প্রথম পাতা > বাংলাদেশ, রাজনীতি, শিক্ষা, Uncategorized > সাক্ষাৎকারঃ ঢাবি আইন অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল

সাক্ষাৎকারঃ ঢাবি আইন অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল

অক্টোবর 1, 2016 মন্তব্য দিন Go to comments

asif-nazrulকাজল রশীদ শাহীন : আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক, টকশোর তুখোড় বক্তা, ক্ষুরধার এক লেখকসাংবাদিক। লেখালেখি ও বাগ্মীতায় স্পষ্টবাদী, আপসহীনসাহসী ও অনলবর্ষী এই ব্যক্তিত্ব, পরিবর্তন ডটকমকে বলেছেন, সমাজরাষ্ট্রের বিবিধ প্রসঙ্গে, যাতে রয়েছে নির্মোহ যুক্তি, নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ ও তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ।

কাজল রশীদ শাহীন : লোকমুখে চাউর আছে আপনি বিএনপি পন্থী বুদ্ধিজীবী, বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যু্ক্ত আছেন, থিংকট্যাংক হিসেবে কাজ করেন?

আসিফ নজরুল : কে বলে? আপনি নাম বলেন, আমাকে যারা বিএনপি পন্থী বুদ্ধিজীবী বলে তারা আওয়ামী লীগের মূলত দালাল। আর কিছু লোক না বুঝে বলে। আমি মনে করি বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষ আমাকে নিরপেক্ষ মানুষ হিসেবে জানে। আর আপনি যদি বলেন ব্যক্তিগতভাবে অবশ্যই এইটা আমি সমস্ত জায়গায় বলি সারা জীবন বলব ব্যক্তিগতভাবে অবশ্যই বিএনপির যে প্রতিষ্ঠাতা আছেন জিয়াউর রহমান, উনার প্রতি আমার আলাদা একটি শ্রদ্ধাবোধ আছে।

কাজল রশীদ শাহীন : জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের কারণ কি? শ্রদ্ধা কি শুধু একজনের প্রতিই?

আসিফ নজরুল : জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধার পেছনে অনেক কারণ আছে, সেটা ব্যাখ্যা করার জায়গা এখানে নেই। ব্যক্তিগতভাবে আমার তাজউদ্দীন সাহেবের প্রতি বিশাল একটা শ্রদ্ধাবোধ আছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হত না। উনার প্রতি বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। এখন বাংলাদেশের ম্যাক্সিমাম মানুষ বিশ্বাস করে বা তদের বোঝানো হয়েছে এক সাথে তাজউদ্দীন, বঙ্গবন্ধু, জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধা করতে পারেন না। আমি এই সমস্ত আধামূর্খ ধান্দাবাজদের চিন্তা ধারায় পরিচালিত হয় না। আমি মনে করি, বাংলাদেশের যে কোনো মানুষের মধ্যে বঙ্গবন্ধু হচ্ছে সবচেয়ে ওপরে, উনার সাথে কারো তুলনাই হতে পারে না। বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করবেন দেখে তাজউদ্দীনকে, ওসমানী, ভাসানী, জিয়াকে শ্রদ্ধা করতে পারবেন না, এই ধরণের মূর্খযুক্তিতে আমি বিশ্বাস করি না।

কাজল রশীদ শাহীন : কোনো দলের সঙ্গে আপনার প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে পলিটিক্যাল কোনো কানেকশন আছে কি?

আসিফ নজরুল : না, কোনো দলের সঙ্গে আমার কোনো পলিটিকাল কানেকশন নাই। আপনারা যদি পলিটিকাল লিডারদের সঙ্গে কানেকশনের কথা বলেন, তাহলে বলব আমার সাথে যখন তোফায়েল ভাই মন্ত্রী ছিলেন না উনার সাথে আমার দেখা হত কথা হত, সুরঞ্জিতদার সঙ্গে অনেক কথা হয়। ফখরুল ভাইয়ের সাথে কোথাও দেখা হলে কথা হয়। উনাদের আমি পছন্দ করি উনারাও আমাকে পছন্দ করেন, আমাকে বিশ্বাস করে কথা বলেন। মান্না ভাই, . কামাল হোসেন উনাদের সঙ্গেও অনেক কথা হয়। আমি আপনাকে লিখিত দিলাম, ভবিষ্যতে বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে এখন যেমন আওয়ামীলীগের সমালোচনা করি তার থেকে বিন্দু পরিমাণও কম করব না যদি সমালোচনার জায়গা থাকে। এখন পর্যন্ত ১৯৯৬ সালে বিএনপি যে ভুয়া প্রহসনমূলক নির্বাচন করে ছিল সেইটার কথা বলি লাস্ট তৃতীয় মাত্রায়ও বলেছি। চাইলেই সেটা দেখে নিতে পারেন।

কাজল রশীদ শাহীন : বিএনপি কখনও ক্ষমতায় আসলে আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হবে?

আসিফ নজরুল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির চেয়ে বাংলাদেশের মানুষ আমাকে অনেক সম্মানের জায়গায় রেখেছে। আমি নিজে বিশ্বাস করি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যত এক্স ভিসি আছেন উনারা এই সমাজের যে সম্মান নিয়ে আছেন, দেশে বিদেশে যে সম্মান নিয়ে আছেন। কাউকে না ছোট করে বলছি তারচেয়ে আমার সম্মান বিন্দু মাত্র কম না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদেরকে এখন প্রধানত ক্ষমতাসীন দলের অনুগত দাসের ভূমিকা পালন করতে হয়। দাস বা অনুগত হওয়ার জন্য আমার জন্ম হয় নাই।

কাজল রশীদ শাহীন : বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে নানামুখি সমালোচনা হলো। আপনি বিএনপির এই কমিটি নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ককে কীভাবে দেখছেন?

আসিফ নজরুল : আমি লক্ষ করে দেখেছি, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের যখনই কমিটি হয় তখন তারা যদি বিরোধী দলে থাকে তখন নতুন কমিটি করা হলে এটা নিয়ে নানান মত প্রকাশ পায়। কিন্তু তারা যখন সরকারি দলে থেকে নতুন কমিটি করে তখন ভয়ের চোটে কেউ কিছু বলে না। বিএনপির নতুন কমিটি এবং তাকে ঘিরে তৈরি সমালোচনাকে আমি ঐ প্রবণতার অংশ হিসেবেই দেখছি। এখন বিএনপির ভেতরের মেকানিজম তো আমি জানি না, বাট আমার কাছে কয়েকটা জিনিস পজিটিভ মনে হয়েছে। বাট এইটাকে নিয়ে আমি মিডিয়ার মধ্যে কোনো কিছু দেখলাম না। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ইন্টারভিউতে আসছে যেইটা নতুন নারী নেতৃত্বের সুযোগ দেয়া হয়েছে। অনেক ইয়াংদেরকে নিয়ে আসা হয়েছে। এগুলো তো ইতিবাচক দিক। কিন্তু এগুলো আসে নাই। এখন আপনার সামগ্রিকভাবে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, যে দুর্বল তার ওপরই চড়থাপড় বেশি পড়ে আর কি! আওয়ামী লীগের ভিতরে গণতন্ত্র চর্চা আছে নাকি? আওয়ামীলীগের ভিতরে নেতারা কথা বলার সুযোগ পান নাকি? আওয়ামীলীগের মহাসচিব আদৌ রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করছে নাকি, আওয়ামী লীগে বা আওয়ামী লীগের মন্ত্রী সম্পর্কে মিডিয়ার রা করারও স্কোপ নাই। মিডিয়ার স্বাধীনতা এখন এমনভাবে চেপে ধরেছে সরকার যে মিডিয়ায় এখন নিরাপদে কথা বলা হচ্ছে বিএনপির সমালোচনা করা, সরকারের বিরোধে যারা আছে তাদের নিয়ে কথা বলা। সরকারের বিভিন্ন ভুল ত্রুটি এবং সরকারি দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সেটা নিয়ে মুক্তভাবে সমালোচনা করার মতো স্বস্তিকর জায়গাও সরকার রাখে নাই বিশেষ করে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর।

কাজল রশীদ শাহীন : জঙ্গি প্রসঙ্গে আসি, এ মুহূর্তে এ সমস্যা সমাধানের পন্থা বের করার কোনো বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?

আসিফ নজরুল : পুলিশের কাজ নিয়ে আমাদের মনে সন্দেহ ছিল। কিন্তু কল্যাণপুরের ঘটনার পরে আমি মনে করি এটি একটি মাইলস্টোন, বিশেষ করে পুলিশের সাফল্যের ক্ষেত্রে। পুলিশ এখন ফোকাসভাবে চেষ্টা করছে। কিন্তু এই সাফল্য এখানে থেমে গেলে হবে না, এখন এটা ধারাবাহিকভাবে নজরদারির পাশাপাশি পুলিশ এবং গোয়েন্দাদের একটি জিনিস নিশ্চিত করতে হবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন ভিকটিমাইজ না হয় এবং এ সুযোগে পুলিশের একটি অংশ যেন বাণিজ্য না শুরু করে। এ ধরনের বিভিন্ন খবর আমরা বিভিন্ন সময় শুনি বিভিন্ন ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে; যেহেতু আমরা বিভিন্ন ফোরামে কথা বলি, মিডিয়াতে আলোচনা করি আমাদের লোক দেখলে এসে বলে ভাই এরকম সমস্যা হচ্ছে এবং বিভিন্ন সোর্স থেকে আমরা নিউজগুলো জানি। দেখেন যখন পুলিশের ধরপাকড় শুরু হয় তখন পুলিশের একটা অংশ জমিয়ে বাণিজ্য শুরু করে এটা যেন বাণিজ্য শুরু না করা হয়। সৎভাবে, নিরপেক্ষভাবে, রাজনীতিকীকরণের চিন্তা না করে এবং টাকা বানানোর চিন্তা না করে পুলিশ যেন জঙ্গি বিরোধী অভিযান সর্বাত্মকভাবে অব্যাহত রাখে, এটা হলো এক নাম্বার। দুই নাম্বার হচ্ছে, আমি মনে করি ইন্টারনেট কেন্দ্রিক যে ওয়েব মেটেরিয়ালস আছে এর ওপর নজরদারি যেন আরো বাড়ানো হয়। আমি আপনাকে প্রমাণ দিতে পারব না কিন্তু আমার বিশ্বাস যারা জঙ্গিবাদে দীক্ষিত হয় তারা ইন্টারনেট বেইস মেটেরিয়ালস দেখেই প্রভাবিত হয়। ফেসবুকে একজন আরেকজনের কাছে জিনিস পাঠাচ্ছে, ইন্টারনেটে পাঠাচ্ছে ওয়েব পেইজ আছে যেকোনো জায়গায় আমি যেতে পারছি এটা তাদেরকে উপর্যুপরি মিসগাইডেড করে।

কাজল রশীদ শাহীন : তাহলে জঙ্গি দমন বা নির্মূলে এ মুহূর্তে সর্বাগ্রে আমাদের করণীয় কী?

আসিফ নজরুল : বৃহৎ পরিসরে আপনি যদি জঙ্গিবাদকে দমন করতে চান তাহলে বাংলাদেশের তরুণদের জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে তারা বেহেশতে যাওয়ার জন্য জঙ্গিবাদ করে। ধারণাটা হয়তো ভুল না। আমার বক্তব্য হলো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তরুণদের জন্য বেহেশতটা বাংলাদেশে নির্মাণ করে দেন। তরুণদের বেহেশত মানে হুরপরি না তরুণদের বেহেশত মানে হল তরুণ যেন সাংস্কৃতিক চর্চার জায়গা পায়, তরুণরা যেন ভিন্নমত চর্চার জায়গা পায়, তরুণরা যেন রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরোধী প্রজকশন করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা পায়, তরুণরা যেন সরকার সমালোচক হয়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে অবস্থান করতে পারে, তরুণদের জন্য ছাত্র রাজনীতি করার ব্যবস্থা করে দেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে ছাত্র নেতৃত্বে উন্মেষ ঘটানোর জন্য প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দেন, তরুণদের জন্য সুযোগের সমতা তৈরি করেন। তরুণরা যেন না দেখে গোপালগঞ্জের লোক হলে বা ক্ষমতাসীনদের লোক হলে বা বগুড়ার লোক হলে, ফেনীর লোক হলে আপনি বড় চাকরি পাবেন। তরুণ যেন না দেখে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা শক্তিশালী রাজনীতিবিদের আত্মীয় হলে আপনি মামলা থেকে রেহাই পাবেন। তরুণদের জন্য সুযোগের সমতা তৈরি করেন, তরুণদের জন্য ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করেন, তরুণদের জন্য নেতৃত্ব বিকাশের জায়গা তৈরি করেন, তরুণদের জন্য সাংস্কৃতিক চর্চা মুক্ত মননশীলতা বিকাশের জায়গা তৈরি করেন, ভিন্নমত প্রকাশের চর্চার জায়গা তৈরি করেন তাহলেই তরুণদের বেহেশত বাংলাদেশে নির্মাণ হয়ে যাবে।

কাজল রশীদ শাহীন : এবার কিছুটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন, প্রাইভেট বিশ্ববদ্যালয়ের শিক্ষকরা যখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করে কিংবা নানাবিধ কাজের সঙ্গে যুক্ত হন তখন সেটা নৈতিকভাবে সমর্থনযাগ্য কি, এমনকি আপনিও একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে আমরা জানি।

আসিফ নজরুল : আমার যে সুপারভাইজার ছিলেন ফিলিপস স্যান্ডস টিনি, সোয়াসের টিচার ছিলেন। উনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম একজন। উনার এনভায়রনমেন্টাল লবইটি সারা বিশ্বে পড়ানো হয়। উনি বাংলাদেশ মিয়ানমার মামলাতে বাংলাদেশের ল’ইয়ার ছিলেন। উনি সোয়াসের টিচার থাকা অবস্থায় আরো চারটা ইউনিভার্সিটিতে পড়াত। টিচার বিভিন্ন জায়গায় পড়াবে না? কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আমি কি আমার মূল জায়গা যেটা পাবলিক ইউনিভার্সিটি ঐখানে যদি ফাঁকি দিয়ে পড়ায়, ঐখানে ছাত্রদের বঞ্চিত করে যদি পড়ায় তাহলে এইটা আমার চরম অন্যায়। আমি এইখানে দায়িত্ব পালন করার পর আমি যে কোনো একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারি। এটা আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্বীকৃত। যে কোনো একটার সাথে যুক্ত হওয়া যাবে। যারা একাধিক করে তাদেরকে প্রশ্ন করেন। আমি একটার সঙ্গে জড়িত আছি।

কাজল রশীদ শাহীন : বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণার প্রতি বিরূপ মনোভাব ও গবেষণার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তীর্যক মন্তব্য রয়েছে?

আসিফ নজরুল : আমাদের এখানে সত্যিকার অর্থেই কী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণার মান অনেক ক্ষেত্রে নিন্মমুখি হয়েছে। এখানে গবেষণা করার পরিবেশ সত্যিই কম। আপনি বিশ্বাস করবেন কী না জানি না, পাবলিক বিশ্বগুলোতে যেই সরকারই ক্ষমতায় থাকুক বিএনপি বা আওয়ামীলীগ আপনি সরকারের দালাল হলে, আপনার প্রমোশন যে শিক্ষকটা রিসার্চ করেছে তার অনেক আগে হবে। তো এ বাস্তবতায় আপনি ভাল গবেষণা আশা করেন কিভাবে?

কাজল রশীদ শাহীন : অনেক বিষয়ে কথা হলো আপনার সঙ্গে, যার সার সংক্ষেপ করলে যে কারও মনে হবে অন্ধকারই কেবল ঘনীভূত হচ্ছে। বাস্তবিকই কি আপনি অন্ধকার দেখছেন, নাকি কোথাও কোনো আশার আলোও দেখতে পাচ্ছেন?

আসিফ নজরুল : বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ সাহসী, বাংলাদেশের মানুষ অন্যায় অত্যাচার দীর্ঘদিন সহ্য করে না। বাংলাদেশের মানুষ মুক্ত মননশীলতায় বিশ্বাসী। গণতন্ত্রের জন্য স্ট্রাগলের ইতিহাস উপমহাদেশের যে কোনো দেশের চেয়ে আমাদের বেশি। গণতন্ত্র নিয়ে এত স্ট্রাগল কেউ করে নাই। এই মানুষকে অনেক দিন পরাজিত করে রাখা যাবে না। আমাদের শিক্ষার প্রতি ব্যাপক চাহিদা আছে, গরিব মানুষদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষিত হচ্ছে মানুষ জন। এটা তো স্বীকার করতেই হবে, আপনার যত দীর্ঘ রাত্রি হোক এক সময় তো ভোর আসবেই। মনে রাখতে হবে, গভীরতম কৃষ্ণ অন্ধকারের পরে যে আলোটা আসে সেটা অনেক সুন্দর হয়। যা দেখছি তাতে মনে হচ্ছে আলোটা আসতে হয়ত দেরি হবে কিন্তু আসবে একদিন, নিশ্চয়।

সূত্রঃ পরিবর্তন

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: