প্রথম পাতা > ইতিহাস, ইসলাম, ধর্মীয়, রাজনীতি > মুসলিম ভূখন্ড হারানোর বেদনাদায়ক ইতিহাস

মুসলিম ভূখন্ড হারানোর বেদনাদায়ক ইতিহাস

muslim-landআবু নাসের : ইতিহাসের এক যুগ সন্ধিক্ষণে আরব, তুর্কি ও মোগল বংশের মুসলমানেরা পূর্ব গোলার্ধের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে সভ্যতার বীজ বপন করলেও অষ্টাদশ শতকের পরে বিশেষতঃ তুর্কি জাতি ও মোগলদের দুর্বলতার সুযোগে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের হাতে নাস্তানাবুদ হয়ে পড়ে। ইতিহাস সাক্ষী, মুসলমানরা যেখানে গেছেন, তারা সে এলাকাকে করে তুলেছেন সভ্য ও উন্নত অথচ ইউরোপীয় বেনিয়ারা করেছে তার ঠিক বিপরীত। তাদের মুখ্য মতলব ছিল উপনিবেশ বা কলোনী তৈরি। উপনিবেশবাদীরা তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মকে পর্যন্ত উপনিবেশে প্রতিষ্ঠা করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়। অন্যত্র শতভাগ সফল হলেও মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে তারা প্রচন্ড হোঁচট খায়।

ঐতিহাসিক অধ্যাপক উইলিয়াম মন্টগোমারি ওয়ার্টের মতে, ইউরোপ মুসলিম বিশ্বে তাদের চাপিয়ে দেয়া শিক্ষার সিলেবাস কার্যকর করে বশংবদ সামরিকবেসামরিক আমলা ও বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর সৃষ্টি করে। যারা নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মকে এড়িয়ে গিয়ে এমনকি তাদের নব্য প্রভুদের প্রায় সব কিছু গ্রহণ করে। ভারতের খ্যাতনামা গবেষক ড. রফিক জাকারিয়া তাঁর বিখ্যাত ‘দি স্ট্রাগল উইদিন ইসলাম’ নামক গ্রন্থে মন্তব্য করেন যে, এভাবে সেকুলার ও তথাকথিত মৌলবাদী যে দুই শ্রেণীর মুসলমান সৃষ্টি হয় সে উভয় গোষ্ঠীকে পাশ্চাত্য পরিস্থিতি বুঝে ব্যবহার করে। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ রয়েছে বৃটিশ ভারত ও আফগানিস্তানের ইতিহাসে।

প্রকৃতপক্ষে, পশ্চিমারা সেকুলার ও ইসলামপন্থী কোন গোষ্ঠীরই বন্ধু নয়, তারা নিজেদেরই বন্ধু। এই খেলাটা বৃটিশরাই সর্বপ্রথম শুরু করে বাণিজ্যের আড়ালে। তার পরে আসে পাশ্চাত্যের অন্যান্য খৃস্টান জাতি। ভারতবর্ষের ইতিহাসে ১৭৫৭ সাল ছিল পশ্চিমা খৃস্টান বেনিয়াদের বিশ্বাসঘাতকতার বছর। ব্যবসায়ী হয়ে যায় শাসক। ১৮৪৯ সালের মধ্যে বৃটিশরা হিন্দুস্তানের প্রায় সব এলাকা দখল করে বার্মাশ্রীলংকা পর্যন্ত এগিয়ে যায়। এরপর দখল করে মুসলিম প্রধান মালয় উপদ্বীপ। বৃটিশরা আরো দখলে নেয় আফ্রিকার শেষ দক্ষিণ প্রান্তের কেপ অব ওডহোপ। সর্বপ্রথম এটি পর্তুগীজদের দখলে ছিল, যখন ১৪৮৬ সালে পর্তুগীজ দিয়াজ এটি আবিষ্কার করেন। ১২০ বছর পর এটি ডাচদের দখলে যায় যারা ২০০ বছর এটি ধরে রাখে। ১৮০৬ সালে বৃটেন এটা দখলে নেয়।

বৃটিশ দখলে যাওয়ার পর সেখানকার বুয়ার নাম ডাচ কৃষকেরা উত্তরে সরে দিয়ে ট্রান্সভাল ও অরেঞ্জ ফ্রি স্টেট নামে দু’টি কলোনী গড়ে তোলে। তবে ১৮৭০ সালে মেসিল রোডস নামক এক ইংরেজ দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে ধীরে ধীরে চক্রান্তের মাধ্যমে রোডেশিয়া নামক একটি কলোনী সৃষ্টি করে। ১৭৯৮ সালে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট মিসর দখল করে, পরে ফ্রান্স সুয়েজখাল খনন করে মিসরকে দেউলিয়া বানায়। বৃটিশরা মিসরের শাসক ইসমাইল পাশার শেয়ার কিনে মিসরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ঢুকে পড়ে। তারা অর্থনৈতিক সাহায্যের আড়ালে পরে সামরিক বাহিনী নামিয়ে ১৭৫৭ সালের পলাশি ষড়যন্ত্রের আদলে ১৮৮২ সালে মিসরকে দখল করে নেয়।

আফ্রিকার সুদানে ধর্মীয় আন্দোলন শুরু হলে ১৮৮৪ সালে হানাদার বৃটিশ জেনারেল গর্ডন নিহত হন। ১৮৯৮ সালে বৃটিশ বাহিনী মিসরীয় বাহিনীর সহায়তায় মাহদিকে হত্যা করে। তারা পর্যটক ও খৃস্টধর্ম প্রচারকদের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে নাইজেরিয়া, গোল্ডকোস্ট, সিয়েরালিওন, গাম্বিয়া, উগান্ডা, কেনিয়া ও সোমালিল্যান্ডের একটি অংশ দখল করে। পিঠা ভাগাভাগির ন্যায় ফ্রান্স পায় কঙ্গোর একটি অংশ, দাহোমি, আইভরিকোস্ট, গিনির এক অংশ, সেনেগাল, সোমালিল্যান্ডের অংশ, সাহারা মরুভূমির বৃহদাংশ ও মাদাগাস্কার, তিউনিসিয়া ও ফ্রান্সের দখলীকৃত হয়। ইতালী পায় ইরিত্রিয়া ও সোমালিল্যান্ডের অংশ। জার্মানরা দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু অংশ, ক্যামেরুন, টোগো ও পূর্ব আফ্রিকার অংশবিশেষ পায়। খৃস্ট ইউরোপ ১৯০২১৯০৪ সময়কালে গোপনচুক্তির মাধ্যমে ভূখন্ড ভাগাভাগি করে। চুক্তি হয় ফ্রান্স মরক্কো পাবে, ইতালি নেবে ত্রিপলী, বৃটেন মিসর দখলে রাখবে। এটি আরেক গোপন সাইকসপিকো চুক্তি। ১৯১১ সালে ফ্রান্স পেয়ে গেল মরক্কো, ত্রিপলী তখনো তুর্কীর শাসনে। হানাদার বাহিনী পাঠিয়ে পোপের দেশ ইতালী ত্রিপলী তথা লিবিয়া দখল করে।

১৯১১ সালের পর লনে তথাকথিত এক শান্তিচুক্তির মাধ্যমে তুরস্কের অধীন আলবেনিয়াকে নতুন রাষ্ট্র করা হয়। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সময় পাশ্চাত্য আরবদের স্বাধীনতা দেয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের ব্যবহার করে আরব জগতে তুর্কীদের হত্যা করে।

বৃটিশ গোয়েন্দা অফিসার লরেন্স আরব ছদ্মবেশে ধ্বংসাত্মক কাজ করতে থাকে। ফিলিস্তিনি আরবদের সহায়তায় বৃটিশ জেনারেল এলেনবি জেরুজালেমসহ সমগ্র ফিলিস্তিন দখল করে নেয়। ফিলিস্তিনিরা স্বাধীনতা পায়নি। বৃটিশ ও ইহুদিদের গোপন বেলফোর চুক্তিতে ফিলিস্তিন চলে গেল ইহুদিদের হাতে। উচিত শিক্ষা পায় আরবরা।

তুরস্কে যখন সেকুলার ও ইসলামভীরুদের অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে তখন ইতালি ত্রিপলি দখল করে নেয়। এরপর তুরস্কের বলকান অঞ্চলকে আলাদা করতে ইউরোপীয় খৃস্ট শক্তি বলকান লীগ গঠন করে। এর মধ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে উঠে (১৯১৪১৮)। তুরস্ক পরিস্থিতির কারণে জার্মানির সাথে থাকায় যুদ্ধ শেষে জার্মানির পরাজয়ে বৃটেন ফ্রান্স ও তাদের মিত্রদের কাছে বিশাল এলাকা হারায়।

প্যারিস পিস কনফারেন্স : শান্তির নামে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ীদের পিঠাভাগের সম্মেলন আয়োজন করা হয় ফ্রান্সের রাজধানীতে। এতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এজিয়ান সাগরের সমগ্র উত্তর উপকূলসহ ইস্তাম্বুল নগরী পর্যন্ত তুরস্কের কাছ থেকে গ্রীসের অন্তর্ভূক্ত হবে। তুর্কি বাহিনীর নেতৃত্বে সমগ্র বিশ্বের মুসলমান সামরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে গাল্লি পাল্লি থেকে ইস্তাম্বুল রক্ষা করেছিল পরবর্তীকালে। এই তথাকথিত শান্তি সম্মেলনে পশ্চিমা শক্তি ইরাক, ফিলিস্তিন ট্রান্সজর্ডান, সিরিয়া ও লেবাননকে তুরস্ক থেকে কেটে নেওয়া হয়। তবে ওয়াদামাফিক স্বাধীনতা না দিয়ে এ দেশগুলোকে বৃটেন ও ফ্রান্স ভাগ করে নিল ম্যানডেটের নামে পিকো সাইকস গোপন চুক্তির আড়ালে।

হল্যান্ড : ১৫৯০এর দশকের দিকে ডাচ গোল্ডকোস্টের নাম পাওয়া যায়। শ্রীলংকা দখলে নিতে বৃটিশদের কাছে ব্যর্থ হয়ে হল্যান্ড বা নেদারল্যান্ড ১৮৪০ সালে ইন্দোনেশিয়ার এলাকা দখল করে। এর ভেতর ছিল মালাক্কা, সুমাত্রা, জাভা, বোর্নিও, সেলিবিস ও অন্যান্য দ্বীপ। ১৬১৯ সালে জাভার বাটাভিয়া তথা জাকার্তায় কুঠি প্রতিষ্ঠা করে ডাচ ইস্ট ইন্ডিজের রাজধানী করে। তারা ১৬৩৮ সালে মরিসাস দখল করে। ১৮৭১ সালে ডাচ গোল্ড কোস্ট বিক্রয় হয় বৃটেনের কাছে। দেশ কেনাবেচা দেশের বাইরে !

রাশিয়া : ১৭২২ সালে জার পিটার দ্য গ্রেট পারস্যের সাফাভিদ রাজ্য থেকে ককেসাস ও কাম্পিয়ান সাগরের নিকটস্থ স্থান দখলে নেয়। এসপ্রেস এনার ওসমানি সুলতানের অধীনস্থ ক্রিমিয়ার খানেট রাজ্য দখলে নেয়। ক্যাথেরিন দ্য গ্রেট (১৭৬২১৭৯৬) ওসমানীয় সুলতানকে পরাজিত করে কৃষ্ণসাগর পর্যন্ত সীমানা বৃদ্ধি করে। ১৮০২ সালে পারস্য থেকে জর্জিয়া আলাদা করে রাশিয়া ওসমানীয় সাম্রাজ্য থেকে সলভোভিয়া নেয় ১৮১২ সালে। ১৮০২ সালে পারস্য থেকে মুসলিম দাগেস্তান দখল করে। আজারবাইজানের একটি অংশও রুশ দখলে চলে যায়। এর সাথে যুক্ত হয় আর্মেনিয়া ও ইগডির। তুর্কীর বিরুদ্ধে রাশিয়া গ্রীকদের উস্কানি ও সাহায্য দেয়। তুরস্ক থেকে বুলগেরিয়া ও সার্বিয়াকে আলাদা করে। রুমানিয়া ও মন্টিনেগ্রোও বিচ্ছিন্ন হয়।
১৮৭৭৭৮ সালে রুশ তুর্কি যুদ্ধে জিতে রাশিয়া তুর্কি এলাকার বাটুমি, আরদাহান ও দক্ষিণ ককেসাসের কারস এলাকায় খৃস্টানদের বসতি স্থাপন করে মুসলিম বিতাড়ন শুরু করে।

এশিয়ার কিরগিজ তৃণভূমি : ঊনিশ শতকের শেষেই রাশিয়া পৃথিবীর ছয়ভাগের একভাগ নিয়ে নেয়, যার বিশাল অংশের মালিক ছিল মুসলমানরা। সমগ্র এলাকায় রুশদের সংখ্যা ছিল শতকরা ৪৫ ভাগ। প্রায় একশত জাতিসত্তাকে রুশরা দাবিয়ে রাখে। মধ্য এশিয়ার মুসলিম প্রধান কাজাকিস্তান, কিরগিজিস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান, ওসমানীয় তুর্কীর আরদাহান, আর্টভিন, ইগডির, কারস ও এর জুরুমের উত্তরপূর্বাঞ্চল রুশ অধিকৃত হয়। ১৮৮৯ সালে রাশিয়া আফ্রিকাশৃঙ্গের জিবুতির কাছে সাগাল্লোতে কলোনি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। তার লক্ষ্য ছিল লোহিত সাগরের কাছে ঘাঁটি স্থাপন। আমুর নদীর উত্তরে সব মুসলিম অঞ্চল রাশিয়ার পদানত হয়। প্রতিবেশিরাই তুরস্কের সবচেয়ে বড় শত্রু প্রমাণিত হয়। রাশিয়া ১৮৭৫ সালে বলকানের সার্বিয়া, মন্টিনেগ্রো ও বুলগেরিয়াকে তুরস্ক থেকে আলাদা হতে উস্কানি প্রদান করে। পশ্চিমা শক্তির মুসলিম ভূখন্ড দখলের উৎসবে রাশিয়া ককেশাস ও মধ্য এশিয়ার মুসলিম অঞ্চল গিলে খায় ১৮৬৫১৮৭৩ সালের মধ্যে। রাশিয়ার এই পিঠাভাগের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে অস্ট্রেলিয়া ও গ্রেট বৃটেন ১৮৭৮ সালে কংগ্রেস অব বার্লিন নামক সভা ডেকে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে অস্ট্রিয়ার হাতে দিয়ে দেয়। গ্রেট বৃটেন পায় তুরস্কের সাইপ্রাস দ্বীপ।

চীন : কিং ডাইন্যাস্টির শাসনামলে বিশেষতঃ ডুনগান বিদ্রোহ (১৮৬২১৮৭৭) এবং পানসে বিদ্রোহ (১৮৫৬১৮৭৩) সংঘটিত হয়। পানসে, বিদ্রোহে দশলক্ষ হুই মুসলিম ও ডুনগান বিদ্রোহে কয়েক মিলিয়ন হুই মুসলিম নিহত হয়। ১৮৭৬ সালে চীনের মাংচু বংশীয় রাজা পূর্ব তুর্কিস্তান দখল করে। আট বছরের যুদ্ধ শেষে এই তুর্কি মুসলিম অঞ্চল চীনের সাথে অঙ্গীঁভূত করা হয় জিনজিয়াং বা সিনকিয়াং (নয়া মুল্লুক) নাম দিয়ে ১৮৮৪ সালের ১৮ নভেম্বর। অধুনাবিলুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন চীন থেকে স্বাধীনতা লাভে উইঘুর তুর্কিদের সাহায্য করে, তবে যখন চীনে কমিউনিস্টরা ক্ষমতা দখল করে তখন আবার সেই বিদ্রোহ সোভিয়েত ইউনিয়নই দমন করে।

তুর্কিস্তান এলাকায় নকশবন্দী সুফিরা চীনের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন। এগুলো হয় ১৮২০২৮, ১৮৩০, ১৮৪৭, ১৮৬১ সালে। ইয়াকুব বেগ (১৮২০৭৭) পুরনো তুর্কিস্তান মুক্ত করে দশ বছর শাসন করেন। সুফি দরবেশরা বাংলার ফকিরসুফিদের ন্যায় চীনের অন্যান্য মুসলিম অঞ্চলে যুদ্ধ করেন। এ সময় একজন মহান মুসলিম বীর ছিলেন মা সিং সিন (মৃত্যু ১৭৮১ সালে)। পরে আরেক মুসলিম বীর ছিলেন মা মুয়া সিং, যিনি ১৮৬২১৮৭৭ সালে যুদ্ধ করেন। তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছে নি:শেষ হয়ে যান সবাই। ইউনান এলাকায় মুসলিম বীর টুওয়েন সিন চীনা সম্রাটের বাহিনীকে পরাজিত করে সুলতান সোলায়মান নাম নিয়ে পনেরো বছর রাজত্ব করেন।

বিশ্বজুড়ে এককালে মুসলমানদের শৌর্যবীর্যের খ্যাতি ছিল। ইতিহাসে ওসমানীয় সাম্রাজ্য ও মোগল সাম্রাজ্যের প্রবল প্রতাপের কথা লিপিবদ্ধ আছে। কিন্তু প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, শাসকদের ভোগবিলাসিতা মুসলিম সাম্রাজ্যগুলোকে ছারখার করে দেয়। যার ফলে বহিঃশত্রুর কুটিল চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ও আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়নি ওসমানিয় সাম্রাজ্যের ন্যায় বিশাল খেলাফত। মুসলিম ভূখন্ডগুলোকে সাম্রাজ্যবাদী খৃস্টশক্তি খন্ডবিখন্ড করে ফেলে এবং তাদের ঐক্য ও সংহতিকে দুর্বল করে দেয়। পাশ্চাত্যের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়ে আরবরা তুর্কিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। কিন্তু পশ্চিমাদের মিথ্যা প্রলোভনে পড়ে আরবরা আজ শতধা বিভক্ত। সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে পদানত করে তাদের সম্পদ শোষকের নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের ব্যবহার করে। যার রক্তাক্ত পরিণতি বহন করছে মধ্যপ্রাচ্য সহ বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠী।

সূত্রঃ দৈনিক পূর্বকোণ, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: