প্রথম পাতা > জীবনী, নারী, বাংলাদেশ, সাহিত্য > নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধূরাণী : জীবন ও সাহিত্য সাধনা

নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধূরাণী : জীবন ও সাহিত্য সাধনা

fayjunnesa-3মো. জোবায়ের আলী জুয়েল : নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধূরাণী ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে কুমিল্লা (ত্রিপুরা) জেলার পশ্চিমগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ব্রিটিশ শাসনাধীন উপমহাদেশের প্রথম মুসলমান মহিলা নওয়াব ও নারী শিক্ষার রূপকার ও প্রজাবৎসল জমিদার ছিলেন তিনি। নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধূরাণী বাংলাদেশের একমাত্র মহিলা যিনি এই উপাধি পান। তাঁর পিতা আহমেদ আলী চৌধুরী (মৃত্যু ১৮৪৪ খ্রি.) ছিলেন একজন নামকরা জমিদার। মা’ আফরুন্নেছা (মৃত্যু ১৮৮৫ খ্রি.)

আহমেদ আলীর পূর্ব পুরুষ দিল্লীর বাদশাহ শাহ আলমের কাছ থেকে সনদ লাভ করে হোমনাবাদ পরগণার জমিদার হন। ফয়জুন্নেসার বড় দুই ভাই ছিলেন এয়াকুব আলী চৌধূরী ও ইউসুফ আলী চৌধূরী। তার ছোট দুই বোন লতিফুন্নেসা চৌধূরাণী ও আমিরুন্নেসা চৌধূরাণী।

ফয়জুন্নেসা চৌধূরাণী বাউকসারের জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধূরীর সঙ্গে ১৮৬০ খ্রি. বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পিতার দিক থেকে তিনি তার দূরসম্পর্কের আত্মীয় ছিলেন। গাজী চৌধূরীর একান্ত আগ্রহে এই বিয়ে সুসম্পন্ন হয়। ফয়জুন্নেসা স্বামীর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ছিলেন। তার দুটি কন্যা সন্তান ছিল আরশাদুন্নেসা ও বদরুন্নেসা। ফয়জুন্নেসার দাম্পত্য জীবন সুখের হয়নি। ৬/৭ বছরের মাথায় সপত্নী বিদ্বেষের কারণে তার স্বামী থেকে বিচ্ছেদ ঘটে। তিনি পিতৃগৃহে ফিরে বাকি জীবন অতিবাহিত করেন।

দ্বিতীয় কন্যা বদরুন্নেসা তার সঙ্গেই ছিল। ফয়জুন্নেসা নিজ চেষ্টায় বাংলা শেখেন এবং সংস্কৃতি ভাষায়ও শিক্ষা লাভ করেন। তিনি ইংরেজি ভাষা জানতেন কিনা জানা যায়নি। কিন্তু ইংরেজি শিক্ষার প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ ছিল তা প্রমাণিত। ১৮৭৬ খ্রি. নিজ খরচে তিনি কুমিল্লায় ইংরেজি বিদ্যালয় স্থাপন করেন। তাজউদ্দীন মিয়া তাঁর গৃহশিক্ষক ছিলেন। শৈশবে তাঁর নিকট তিনি শিক্ষা লাভ করেন। তার গৃহে পারিবারিক লাইব্রেরি ছিল। এই লাইব্রেরিতে তিনি নিয়মিত লেখাপড়া করতেন। ফয়জুন্নেসার বাংলা ভাষা শিক্ষার এবং বাংলা গ্রন্থ রচনার ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। এদিক থেকে তিনি বেগম রোকেয়ার অগ্রগামী ছিলেন।

ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্য ভাগে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মুসলমান নারী জাগরণের পথিকৃৎ। বাংলাদেশের নারী সমাজ যখন অবহেলিত তখন তিনি ১৮৭৩ খ্রি. নারী শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে নিজ গ্রাম কুমিল্লা (ত্রিপুরা) জেলার লাকসামে মহিলাদের জন্য একটি বিদ্যালয় স্থাপন করে নিজেই তাদের শিক্ষা দেবার জন্য শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োজিত হন। এটি উপমহাদেশে বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত মেয়েদের প্রাচীনতম স্কুলগুলোর অন্যতম। কালক্রমে এটি একটি কলেজে রূপান্তরিত হয় এবং এর নাম হয় নওয়াব ফয়জুন্নেসা কলেজ।

জমিদার হওয়ার পর তাঁর সেবার হাত আরও প্রসারিত হয়। ১৮৯৩ খ্রি. পর্দানশীন বিশেষত দরিদ্র মহিলাদের চিকিৎসার জন্য তিনি নিজ গ্রামে একটি দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেন। তিনি ‘ফয়জুন্নেসা জেনানা হাসপাতাল’ নামে একটি চিকিৎসালয়ও স্থাপন করেন। এছাড়া শিক্ষা বিস্তারে তিনি মাদ্রাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় স্থাপন করেন। দুস্থ মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নির্মাণে ও অন্যান্য জনহিতকর কাজে অর্থদান করেন। মসজিদ নির্মাণেও তিনি প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। এলাকার রাস্তাঘাট নির্মাণ, দীঘিপুষ্করিণী খনন প্রভৃতি জনহিতকর কাজে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এতে তার নাগরিক ও প্রগতিশীল চেতনার প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি যুগের প্রভাবে বাইরের পর্দা মেনে চললেও মনের পর্দা ভেঙ্গে ফেলেন। এক্ষেত্রেও তিনি বেগম রোকেয়ার অগ্রবর্তিণী ছিলেন। তবে বেগম রোকেয়ার কাজের ও চিন্তার অধিক গভীরতা ও ব্যাপকতা ছিল।
ফয়জুন্নেসা ছিলেন অত্যন্ত পরোপকারী ও সমাজসেবিকা। কুমিল্লা (ত্রিপুরা) জেলার উন্নতিকল্পে সরকার কর্তৃক গৃহীত বিরাট পরিকল্পনার সমস্ত ব্যয়ভার তিনি গ্রহণ করেছিলেন বলে তৎকালীন মহারাণী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ খ্রি. তাকে নওয়াব উপাধিতে ভূষিত করেন। মহারাণী ভিক্টোরিয়া ‘নওয়াব’ উপাধি সংবলিত সনদ ও হীরকখচিত মূল্যবান পদক তাঁকে প্রদান করেন। তৎকালীন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মিস্টার উগলাস আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে এই পদক প্রদান করেন। হোমনাবাদের মতো অখ্যাত স্থানের একজন মহিলা জমিদারের জন্য এ ছিল এক দুর্লভ সম্মান। সে যুগের নারী পুরুষ সকলের জন্য এরূপ উপাধি শ্লাঘার বিষয়। ফয়জুন্নেসা নিজ কর্মগুণেই তা অর্জন করেন। ১৮৩৪ থেকে ১৮৬৭ খ্রি. পর্যন্ত প্রায় ৩৩ বছর ফয়জুন্নেসার ব্যক্তিগত জীবনের প্রথম পর্ব। এ সময়ে তার প্রধান পরিচয় কন্যা, জায়া ও জননী রূপে। ১৮৬৭ থেকে ১৯০৩ খ্রি. পর্যন্ত ৩৬ বছরকে তাঁর জীবনের দ্বিতীয় পর্ব বলা হয়। এ পর্বে তিনি লেখিকা, শিক্ষাব্রতী, সংস্কৃতি অনুরাগিনী সমাজসেবিকা ও জমিদার। অর্থাৎ এই ছিল তাঁর সৃষ্টি ও কর্মের জীবন।

ফয়জুন্নেসা ১৮৯৪ খ্রি. কন্যা বদরুন্নেসা ও দৌহিত্রের সঙ্গে পবিত্র হজ্ব পালনের জন্য মক্কা গমন করেন। তিনি সেখানেও মুসাফিরখানা ও মাদরাসা স্থাপন করেন। তিনি পত্রপত্রিকা প্রকাশনায় ও সভা সমিতিতে অকাতরে অর্থ দান করেন। ‘সাপ্তাহিক ঢাকা প্রকাশ’ (১৮৬১ খ্রি. প্রকাশিত)কে নগদ অর্থ সাহায্য দেন। কৃতজ্ঞতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁর দানের কথা উল্লেখ করে ‘ঢাকা প্রকাশ’ (৫ মাঘ ১২৮১ বঙ্গাব্দ) মন্তব্য করেন ‘অদ্য আমরা আমাদিগের পূর্ব বাঙ্গলার একটি মহিলা রত্নের পরিচয় দান করিয়া ক্ষান্ত থাকিতে পারিলাম না। ইনি যেমন বিদ্যানুরাগিণী ও সর্ববিষয়ে কার্যপারদর্শিনী সেইরূপ সৎকার্যে ও সমোৎসাহিনী। ……… শুনিলাম ইহার আবাস স্থানে সচরাচর যেরূপ করিয়া থাকেন, এখানেও সেইরূপ বিনাড়ম্বরে নিরুপায় দরিদ্রদিগকে দান করিয়াছেন।’ মৃত্যুর আগে তিনি জমিদারির এক বিশাল অংশ ওয়াকফ্ করে যান, যা থেকে এলাকার দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়ার জন্য আজও অর্থ সাহায্য পেয়ে থাকে।

ফয়জুন্নেসা বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সমায়িকীরও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। ঢাকা প্রকাশ ছাড়াও তিনি বান্ধব, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃতি বাংলা পত্রপত্রিকা তার আর্থিক সহায়তা লাভ করে।

ফয়জুন্নেসার সৃজনশীল প্রতিভার দিকটি নিহিত আছে তার সাহিত্য কর্মে। তার আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস রূপ জালাল’ গ্রন্থটি ১৮৭৬ খ্রি. ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা গিরিশ চন্দ্র মুদ্রণ যন্ত্র থেকে প্রকাশিত হয়। তার চারখানি পুস্তকপুস্তিকার সন্ধান পাওয়া যায়– ‘রূপ জালাল (১৮৭৬ খ্রি.)’, তত্ত্ব ও জাতীয় সঙ্গীত (১৮৮৭ খ্রি.)’, ‘সঙ্গীত সার’ ও ‘সঙ্গীত লহরী’। তার তত্ত্ব ও জাতীয় সঙ্গীত একটি সঙ্গীত বিষয়ক গ্রন্থ। এর প্রথম সংস্করণ ১৮৮৭ খ্রি. প্রকাশিত হয়। প্রকাশক ও মুদ্রক হরিমোহন বসাক, ঢাকা, বাঙ্গালা প্রেস। তার ‘রূপ জালাল’ ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থের কপি পাওয়া যায় নাই।

রূপ জালাল’ গদ্যেপদ্যে রচিত রূপকধর্মী রচনা। গ্রন্থখানি ব্যতিক্রমধর্মী। সংস্কৃত গদ্যপদ্য মিশ্রিত চম্পু কাব্যের নিদর্শন থাকলেও বাংলাতে তা বিরল। মধ্য যুগে বৈষ্ণব ভাবধারায় দু’একখানি চম্পু কাব্য রচিত হলেও উনিশ শতকে এ ধরনের দ্বিতীয় গ্রন্থ রচিত হয়নি। দ্বিতীয়ত ফয়জুন্নেসার গদ্যপদ্য উভয় অংশ বিশুদ্ধ বাংলায় রচিত। আরবিফারসি শব্দের মিশ্রণ নেই বললেই চলে। ফয়জুন্নেসা চৌধূরাণী গল্পের নায়ক জালাল ও নায়িকা রূপবানুর প্রণয় কাহিনীর মধ্যে কৌশলে স্বীয় জীবনের ছায়াপাত ঘটিয়েছেন। ব্যতিক্রম একটি ক্ষেত্রে যে নিজের দাম্পত্য জীবন ব্যর্থতা ও বেদনায় পূর্ণ। রূপ জালালের প্রেম ও দাম্পত্য জীবন সুখ ও আনন্দে পরিপূর্ণ। সৃষ্টির এখানেই স্বার্থকতা। ব্যক্তিগত জীবনের ব্যর্থতাকে সৃষ্টি কর্মে তিনি সফল হতে দেখেছেন। তিনি অন্তর্দাহ প্রকাশ করতে গিয়ে ‘রূপজালাল’ উপন্যাস রচনায় মাঝে মাঝে কবিতার আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। ‘রূপ জালাল’এ ফুটে উঠেছে ফয়জুন্নেসার কবি প্রতিভা।

এই গ্রন্থটি বেগম রোকেয়ার জন্মের অন্ততঃ চার বছর আগে প্রকাশিত হয়। সতীন বিদ্বেষের কারণেই ফয়জুন্নেসার বিবাহিত জীবন ব্যর্থ হয়ে যায়। রূপবানুর সতীন হুরবানু তাদের পরিণতি কিরূপ ছিল? গ্রন্থের শেষ কয়েকটি চরণে তা’ প্রকাশ পেয়েছে

হুর বানু নিয়ে রাণী, রূপ বানু মনে।
মিলন করিয়া দিল প্রবোদ বচনে॥
দোহে সম রূপবতী সম বুদ্ধিমতী।
বিভূকৃত ভেবে দোহে জন্মিল সম্প্রীতি॥
উভয় সপতœী নানা গুণে গুণবতী।
আনন্দে বিরহে দোহেপতির সঙ্গতি॥
দুইজন নিয়ে সম দৃষ্টিতে রাজন।
নিত্য সকৌতুকে কাল করয়ে যাপন॥
সিংহাসনে বসি সদা হরিষে অন্তরে।
বিধি বিধানেতে ভূপ রাজ কার্য্য করে॥
বিচার কৌশলে দূর হৈল অবিচার।
প্রজার জন্মিল ভক্তি সুখ্যাতি প্রচার ॥

রাজা ন্যায় বিচারক ও প্রজা নুরঞ্জন হবেনএটাও তার কাম্য ছিল। স্বামী বিচ্ছেদের প্রায় নয় বছর পরে “রূপজালাল” প্রকাশিত হয়। তিনি গ্রন্থখানি স্বামীর নামেই উৎসর্গ করেন। বাস্তবে দুঃখ যন্ত্রণার পঙ্কে থেকে তিনি কল্পনায় প্রেমানন্দের পদ্মফুল ফুটিয়েছেন। “জাতীয় ভাষা অপরিহার্য” ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী এটি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন। এরূপ সাহসী উচ্চারণের জন্য তিনি আমাদের সকলের শ্রদ্ধার পাত্রী। এই ভাষার পথ ধরেই আমরা জাতীয়তা, স্বাধীকার ও স্বাধীনতার দিকে অগ্রসর হয়েছিল।
ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী গান ও লিখেছেন। “রূপ জালাল” কাব্যে গান আছে। “মূলতান” বাগিনীতে রূপবানুর গান ও অন্যত্র ‘মালঝাপ” রানীতে কন্যার স্বীয় বৃত্তান্তের বিবরণ আছে। এছাড়া বার মাসি, সহেলা, বিরহবিলাপ, খেদোক্তি ইত্যাদি শিরোনামে যে সব পদ আছে সে গুলিও সঙ্গীত। সঙ্গীত সম্পর্কিত তাঁর স্বতন্ত্র গ্রন্থও আছে। এসব দৃষ্টান্ত থেকে প্রমাণিত হয় ফয়জুন্নেসা সঙ্গীতানুরাগিনা ছিলেন। সঙ্গীতের সমর্থক ছিলেন তিনি। বনেদী মুসলিম পরিবারের একজন মহিলার জন্য এটিও একটি সাহসী পদক্ষেপ।
গ্রন্থের শুরুতে তিনি “রূপজালাল” গ্রন্থে স্বল্প পরিসরে গদ্যে স্বীয় বংশের বিবরণ ও পুস্তক লিখবার উদ্দেশ্য অধ্যায় রচনা করেন। এটি তথ্য পূর্ণ, আবেগ মিশ্রিত ও হৃদয় গ্রাহী। একে বাংলা আত্মজীবনী রচনার প্রাথমিক প্রয়াস হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
রূপ জালাল’ এর গদ্য ও পদ্য থেকে উদ্ধৃত করার মতো অনেক অংশ আছে। “রূপ জালাল” গ্রন্থে গদ্যের একটি অংশ– “বিধাতা রমনী দিগের মন কি অদ্ভুত দ্রব্য দ্বারা সৃজন করিয়াছেন, যাহা স্বাভাবিক সরল ও নম্র। তাহাতে কিঞ্চিৎ মাত্র ক্রোধানল প্রজ্বলিত হইলেও লৌহ বা প্রস্তর বৎ কঠিন হইয়া উঠে। আমার এই বাক্য শ্রবনে মহিষী উত্তর করিল, হ্যাঁ ভাল বলিয়াছেন, তাইতো বটে, কোথায় দেখিয়াছেন, রমণীগণ এক পুরুষকে পরিত্যাগ করিয়া, পুরুষান্তের আশ্রয় করে। বরং পুরুষেরা একটি রূপবতী দৈখিলেই পূর্ব প্রেম এবং ধর্ম বিসর্জন দিয়া তাদের প্রতি আসক্তি হয়। এবং তাহাকে প্রণায়না করিবার জন্য নানা প্রকার চেষ্টা করে। প্রভুর ইচ্ছায় যদি কোন ক্রমে ঐ কার্য সুসম্পন্ন করিতে না পারে, তবে পূর্ব প্রণায়নার নিকট আসিয়া সহস্র শপথ করিয়া বলে তোমাকে বিনা আমি কাহাকেও জানি না। অধিক কি অন্যবামার রূপ লাবণ্য আমার চক্ষে গরল প্রায় জ্ঞান হয়। পুরুষ দিগের অন্তঃকরণের স্নেহ চিরস্থায়ী নহে।”

এই উপন্যাসের ভাষা চিত্র বহুল ও জীবন ধর্মী। ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দের ২৩ সেপ্টেম্বর (১০ আশ্বিন, ১৩১৪ বঙ্গাব্দ) নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী লোকান্তরিত হন। পশ্চিম গাঁয়ের নিজ বাড়িতে নিজ কন্যা আরশাদুন্নেসার পাশে তিনি চির শয্যায় শায়িত আছেন।
মৃত্যুর ১০০ বছর পরে বাংলাদেশ সরকার ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীকে সমাজ সেবার ক্ষেত্রে তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ একুশে পদক ও সন্মমনাপত্র (মরণোত্তর) প্রদান করেন।

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: