প্রথম পাতা > অপরাধ, আন্তর্জাতিক, ইতিহাস, ইসলাম, রাজনীতি > নাইন-ইলেভেনের দেড় দশকোত্তর উপলব্ধি

নাইন-ইলেভেনের দেড় দশকোত্তর উপলব্ধি

911-56জি. মুনীর : ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ারে বিশ্বের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছিল। গত ১১ সেপ্টেম্বর ছিল এ ঘটনার পনের বছর তথা দেড় দশক পূর্তির দিন। এ পনের বছর পূর্তির দিনটিকে সামনে রেখে সিএনএনসহ অনান্য ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া ব্যাপকভাবে এ ঘটনার নানা বিষয় তুলে ধরছে। ‘আটলান্টিক ম্যাগাজিন’এর সেপ্টেম্বর সংখ্যায় এ বিষয় নিয়ে একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদন ছাপায়। এর প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘ইজ আমেরিকা অ্যানি সেফার’। সারা পৃথিবীর পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে নানা লেখালেখি হয়।

তবে, এ ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরপর আমেরিকানদের মনে কিছু স্বাভাবিক প্রশ্ন জাগে প্রথমত, তা হলে আমেরিকান গোয়েন্দাদের মধ্যে কি বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে, যে কারণে এরা ৯১১’র ঘটনা এরা ঠেকাতে পারেনি? দ্বিতীয়ত, কেনো মানুষ আমেরিকানদের ঘৃণা করে? তৃতীয়ত, আমেরিকা তা হলে আর অজেয় নয়, এবং চতুর্থত, আমেরিকাকে ধরে নেয়া হতো: ‘আমেরিকা ইজ দ্য ল্যান্ড অব দ্য ফ্রি অ্যান্ড দ্য হোম অব দ্য ব্রেইভ’ এবং আমেরিকা সব সময় থাকবে ‘নাম্বার ওয়ান’ সেই ধারণা কি ভুল প্রমাণিত হলো? এসব প্রশ্নের মাঝেও ‘পলিটিকস অব ফিয়ার অ্যান্ড হেইটমংগারিং’ বিষয়টি এখনো মানসিক বৈকল্য হিসেবে লেপটে আছে আমেরিকানদের মনমানসে। তাই এখনো তাদের একমাত্র ভাবনা ইসলামপন্থী সন্ত্রাসীরাই হচ্ছে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একমাত্র হুমকি। কিছু আমেরিকান সত্যিসত্যিই বিশ্বাস করে, বিশ্বব্যাপী কিছু দুষ্ট লোক আছে। যারা আমেরিকানদের ব্যাপারে ঈর্ষান্বিত এবং তারা আমেরিকার স্বাধীনতাকে ঘৃণা করে। তারা উত্তরকোরীয়দের থেকে আলাদা নয়। যারা বিশ্বাস করে, বিশ্বটা তাদের দেশকে ঘৃণা করে।

তাজ হাশমি যুক্তরাষ্ট্রে এক দশক ধরে নিরাপত্তা বিষয়ে ছাত্রদের পড়ান অস্টিন পিয়েই স্টেট ইউনিভার্সিটিতে, মিলিটারি ও সিভিল উভয় ক্ষেত্রেই। তিনি তার এক সাম্প্রতিক লেখায় উল্লেখ করেছেন– ‘আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি গড়পড়তা আমেরিকান রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী ও জেনারেলরা বিশ্বাস করেনটেরোরিজম হচ্ছে একটি অরিজিনাল সিন। আর টেরোরিস্টেরা হত্যার জন্যই হত্যা করে! এরপরও দশ বছরের এক আমেরিকান বালক একটি ব্যতিক্রম। টুইন টাওয়ারে দ্বিতীয় বিমানটি আঘাত হানার পর মুহূর্তে তার বুদ্ধিদীপ্ত মন্তব্য ছিল: ‘Why are they killing us? We must’ve done something wrong to some people, somewhere in the world.’!

আমেরিকাকে যারা চালান, তারা যদি ওই বালকের প্রশ্নের জবাব খোঁজার চেষ্টা করতেন, তবে আজকের বিশ্বচিত্রটা হতো পুরোপুরি ভিন্ন রকম। দুর্ভাগ্য আমেরিকার হর্তাকর্তারা তার প্রশ্ন মোটেও আমলে নেননি।

নাইনইলেভেনের দেড় দশকের পর এখন আমেরিকার গণমাধ্যম, রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকেরা হয়তো তাদের মতো করে পর্যালোচনা করে দেখছেন এ দুর্ভাগ্যজনক দিনটিকে ঘিরে কী ভুলটা তাদের হয়েছিল। আর নাইনইলেভেন ও এর পরবর্তী ঘটনাবলি এ পর্যন্ত অর্থনীতি ও সমাজে কতটুকু ক্ষতিসাধন করেছে। আলকায়েদা, আইএস ও তাদের অত্যুক্তিকর সংগঠনগুলোকে পরাজিত করার ব্যাপারে এরা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে আমেরিকার আর কী করা উচিত ছিল। নাইনইলেভেনের অজুহাতে পরবর্তী দেড় দশকে আমেরিকা যা করেছে, সে জন্য আমেরিকার মধ্যে কোনো অপরাধবোধ নেই।

কোনো অনুশোচনা নেই। আমেরিকার বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশে এ সময়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ করেছে, গুয়ানতানামো বে এবং আবুগারিবে গড়ে তুলেছে সন্ত্রাস দমনের অজুহাতে অমাবনবিক নির্যাতন চালানোর বিশ্বনিন্দিত কারাগার। এসবের জন্য নেই মুসলিম দুনিয়ার কাছে আমেরিকানদের কোনো ধরনের ক্ষমা প্রার্থনা। হিরোশিমার পরবর্তী সময়ে আমেরিকান বোমা, মারণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়ে এই বিশ্বে প্রাণ হারিয়েছে এক কোটিরও বেশি নিরস্ত্র মানুষ। এসব কে না জানে। আমেরিকার বেশির ভাগ সাধারণ মানুষ খুব কমই জানে তাদের দেশের এসব গোপন ও প্রকাশ্য দেশ দখল ও সন্ত্রাস লালনপালনের কাহিনী। বিশ্বের মানুষ জানে, আলকায়েদা, তালেবান ও আইএসআইএস সৃষ্টির পেছনে আমেরিকা ও তার অনুগত দেশগুলোর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হাত রয়েছে। এটি দুঃখজনক হলেও সত্যি।

নাইনইলেভেনের লেগাসি আজও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে গোটা বিশ্বকে, এমনকি আমেরিকাকেও। আমেরিকা ও তার মিত্রজোটের সৈন্যরা ২০০১ সালের নভেম্বরে আফগানিস্তানে ঢুকে পড়ার পরের কয়েক মাসে সেখানে নির্বিচারে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক লোক হত্যা ও আটক করে। গুয়ানতানামো বে ডিটেনশন সেন্টারে রেখে শত শত বন্দীর ওপর বছরের পর বছর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। যার খণ্ডচিত্র গণমাধ্যমে ছিটেফোঁটা প্রকাশ পেয়েছে। নাইনইলেভেনের পর আমেরিকা ও এর মিত্রজোটের সৈন্যদের একটার পর একটা দেশ দখল করার পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্যটা কী, তা প্রকাশ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ওয়েসলি ক্লার্কের বক্তব্যে। তিনি প্রকাশ্যেই বলেছেন, আমেরিকা ২০০৩ সালে ইরাক দখল করে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা রক্ষা বা মাতৃভূমি আমেরিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নয়। তিনি বলেন,‘ নাইনইলেভেনের ঘটনার ১০ দিন পর আমি পেন্টাগনে গিয়েছিলাম একজন জেনারেল আমাকে ডেকে নেন। তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা ইরাকের সাথে যুদ্ধে যাব। আমি আন্দাজ করলাম, হতে পারে সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে আমাদের করণীয় সম্পর্কে আমরা সঠিক জানি না। শুধু জানি, আমাদের একটি ভালো সামরিক বাহিনী আছে, আমরা অনেক সরকারেরই পতন ঘটাতে পারি।’ তিনি আরো বলেন, ‘পেন্টাগনের গোপন অ্যাজেন্ডা হচ্ছে পাঁচ বছরের মধ্যে সাতটি দেশে ঢুকে পড়া। শুরু হবে ইরাক দিয়ে, এর পর সিরিয়া, লেবানন, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান এবং শেষ হবে ইরান দিয়ে।’

আসলে আমেরিকার শক্তিশালী মিলিটারিইন্ডাস্ট্রিয়াল লবি চায় না আমেরিকা সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় ছোটখাটো যুদ্ধে লিপ্ত থাকুক। এদের পছন্দ দূরবর্তী দেশের সাথে ‘প্রফিটস অব ওয়ার’ হিসেবে যতসব মেগাওয়ার। ইরাক ইনভেশনের কারণ নাইনইলেভেন নয়। তাদের পছন্দের তালিকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওসের মতো সর্বাত্মক যুদ্ধ, তা যে দেশের বিরুদ্ধেই চালানো হোক। আজকের আফগানিস্তান ও ইরাকের মতো অন্যান্য দেশ দখলে আমেরিকার অবৈধ অনুপ্রবেশের যুদ্ধগুলোর মতো ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওসে পরিচালিত আমেরিকান যুদ্ধে এসব দেশের লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত এসব যুদ্ধকে কেবল তুলনা করা চলে হিটলার, মুসোলিনি আর টোজো হেডেকির যুদ্ধের সাথে।

আমরা সবাই জানি, নাইনইলেভেনের ঘটনার পর এ ঘটনার জন্য আলকায়েদাকে দায়ী করে ঘটনার পর দিন থেকে ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শুরু করে সন্ত্রাস দমনের নামে তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষের কাছে এ কথা আজ স্পষ্ট, আলকায়েদার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত অভিযোগটির কোনো বাস্তব ভিত্তি ছিল না। নাইনইলেভেন ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের একটি ইহুদিবাদী যৌথ দুষ্কর্ম, আলকায়েদার ওপর মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে ইহুদিদের যোগসাজশে এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফলসফ্ল্যাগ অপারেশন বা কভার্ট অপারেশন মাত্র। এটিও আজ সবার জানা নাইনইলেভেন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অনেক মিথ্যাচার করেছে এবং সুষ্ঠু তদন্তকেও বাধাগ্রস্ত করেছে। এ ছাড়া নাইনইলেভেনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্ররা তথাকথিত সন্ত্রাস দমনের নামে বিশ্বব্যাপী যে যুদ্ধ এই দেড় দশক ধরে চালিয়ে আসছে, তাতে দেড় কোটির মতো মুসলমান মারা গেছেন এ যুদ্ধের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষের প্রভাবে। অসংখ্য মুসলমান অমানবিক ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন গোয়ান্তানামো বে’র বন্দিশালায়। এর বাইরে নাইনইলেভেন পরবর্তী এই দেড় দশকে যে তিন কোটি আমেরিকান মারা গেছে, সে সব মৃত্যু ছিল প্রতিরোধযোগ্য বা প্রিভেন্টেবল। এসবই নাইনইলেভেন নানা গাণিতিক চিত্রের যৎসামান্য, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার গণমাধ্যমে যেমন উল্লেখ করা হয় না, তেমনি রাজনীতিবিদেরাও উল্লেখ করেন না। বরং এরা এসব তথ্য যথাসম্ভব লুকাতে চেষ্টা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস এবং ইহুদিবাদীদের সমর্থিত মার্কিন সন্ত্রাসবিরোধী জোটের যুদ্ধে নাইনইলেভেনের পরবর্তী সময়ে খরচ হয়েছে ১০ ট্রিলিয়ন ইউএস ডলার। নাইনইলেভেনোত্তর সময়ে আফগানিস্তান ও ইরাকে নিহত হয়েছে ১০ হাজার মার্কিন সামরিক ব্যক্তি।

বলা হয়, টুইন টওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে তিন হাজার লোক হত্যার বদলা নিতে যুক্তরাষ্ট্র এর নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী জোট শুরু করে এই তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ। আসলে এটি নিওকন আমেরিকান ও জায়নবাদী সাম্রাজ্যবাদীদের এক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, মার্কিন জোটের এক সন্ত্রাস। যার শুরু নাইনইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার অজুহাতে। এখানে চলছে মার্কিন জোটের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসযুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, ফরাসি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, জার্মান রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও বর্ণবাদী রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসসহ এ জোটে থাকা আরো বেশ কিছু মুসলিম দেশের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসও। আর এ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়ে বিশ্বে দেড় কোটিরও বেশি মুসলমান নিহত হয়েছেন এই দেড় দশকে। প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এ যুদ্ধে। এক লাখ মার্কিন সেনা করেছেন আত্মহত্যা। কত সৈনিক হয়েছে মানসিক রোগী, তার ইয়ত্তা নেই। এরাও পরোক্ষভাবে এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার। তাদের বাধ্য করা হয়েছে তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে যেতে। এ ধ্বংস এখনো চলমান। কিন্তু এর সমাধান উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। বর্ণবাদী পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যম ও রাজনীতিবিদেরা, এমনকি কিছু শিক্ষাবিদেরাও এসব রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে, নানা অপপ্রচার চালিয়ে, প্রকৃত সব তথ্য গোপন করে, জনসমক্ষে প্রকাশ না করে। আজকে পাশ্চাত্যের প্রত্যক্ষপরোক্ষ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে তছনছ গোটা আরব দুনিয়া। এসব দেশের মানুষ এখন দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। দেশের ভেতরে নির্বিচার হত্যার শিকার হচ্ছে। অনেকে তা থেকে বাঁচতে ইউরোপের অনেক দেশে পালিয়ে গিয়ে শরণার্থী হয়ে সীমাহীন দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়েছেন। পাশ্চাত্য তাদের নিয়ে শুধু খেলছে। এদের হাতের পুতুল হয়ে উঠেছে অনেক মুসলিম দেশ। বিভিন্ন মসলিম দেশে শান্তির ললিতবাণী শুনিয়ে পাশ্চাত্য উসকে দিচ্ছে ভ্রাতৃঘাতী নানা সশস্ত্র সঙ্ঘাত। এর শেষ কোথায়, সেটাই এখন প্রশ্ন।

নাইনইলেভেনের পরবর্তী দেড় দশকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ নামের তথাকথিত যুদ্ধের মাধ্যমে গোটা মানব জাতির অর্জন কতটুকু হলো, তা মূল্যায়ন করে এখন সময় এসেছে গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দাবিদার আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ার উচিত অবিলম্বে দখল করা দেশগুলো থেকে সৈন্যদের ফিরিয়ে আনা। সেখানে দেশের মানুষকে পছন্দের সরকার গঠনের সুযোগ করে দেয়া। এসব দেশে এরই মধ্যে লাখোকোটি নিরস্ত্র মানুষকে বিভিন্ন যুদ্ধের শিকার হয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে। এখন সময় সেইসব অপরাধীকে বিচারের মুখোমখি করা, যারা এসব নিরপরাধ মানুষ হত্যার জন্য দায়ী।

নাইনইলেভেনের এই দেড় দশক পর আমেরিকাকে ভেবে দেখতে হবে, এত যুদ্ধ ও মানুষ হত্যার পর আজকের আমেরিকা কি আগের চেয়ে নিরাপদ? বিবেকবান মানুষ মনে করেন, আমেরিকা ও এর মিত্ররা শুধু তখনই নিরাপদ হবে, যখন বিশ্বের অন্যান্য মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এর জন্য আমেরিকা এর মিত্রদের হতে হবে অন্য দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানবিক মর্যাদা সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল। যে ইসলাম একটি নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করাকে গোটা মানবজাতিকে হত্যার শামিল বিবেচনা করার নীতি অবলম্বন করে, সে ইসলামকে ও এর অনুসারীদের সন্ত্রাসীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ যুদ্ধ এর কোনো সমাধান নয়। নাইনইলেভেন দেড় দশকের জায়মান প্রমাণ। তাই এখন সময় নতুন উপলব্ধির।

সূত্রঃ দৈনিক নয়াদিগন্ত, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: