রন্থে বলেছেন– “নারী হয়ে জন্মায় না, সমাজ তাকে ক্রমান্বয়ে নারী করে তোলে। সামাজিক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়েই নারী পুরুষের অধীনস্থ এক দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষে পরিণত হয়, প্রধানত তিনটি কারণে– . সমাজে শেখায় যে নারীর কাজ হচ্ছে পুরুষের চাহিদা মেটানো, . বাহ্যিকতার আবেদনে সাড়া দিয়ে সে নিজেকে সাজগোজ করে রাখে এবং সমাজের বেঁচে/টিকে থাকার জন্য নিজের ন্যায্যতা তৈরি করে এবং . ঐতিহাসিকভাবে নারীর আইনগত অধিকার পুরুষের চেয়ে অনেক কম, যার ফলে সমাজে এবং রাষ্ট্রে নারীর প্রভাব পুরুষের চেয়ে অনেক কম। এসবই নারীকে সমাজে দ্বিতীয় লিঙ্গে পরিণত করে।”

খাদিজার অপরাধ আসলে বাংলাদেশের মতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজে ‘দ্বিতীয় লিঙ্গ’ হওয়ার অপরাধ। তাই সমাজের চরিত্র না পাল্টিয়ে এবং সমাজে বিদ্যমান পুরুষদের মনোভূগোলের (মেন্টার জিওগ্রাফি) সুস্থতা নিশ্চিত না করে কেবল বদরুলের বিচার করলেই সমাজের আরও লাখো খাদিজার জীবনমানের কোনো গুণগত পরিবর্তন হবে না।

তাই বুব্যুয়াঁর তাঁর গ্রন্থে বলেছেন– “নারীকে প্রথমেই বুঝতে হবে সমাজ এবং সমাজের বিদ্যমান ব্যবস্থা আসলে একটা নির্মাণ, সেটা পুুরুষ, রাষ্ট্র এবং ক্ষমতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারীকে দ্বিতীয় লিঙ্গ বানানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটা বুঝতে পারলেই নারী তার ডেসটিনির দিকে সত্যিকার অর্থে এগোতে পারবে।”

তাই কেবল ঘটনাকেই অ্যাড্রেস করলে হবে না, ঘটনার প্রবণতার দিকেই অধিকতর মনোযোগ দিতে হবে। কেননা ঘটনা কালের কিন্তু প্রবণতা কালান্তরের। সমাজে নারী সম্মানজনক, সমমর্যাদার সহাবস্থানের জন্য কালান্তরের অন্তর সাফ করা জরুরি।

লেখক : নৃবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

সূত্রঃ বিডি নিউজ২৪ ডট কম, ৭ অক্টোবর, ২০১৬

আমরা নায়ক হতে চাইব কবে?

selfie-khadija-1রাশেদা রওনক খান : ‘সখী ভালোবাসা করে কয়, একি কেবলি যাতনাময়?’ রবীন্দ্রনাথ যে অর্থে এই গান লিখে গেছেন, সেই অর্থে আজকাল ভালোবাসা সংজ্ঞায়িত হয় কিনা, এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে! তবে আজকাল আমরা এমন একটা অস্থির সময় পার করছি যে, ভালোবাসার সঙ্গেসঙ্গে উদ্বেগ, সতর্কতা, নিরাপত্তা, ঘৃণা, এমনকি কোপাকোপি নিয়েও ভাবতে হচ্ছে! ভালোবাসলে উজাড় করেই তো ভালোবাসবে মানুষ! ভালোবাসা প্রকাশে প্রেমিক কিংবা প্রেমিকা তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। মাশরাফিকে যখন এক বুক ভালোবাসা নিয়ে কোনও অন্ধপ্রেমিক দৌড়ে এসে ছুঁয়ে দেখতে চায়, জড়িয়ে ধরে তার সমস্ত অনুভূতি দিয়ে, তখন আমরা ভালোবাসাহীন মানুষজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করি!

যাই হোক, নার্গিসকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বদরুল। কিন্তু ছাত্রলীগও দ্রুত দাবি করেছে যে, ‘চাপাতি বদরুল’ ছাত্রলীগের নয়! প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের কি আগে এই ঘটনার বিচার দাবি করা উচিত নাকি দলীয় পরিচয় কী—তা নির্ধারণ করার পেছনে মেধা, শ্রম, মনোযোগ সব দেওয়া উচিত? অপরাধীর দলীয় পরিচয় খুঁজতে গিয়ে আমরা যে অপরাধীর অপরাধকে হারিয়ে ফেলছি, তা তো বহুবার দেখলাম! আর কত? আফসানার মৃত্যু নিয়ে আমরা তো বটেই আফসানা যে দল করত, তারা কোথায়? দেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র ইউনিয়ন কর্মীর মৃত্যুর বিচারে কতটা আন্দোলনে সফল? কেবল হত্যাকারী ছাত্রলীগেরনেতা এই বলেই আমরা আমাদের দায়িত্ব শেষ করে ফেলছি! কিন্তু দায়িত্ব তো থাকার কথা বিচার সুনিশ্চিত করা পর্যন্ত!

কিছুদিন আগে রিশাকে মেরে ফেলেছিল এক দর্জি। সে ছাত্রলীগের নয়, তারপরও মেরে ফেলেছে সবার চোখের সামনে রিশার স্কুলের কয়েক গজের মধ্যেই। কোনও দলের দ্বারা ক্ষমতাবান না হয়েও একই রকম দুর্বৃত্তপনা করেছে এমন হাজারও উদাহরণ আছে সমাজে ।

অতএব এখানে দুর্বৃত্তপনার সঙ্গে ব্যক্তি মানুষের ক্ষমতার সম্পর্ক যতটা জোরালো, দলীয় পরিচয়ের সঙ্গে ঠিক ততটা নয়, অন্তত এই ঘটনাটির ক্ষেত্রে! এতকাল ভালোবাসায় প্রত্যাখ্যাত হয়ে যেসব বখাটে এসিড ছুড়ে দিয়েছে, তারা ‘ক্ষমতাবান’, কিন্তু সেই ‘ক্ষমতা’ সব সময় ছাত্রদল বা ছাত্রলীগের কাছ থেকে তারা পেয়েছে, তা বলা যাবে না। ঘটনা ঘটার সঙ্গেসঙ্গে গণমাধ্যমের কল্যাণে এইসব অপরাধীর পরিচয় মেলে কোন দলের, কোন পদের! আর অপরাধী যদি ছাত্রলীগ বা ছাত্রদলের এর হয়, কেন্দ্রীয় কমিটিগুলো আর্তনাদ করতে শুরু করে এই বলে যে, ‘এই অপরাধী আমাদের দলের নয়!’ এটা আজ প্রথম হচ্ছে, তা নয়! এই মুহূর্তে বদরুলের ক্ষেত্রে যা ঘটছে, তা বহুবার হয়েছে বিভিন্ন সরকারের সময়ে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, গণমাধ্যম এবং ছাত্র সংগঠনের মধ্যকার ‘পরিচয় নির্মাণের’ বিতর্কে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ‘নারী নির্যাতন’এর যে রাজনীতি, তা আড়ালে চলে যায়! তাতে মূল অপরাধী বেঁচে যায়, হেরে যাই আমরা!

ছাত্রলীগ একটি বড় ছাত্র সংগঠন। তাদের কাছে প্রত্যাশা বেশি থাকাটাই স্বাভাবিক। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ‘বদরুল ছাত্রলীগের নয়’—এটা না বলে যদি বলতো, ‘অপরাধী যে দলেরই হোক, বিশেষ করে আমাদের দলের হলেও শাস্তি তাকে পেতেই হবে’। তাহলে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে দল হিসেবে তাদের অবস্থান আরও অনেক জোরালো হতো। সেই শক্তি, সেই মানসিক দৃঢ়তা কেন নেই এত বড় একটা দলের, তা আমাদের ভাবায়। এই দল তো অন্য যে কোনও দলের মতো নয়! তাদের রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস! বাংলাদেশের ইতিহাস লিখলে বেশির ভাগ পাতা দখল করে নেবে এই দল, যারা ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণআন্দোলন, ৭১’র মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল। যদিও বর্তমান সময়ের ছাত্রলীগ তাদের সেই ঐতিহ্য হারাতে বসেছে নানা কারণেই!

যেমন, হলি আর্টিজানের ঘটনার কিছুদিন পর আমরা দেখি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ পরস্পর মারামারি করে লাশ ফেলে দেয় নিজেদের! এটা অন্তত ছাত্রলীগের মতো এত বড় একটা দল হতে আশা করা যায় না। তাহলে, প্রশ্ন ওঠে কারা এখন ছাত্রলীগে নাম লিখাচ্ছে? অন্যদল হতে এখানে নাম লিখিয়ে ফেলছে কিনা, ছাত্রলীগ এই যুগে হাইব্রিড নেতাতৈরির প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে কিনা! এসব বিবেচনা করে ছাত্রলীগের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে এখন দ্রুত সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাদেরই।

এই ক্ষেত্রে সরাসরি দলের পরিচয়ে কিংবা দলের শক্তিকে কাজ লাগিয়ে এই ‘চাপাতি বদরুল’ অপরাধ করেনি, তাহলে তার হাতে অস্ত্র থাকতো, কিংবা তার সঙ্গে দলের সঙ্গীসাথীরা থাকতো। তার মানে সে যা করেছে, একান্তই ব্যক্তিগত জায়গা থেকেই করেছে। অতএব এখন দলের পরিচয় প্রকাশিত হওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির কাজ হচ্ছে, তার বিচার যেন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হয়, সেদিকে নজর রাখা! কেউ যেন দলের পরিচয় দিয়ে অপরাধ করেও মুক্তি না পেতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখা। কিন্তু তা না করে ‘অপরাধী বদরুল ছাত্রলীগের নয়’ এই রাজনৈতিক প্রক্রিয়াটি আসলে তাদের আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে জনগণ থেকে। আমরা ভালোভাবেই জানি, ছাত্রলীগ বা যে কোনও দল তাকে বলে নাই, এভাবে একটি মেয়ের ওপর কোপের পর কোপ দিয়ে মেরে ফেলতে। কিন্তু এটাও সত্যি দল থেকে বড় কোনও অপরাধ করে বেঁচে যাওয়া নেতার উদাহরণ হয়তো তাকে নীরবে সাহস জুগিয়েছে এই ধরনের জঘন্য কাজ করতে! তাই দলের ভূমিকা হবে, এই ধরনের আর কোনও উদাহরণ যেন দলে স্থান না পায় সেদিকে লক্ষ রাখা। বড় দল হিসেবে তাদের দায়িত্বও অনেক বড়, এটা ভুলে গেলে চলবে না। আগে এই ধরনের কিছু ঘটলে ছাত্র রাজনীতির মূল জায়গা ছিল, অপরাধীর বিচার চেয়ে লড়াই করা। আর এখন অপরাধীর দলীয় পরিচয় নির্মাণবিনির্মাণের রাজনীতি করেই দায়িত্ব শেষ করছে ছাত্র সংগঠনগুলো।

যাক এবার একটু ভিন্নভাবে দেখি! দলীয় ক্ষমতার বাইরে ব্যক্তি বদরুল যে ক্ষমতাবলেঅপরাধ করে, তা কি একান্তই তার নিজস্ব কিংবা সে যে দল করে সেই দলের? এই প্রশ্ন কিন্তু হারিয়ে যায় এই পরিচিতি নির্মাণের রাজনীতির আড়ালে! এই ক্ষমতামূলত পশুত্বের ক্ষমতা! পিতৃতান্ত্রিক সমাজে একজন ছেলেকে জন্ম থেকে শেখানো হচ্ছে, এই সমাজ তার, এই সমাজের নারী তার, সে যে নারী চাইবে, সেই নারীকেই পাবে, সে নারীকে বিয়ে করবে, সেই নারী তার আদেশ পালন করবে, এর বাইরে একজন নারীর কোনও নিজস্বতা বলে কিছু নাই। নার্গিসের হয়তো বদরুলের প্রতি ভালোবাসা এক সময় ছিল, এখন তা আর অবশিষ্ট নেই, হতেই পারে! এটা ব্যক্তির একান্ত নিজস্ব ইচ্ছাঅনিচ্ছার ব্যাপার, ব্যক্তি স্বাধীনতা। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সমাজে কিছু পুরুষ ধরেই নেয়, নারী ‘না’ বলতে পারবে না! ‘না’ বললেই সেই নারীকে শেষ করে দিতে হবে। তার কাছে ‘ভালোবাসা’ মানে জোরজবরদস্তি, হাতহাতিমারামারিশেষ পর্যন্ত মেয়েটি তার অবাধ্য হলে মেরে ফেলা! সমাজের এই একটা বিশাল অজ্ঞ অংশকে কে শেখাবে ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ? ‘ভালোবাসাযে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সম্পর্কের ভিত্তিতে হয়, ভালোবাসাকে যে প্রতিনিয়ত পরিচর্যা করতে হয়, তা তাদের কানে কে পৌঁছাবে? আমরা যদি শেখাতে চাই, তবে তো আমাদের আগে নিজেদের শোধরাতে হবে, নারীপুরুষের সম্পর্ককে অনেক সহজভাবে দেখার অভ্যাস করতে হবে। আমরা নিজেরাই কতোটা এই লিঙ্গের সম্পর্ককে শ্রদ্ধার সঙ্গে ভালোবাসতে শিখেছি?

আবারো ফিরে আসি মাশরাফি ভক্তের ভালোবাসা প্রসঙ্গে, তবে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। আচ্ছা, এমন যদি হতো মাশরাফির এই ভক্তটি একজন নারী! ১৬ কোটি মানুষের মাঝে হাতেগোনা কজনকে পাওয়া যেত, যারা মাশরাফির প্রতি ভক্তের এই ভালোবাসাকে একদম স্বাভাবিকভাবে নিত ? তখন আলোচনা কোন দিকে যেত? নিজেকে প্রশ্ন করি, আমরা শহুরে ‘শিক্ষিত’ ‘উচ্চবিত্ত’ ‘মধ্যবিত্ত’ মানুষজনের মাঝে কতজন নিজেকে এই নারীপুরুষ আলোচনা থেকে দূরে থাকতাম? মাশরাফি কি পারতেন মেয়েটিকে এভাবে নিরাপদে আগলে রাখতে? কেন পারতেন না? পারলে তো ‘খবর’ই ছিল! কিন্তু এই ‘খবর’ অন্তত মাশরাফি কিংবা তার ভক্তের লৈঙ্গিক দিককে ইঙ্গিত করে প্রকাশিত হচ্ছে না, কিন্তু তখন খুব নগ্নভাবেই প্রকাশিত হতো! মাশরাফিকে নিয়ে এতক্ষণে কয়েক ডজন উপন্যাস রচনা হতো! হলুদ সাংবাদিকতা ছড়িয়ে দিতো বাতাসে হলুদ রঙ! ওই কল্পিত মেয়েটির চরিত্রবলে কিছু থাকতোই না ! উচ্ছন্নে যাওয়া, বখে যাওয়া, লাজলজ্জাহীন মেয়ে হিসেবে তার কপালে জুটতো নানা রঙের পরিচয়! সেই পরিচয় নিয়ে তার তো বটেই, তার পরিবারের মানুষজনও সমাজে একঘরে হয়ে যেত! আমাদের দেশে একজন ছেলে ভক্তের ভালোবাসা প্রকাশের অধিকার থাকলেও মেয়ে ভক্তের থাকা যাবে না! কিন্তু আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, মাশরাফির ছেলে ভক্তের চেয়ে মেয়ে ভক্তের সংখ্যা কোনও অংশে কম নয়! আমরা ভালোবাসাকে কতটা ছাঁচে ফেলে দিচ্ছি এই শতাব্দীতে এসেও ভাবলে অবাক লাগে! নারীপুরুষের সম্পর্ককে এখনও আমরা কিভাবে যেন জটিল করে দেখি! আর এই জটিলতার জটিলতর রূপ প্রকাশ পাচ্ছে সমাজের বিভিন্ন মানুষের কাছে বিভিন্নভাবে, কখনো তা ভয়ঙ্কররূপে!

শেষ করছি, নিজের কাঁধে দোষ চাপিয়ে! ছোটবেলায় যখন মায়ের মুখে প্রথম বঙ্গবন্ধু৭৫ এর ১৫ আগস্টের গল্প শুনছিলাম, তখন হঠাৎ প্রশ্ন করেছিলাম, মা উনি এত বড় নেতা, তাকে শত্রুরা মেরে ফেললো কিভাবে? কেউ তাকে বাঁচাতে আসেনি? উত্তরে মা কী বলেছিলেন ঠিক মনে নেই। কিন্তু এতটুকু খুব মনে আছে, তিনি বলেছিলেন, বঙ্গুবন্ধু অনেক উদার মনের মানুষ ছিলেন, মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হতেই তিনি বেশি আনন্দিত হতেন। তিনি তার জীবনের নিরাপত্তার চেয়ে মানুষের ভালোবাসাকে মূল্য দিতেন বেশি, মানুষকে সহজে বিশ্বাস করতেন। মানুষকে ভালোবাসার মূল্য তাকে এভাবে এতটা নৃশংসভাবে দিতে হবে, তা হয়তো তিনি কল্পনাও করেননি! সেদিনও পারিনি, আজও পারলাম না! এত বছরেও আমাদের সাহস সঞ্চয় হয়নি এতটুকু! যখন দিনেদুপুরে একটা লোক চাপাতি দিয়ে কোপাচ্ছে একটি মেয়েকে, কেউই কি এগিয়ে আসতে পারলো না! কী বিচিত্র আমরা! কেউ কেউ ভিডিও করেছেন, তা আপলোড করায় ব্যস্ত ছিলেন। একটু হলেও কি বাঁচানো যেত না মেয়েটিকে এই ধরনের পাশবিক নির্যাতন থেকে? তবে ইমরান কবিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই শেষ পর্যন্ত খাদিজাকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করানোর জন্য !

মজার ব্যাপার হলো, আমরা নিজেরা এসব ক্ষেত্রে নীরব দর্শক হয়ে থাকলেও মাশরাফির ‘হিরোইজম’কে পছন্দ করি, ইমরান কবিরকে বাহবা দেই, আবেগে প্লাবিত হই কিন্তু ব্যক্তি আমি ‘হিরো’ হতে জানি না! যারা সেদিন এই দৃশ্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছি, আমাদের কারও জীবনই তো মাশরাফির চেয়ে মূল্যবান নয়! মাশরাফি তার অতি মূল্যবান জীবনের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য না দিয়ে যদি একটা অচেনা ভক্তকে রক্ষা করতে পারেন, সেই দেশেই আমরা অতি সাধারণ হয়েও একটি মেয়েকে বাঁচাতে পারলাম না? আসুন না, প্রতিটি মানুষই নায়ক হয়ে ওঠি, বদলে দেই নিজের ভীতু পরিচয়টিকে, এত বছরের গ্লানি থেকে মুক্ত হই, বদলে দেই নিজের দেশকে!

লেখক: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন, ৬ অক্টোবর ২০১৬

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: