প্রথম পাতা > প্রযুক্তি > মঙ্গলে অভিনব রোবট অভিযান

মঙ্গলে অভিনব রোবট অভিযান

সেপ্টেম্বর 24, 2016 মন্তব্য দিন Go to comments

curiosityশাহরিয়ার জামান : মঙ্গলের মতো হালকা বায়ুমন্ডলের প্রানডিটলএম ড্রোন চালানোর পরিকল্পনা করছে নাসা। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বেলুনের মাধ্যমে পৃথিবী পৃষ্ঠের ওপর এক লাখ ফুট উচ্চতায় নিয়ে ড্রোনটিকে ছেড়ে দেয়া হবে। নাসা জানিয়েছে, প্রানডিটলএম ড্রোনটির ওজন দেড় কেজিরও কম। মঙ্গলের এর ওজন কমে হবে মাত্র ১ কেজি। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা হবে ড্রোনটির ওড়ার ক্ষমতা। পরবর্তীতে ড্রোনটির সঙ্গে ক্যামেরাসহ বিভিন্ন যন্ত্র যুক্ত করে ওজন বহন ক্ষমতার পরীক্ষা চালানো হবে। আর সবশেষে পুরোপুরি মঙ্গলের বায়ুমন্ডলের ড্রোনটির ক্ষমতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে একে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার ফিট ওপরে ওড়ানো হবে।

নাসা মনে করে, ভবিষ্যতে প্রানডিটলএমের মতো ড্রোনগুলো মঙ্গলের ওপর দিয়ে ঘুরে বেড়াবে এবং এর পৃষ্ঠ ও জলবায়ু নিয়ে তথ্য পাঠাবে। তখন মঙ্গলে হবে ড্রোনেরই রাজত্ব, যা চলবে অন্তত মানুষ সেখানে পৌঁছা পর্যন্ত।

এই প্রথম মঙ্গলে পাওয়া গেছে কাঁচ। মঙ্গলকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) মার্স রিকোয়েসেন্স অরবিটার (এমআরও) একটি জ্বালামুখে এ কাঁচের সন্ধান পেয়েছে। এ আবিষ্কার মঙ্গলের পরিবেশ সম্পর্কে জানা ও জীবনের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ায় সহায়ক হতে পারে বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। সম্প্রতি বিজ্ঞান সাময়িকী জিওলজিতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে মঙ্গলে কাঁচ পাওয়ার বিষয়টি জানান নাসার গবেষকরা। ওই গবেষকরা এমআরওর পাঠানো তথ্য নিয়ে গবেষণা করেন।

গবেষকরা বলেন, মঙ্গলের পৃষ্ঠে গ্রহাণুর প্রচন্ড আঘাতের ফলে উপরিতলের কিছু অংশ গলে যায়। পরে ওই অংশ দ্রুত ঠান্ডা হয়ে কাঁচে পরিণত হয়। এভাবে ভূপৃষ্ঠের মাটি ও পাথর গলে তৈরি হওয়া কাঁচকে বলা হয় ইমপ্যাক্ট গ্লাস। গবেষকরা বলেন, ইমপ্যাক্ট গ্লাসের মধ্যে সামান্য পরিমাণ জৈব পদার্থ থাকে। লাখো বছর আগে পৃথিবীর ওপর আঘাত হানা গ্রহাণু নিয়ে গবেষণায় এমন জৈব পদার্থের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। গবেষকরা আশা করেন, মঙ্গলে কখনো জীবন থাকলে ইমপ্যাক্ট গ্লাসের মধ্যে এর অস্তিত্ব থেকে যাবে। কারণ, গ্রহাণুর আঘাতের পর অত্যন্ত তাপ ও চাপের পরপরই তা দ্রুত ঠান্ডা হয়। শীতল হওয়ার প্রক্রিয়া এতটাই দ্রুত হয় যে অণুগুলো সুগঠিত হতে পারে না। এর মধ্যেই অণুজীব আটকে যেতে পারে। গবেষকরা বলেন, ইমপ্যাক্ট গ্লাসের মধ্যে জীবনের অস্তিত্ব খোঁজা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তবে আশার কথা হলো, এমনই পরীক্ষা করার মতো বিষয় অন্তত পাওয়া গেছে। আর পরীক্ষা করা একেবারে অসম্ভব নয়। ২০২০ সালে মঙ্গলে পরবর্তী রোবটযান পাঠানো হবে। রোবটযানের সম্ভাব্য গন্তব্য হতে পারে ইমপ্যাক্ট গ্লাস পাওয়া অঞ্চল।

লাল গ্রহ মঙ্গলের পৃষ্ঠের মোট আয়তন প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ বর্গমাইল। এ দীর্ঘ অঞ্চলে মানুষের সর্বোচ্চ অর্জন বলতে রোবটযানের ৪০ মাইল ভ্রমণ। এ ছাড়া গ্রহটিকে কেন্দ্র করে ঘুরছে মানুষের তৈরি কৃত্রিম উপগ্রহ এমআরও। এর মাধ্যমে গ্রহটির পৃষ্ঠ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া গেলেও কয়েক কোটি বর্গমাইলের ভূপৃষ্ঠ সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান এখনো অস্পষ্ট।

বর্তমানে ভূপৃষ্ঠ নিয়ে গবেষণায় অহরহই ব্যবহার হয় চালকবিহীন বিমান ড্রোন। মঙ্গলপৃষ্ঠের তথ্য জানতেও এটি সহায়ক হতে পারে। এ লক্ষ্যেই মঙ্গলের জন্য বিশেষভাবে ড্রোন তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। নাসা জানিয়েছে, মঙ্গলের পৃষ্ঠ ও জলবায়ুসহ নানা বিষয়ে দ্রুত তথ্য আহরণের একটি কার্যকর যন্ত্র হতে পারে ড্রোন। জার্মান গবেষক লুডউইগ প্রানডিটলের নামানুসারে মঙ্গলের নাসার তৈরি ড্রোনটির নাম দেয়া হয়েছে প্রানডিটলএম। বর্তমানে এর পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এটি মঙ্গলে পাঠানো হবে। মানুষ পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে ওড়ার যন্ত্র তৈরিতে বেশ পারদর্শী হলেও অন্য গ্রহের ক্ষেত্রে একেবারেই নবিস বলা চলে। নাসার মতে, অন্য গ্রহের বায়ুমন্ডল ও অভিকর্ষণ ত্বরণের ভিন্নতা সে গ্রহের জন্য মানুষের উড়ন্ত যান তৈরির সবচেয়ে বড় বাধা।

পপুলার সায়েন্স জানায়, এর আগেও মঙ্গলের জন্য উড়ন্ত যান তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছিল নাসা। এমনই একটি প্রকল্পের ফসল ছিল এআরইএস নামক উড়োজাহাজ। এবারের প্রানডিটলএম তৈরি হয়েছে ওই উড়োজাহাজের আদলে। দুটি উড়ন্ত যানেরই পাখা বেশ প্রশস্ত। পিরামিড আকৃতির বস্তু তবে সাইজটা নাকি একটা গাড়ির সমান। আর এ ছবির দেখা মিলেছে মঙ্গল গ্রহের বুকে নাসার রোভার যান কিউরিওসিটির মাধ্যমে। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, ছবিটি পিরামিডের উপরের অংশের হলেও এর সিংহভাগটাই রয়ে গেছে মাটির নিচে। তাদের বক্তব্য, মঙ্গল গ্রহে একসময় এলিয়েন সভ্যতা ছিল, এ পিরামিডই তার প্রমাণ। পিরামিডের প্রায় নিখুঁত কাঠামোই বলে দেয় যে এটা আলোছায়ার কোনো খেলা নয়, বরং বুদ্ধিমান প্রাণীর সুচিন্তিত পরিকল্পনার ফসল। আর ওই কাঠামোটি শুধু পিরামিডই নয়, উপরন্তু মিসরের গিজা পিরামিডের প্রতিরূপ।

মার্স কিউরিওসিটি রোভার আলোচ্য ছবিটি তুলেছিল ৭ মে। কিন্তু নাসার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওটা একটা সাধারণ পাথর ছাড়া আর কিছু নয়। মার্স রোভার এক্সপ্লানেশন টিমের সদস্য ড. জিম বেল ইন্ডিয়ানা পলিসের উইশ টিভির কাছে বলেছেন, ওই বস্তুটি মানুষ বা ভিনগ্রহের প্রাণীর নির্মিত নয়।

সূত্রঃ দৈনিক যায় যায় দিন, ২০ আগষ্ট ২০১৬

Advertisements
বিভাগ:প্রযুক্তি
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: