প্রথম পাতা > জীবনী, সংস্কৃতি > ভ্যান গগ : একজন বেদনাদীর্ণ শিল্পীর মুখ

ভ্যান গগ : একজন বেদনাদীর্ণ শিল্পীর মুখ

সেপ্টেম্বর 18, 2016 মন্তব্য দিন Go to comments

van-gough-1মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : চিত্রশিল্পীদের আঁকা ছবিগুলো কখনো তুলে ধরে সময়, আবার কখনো অতিক্রম করে যায় সময়কে। সবাই আঁকতে পারেন না, রঙের কারুকাজ সবার বোধগম্যও নয়। হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করে, চেতনাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়ে শিল্পীমাত্রই তাঁর শিল্পকর্ম রচনা করে থাকেন। এক্ষেত্রে শব্দশিল্পী ও চিত্রশিল্পীর মধ্যে মাধ্যম ভিন্ন অন্য কোনো তফাৎ নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন শহরে অজস্র চিত্রশিল্পী প্রতিনিয়ত টেনে যাচ্ছেন তাদের তুলি। কিন্তু সেরাদের সেরা শিল্পীরা রঙতুলিতে কেবল তাঁর বাসভূম ও দেশকেই মাত করেন না, তাঁরা তাক লাগিয়ে দেন বিশ্ববাসীকেও। তাঁদের রঙতুলি জানান দেয়আমি এসেছি, জয় করতে এসেছি! এমনি একজন শক্তিমান তুলির জাদুকর ভিনসেন্ট ভ্যান গগ। তাঁর চিত্রকর্মগুলো তাঁকে শিল্পের দরবারে যুবরাজের আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। যদিও ভ্যান গগ লৌকিকভাবে দীর্ঘজীবন পাননি কিন্তু শিল্পীর ভুবন তাঁকে প্রসারিত জীবন দান করেছে।

ভিনসেন্ট উইলিয়াম ভ্যান গগ জন্মেছিলেন নেদারল্যান্ডের জুনডারটে, ১৮৫৩ সালের ৩০ মার্চ। তাঁর বাবা থিওডর ভ্যান গগ ও মা কর্নেলিয়া। গগ ছিলেন তাঁর বাবামায়ের দ্বিতীয় সন্তান। যদিও তাদের প্রথম সন্তান মৃত হয়েছিল। তার নামও রাখা হয়েছিল ভিনসেন্ট উইলিয়াম ভ্যান গগ। মৃত সন্তানের স্মৃতি ধরে রাখতেই বাবামা তাদের দ্বিতীয় সন্তানের নাম রাখলেন প্রথম সন্তানের নামে। ভ্যান গগের ছিল মৃত ভাইয়ের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা। অবশ্য একটি বিষয় তাঁকে প্রায়ই বিমর্ষ করতো। কেননা, তাঁর ভাইয়ের কবর তাদের বাড়ির সামনেই ছিল। কবরের নামফলকে লেখা ছিল– ‘ভিনসেন্ট উইলিয়াম ভ্যান গগ’। অর্থাৎ নিজের নামকে প্রতিনিয়ত মৃতদের কাতারে দেখতে দেখতে বড় হয়েছিলেন গগ। হয়তো এই কারণেই শৈশব থেকে একাকিত্ব পছন্দ করতেন তিনি। পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে মিশতেন না। কোনো খেলাধুলাতেও তাঁকে পাওয়া যেতো না। তিনি একা একা সারাক্ষণ ঘুরে বেড়াতেন। নদী ছিল তাঁর ভীষণ পছন্দের। শৈশবে নদীর তীরে বসে সময় কাটানো ছিল ভ্যান গগের একমাত্র কাজ। গগের একাকিত্বের সাথে শৈশবে যে বিষন্নতা যুক্ত হয়েছিল, পরবর্তীতে যৌবনে এসেও সেই বিষন্নতা তিনি কাটাতে পারেননি। কারো সাথে বন্ধুত্ব হয়েছে ঠিকই কিন্তু সে সম্পর্ক বেশিদিন টিকে থাকেনি। গগের স্বভাবের কারণে যতো দেরিতে কারো সাথে তাঁর বন্ধুত্ব হয়েছে, ততো দ্রুত আবার সেই বন্ধুত্ব ভেঙেও গেছে।

van-gough-arts-2মানুষ হিসেবে গগ ছিলেন অস্থিতিশীল ও স্পর্শকাতর মানুষ, বিশেষত সবক্ষেত্রেইযার কারণে কোনো চাকরিতেই তিনি দীর্ঘদিন বহাল থাকতে পারেননি। জীবনের পথে দৌড় দিতে দিতে তিনি বারবার কর্মস্থল পাল্টিয়েছেন, হয়েছেন চাকরিচ্যুত। প্রথমে আর্ট ডিলার, পরে ১৮৭৬ সালে একটি স্কুলে কাজ নেন তিনি। কিন্তু নানা কারণে প্রশাসনের কাজ করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। সুতরাং চাকরি হারালেন গগ। ভ্যান গগ এমন একজন মানুষ, যাঁকে কেউ কেউ দুঃখীতম শিল্পী বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। গগ গবেষকরা বলেন, ভ্যান গগ ঘরবাড়ি ছেড়েছেন, শহর ও দেশ ছেড়েছেন কিন্তু দুঃখ কখনো তাঁকে ছাড়েনি। গগের জীবনে আনন্দঘন মুহূর্তের সংখ্যা বেশি হবে না। স্কুলে চাকরি হারানোর পর ২৫ বছর বয়সে ভ্যান গগ পাদ্রী হিসেবে যোগ দেন বোর্নিয়াজের একটি কয়লা খনিতে। মূলত এই কয়লা খনিতে থাকা অবস্থায় উন্মেষ ঘটে গগের শিল্পী সত্তার। যে জীবন তিনি ইংল্যান্ডের দরিদ্র পরিবারে দেখেছেন, কয়লা খনির শ্রমিকদের জীবন তার চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ। এমন বাস্তবতার মুখোমুখি তিনি কখনো পড়বেন বা পড়তে পারেন তা গগ কখনো ভাবতে পারেননি। এখানেও কয়েকদিন না যেতেই পাদ্রীর চাকরি হারালেন গগ। দু’বছরের মতো চাকরিবিহীন অবস্থায় তিনি শ্রমিকদের সাথেই ছিলেন। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শিল্পী হবেন। তিনি আঁকা শুরু করলেন কয়লা শ্রমিকদের ছবি। কয়লা খনির জীবনচিত্র। আঁকলেন মানুষের মুখ, যেসব মানুষ পীড়িত ও অবহেলিত। পরবর্তীতে যতদিন তিনি বেঁচেছিলেন, ততদিনই দুঃখ ও দারিদ্র্যের সঙ্গে তাঁর সঙ্গী ছিল রঙ তুলি আর ক্যানভাস। গগ কয়লা খনিতে থাকা অবস্থায় প্রচুর ছবি এঁকেছেন। তিনি ছিলেন ‘চড়ংঃ ওসঢ়ৎবংংরড়হরংঃ’ ধারার শিল্পী। হলুদ রঙ তাঁর প্রিয় ছিল। তাঁর আঁকা ‘দি পটেটো ইটার্স’ বা ‘সানফ্লাওয়ার্স’ই কেবল বিখ্যাত হয়নি, পাশাপাশি ‘স্টারি নাইট’, ‘প্রোট্রেট অব ডা. গেচেট’, ‘সরো’, ‘বেডরুম ইন আর্লেস’ও কালকে জয় করে কালজয়ী হয়েছে। গগের আত্মপ্রতিকৃতিগুলোও কম গুরুত্ববহ নয়। তিনি ৩০টির মতো আত্মপ্রতিকৃতি এঁকেছিলেন। ‘সানফ্লাওয়াস’ পৃথিবীর সবচেয়ে দামি চিত্রকর্মগুলো মধ্যে একটি। বর্তমানে এই ছবিটির বাজারমূল্য ৭৪ মিলিয়ন ডলার। ১৮৮৮ সালে এই ছবিটি এঁকেছিলেন গগ। ‘স্টারি নাইট’ আঁকা হয় ১৮৮৯ সালে। বর্তমানে এই ছবিটি নিউইয়র্কের আধুনিক আর্ট মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। ছবিতে দেখা যায় নক্ষত্রখচিত আকাশকে। এখানে শিল্পী তারা আঁকতে হলুদ রঙের ব্যবহার করেছেন। ‘স্টারি নাইট’এ আমরা রহস্যময় আকাশকে রহস্যময়ভাবেই ক্যানভাসে দেখি। ‘দি পটেটো ইটার্স’ ছবিতে ফুটে উঠেছে শ্রমজীবী মানুষের কথা। ছবিতে দেখা যায় চারজন মানুষ রাতে মৃদু আলোতে আলু খাচ্ছে। অর্থাৎ আলু খেয়ে তারা তাদের রাতের আহার সারছে। ছবির মানুষগুলোর বিষন্নতা এবং একই সাথে আত্মতৃপ্তি আমাদের দৃষ্টি এড়ায় না।

van-gough-arts-3চাকরি হারানো, দরিদ্রতার মধ্য দিয়েও ভ্যান গগের জীবনে প্রেম এসে হানা দিয়েছিল বারকয়েক। যতবার প্রেমিকা জুটেছিল তাঁর, ততবারই তিনি তাদের হারিয়েছেন। কখনো অর্থ দীনতার কারণে, কখনো তাঁর খামখেয়ালি মনোভাবের কারণে। তবে তাঁর প্রেম ছিল বহু বিচিত্র। প্রথম যৌবনে উরসুলা নামের এক ব্রিটিশ মেয়ের প্রেমে পড়েন। মজার বিষয় হলো উরসুলা ছিলেন অন্য একজনের বাগদত্তা। প্রথম প্রেমের জন্য গগকে বহুবার অপমানিত হতে হয়েছে, এমনকি চাকরিও হারাতে হয়েছে। গগ দ্বিতীয়বার একজন বিধবার প্রেমে পড়েন। তার নাম ছিল ‘কি’। কি সম্পর্কে গগের খালাতো বোন ছিল। তাঁর প্রতি গগের প্রেম এতটাই তীব্র ছিল যে, তিনি কিএর জন্য ডান হাতটি পুড়িয়ে ফেলেছিলেন। গগের তৃতীয় প্রেমিকা ক্রিস্টিন। তিনি ছিলেন পাঁচ সন্তানের জননী এবং একজন পতিতা। গগ তখন হেগে থাকতেন। ক্রিস্টিনের সাথে গগের সম্পর্ক এক বছর ছিল। উরসুলা, কি অথবা ক্রিস্টেনের প্রেমে গগ পড়লেও গগের প্রেমে পড়েছিল মাত্র একজনই। তাঁর নাম মার্গো। গগ ছিলেন তাঁর দশ বছরের ছোট। গগ স্বভাবসুলভভাবেই মার্গোকে ভালোবেসেছিলেন। কিন্তু তাদের প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়ায় মার্গোর বিত্তশালী পরিবার। মার্গো এক সময় ব্যথা বিদীর্ণতা নিয়ে আত্মহত্যা করে। প্রকৃত অর্থে একমাত্র মার্গোই গগকে নিজের মতো করে ভালোবেসেছিলেন। ভ্যান গগের সর্বশেষ প্রেম রেসেল নামের একজন পতিতা। রেসেলের বয়স ছিল ষোলসতের। একবার গগের কান দেখে রেসেল কটাক্ষ করে বলেছিল, ‘সুন্দর কান!’। এই কটাক্ষের জবাব অদ্ভুতভাবে শোধ দিয়েছিলেন গগ। রেসেলকে ক্রিসমাসের দিন গগ্যাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে কাটা নিজের কানের লতি উপহার দিয়েছিলেন ভ্যান গগ!

ভ্যান গগ চিঠি লিখতে পছন্দ করতেন। তাঁর চিঠিগুলোতে তাঁকে আমরা যথেষ্ট সংযত অবস্থায় পাই। তিনি সবচেয়ে বেশি চিঠি লিখেছেন তাঁর ভাই থিওকে। থিওই একমাত্র ব্যক্তি যাঁর কাছে ভ্যান গগ তাঁর বেদনা প্রকাশ করতেন। আর বলতেন আর্থিক সহযোগিতার কথা। গগ তাঁর ৩৭ বছরের জীবনে প্রায় এক হাজার চিঠি লিখেছেন। অনির্বাণ রায়ের মতে, ভ্যান গগ ‘সবচেয়ে বেশি চিঠি লিখেছিলেন ভাই থিওকে : ছয়শ একান্নটা, ভাইয়ের বউকে একটা, ভাই আর তার বউকে সাতটা। ডাচ শিল্পী আন্তন ভ্যান র‌্যাপার্ডকে লিখেছিলেন আটান্নটা। ফরাসি শিল্পী এমিল বার্নার্ডকে লিখেছিলেন বাইশটা। বোন ভিলেমিয়েন আর মাকে লিখেছিলেন যথাক্রমে একুশ আর বারোটা চিঠি। বাবামাকে একসাথে লিখেছিলেন মাত্র পাঁচটি চিঠি। ভ্যান গগের সঙ্গে সঙ্গে যে ফরাসি শিল্পীর নাম উঠে আসে সেই পল গগ্যাঁকে লিখেছিলেন মাত্র চারখানা চিঠি। এছাড়া বিভিন্ন পরিচিতজন, শখের শিল্পী এবং তাঁর স্বল্পকালের ছাত্র আন্তন কোর্সমেকার্সকে, সমালোচক আলবার্ত অরিয়েরদের সব মিলিয়ে লিখেছিলেন একশ ষাটটা চিঠি। অন্যদিকে ভিনসেন্ট পেয়েছিলেন মাত্র তিরাশিটি চিঠি। সবচেয়ে বেশি থিও আর তাঁর বউয়ের কাছ থেকে : ছেচল্লিশটা। পল গগ্যাঁ তাঁকে লিখেছিলেন ষোলোটা চিঠি।

অন্যরা দুটোএকটা করে। ডাকঘর কর্মী যোসেফ রুলাঁর কাছ থেকে পেয়েছিলেন চারটা চিঠি।’ গগের লেখা এসব চিঠিগুলোতে স্পষ্ট হয়ে আছে তাঁর মন ও মানসিকতা। স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তাঁর আবেগ ও দরিদ্রতা। পাশাপাশি তাঁর স্বপ্নগুলোও উচ্চকিত হয়েছে পরিমার্জিত ভাষায়। পূর্বেই উল্লেখ করেছি, গগ ছিলেন কোমল মনের অধিকারী। কিন্তু সেই সময়ের অনেক মানুষই তাঁকে ভেবেছে নির্দয়, নির্মম। অনেক সময় এমনও হয়েছে তাঁকে আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘কুৎসিত ও পাগল’ শব্দবন্ধে। গগের চিঠিগুলো আমাদের স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দেয় তিনি কতটা নরম ও সবুজ ছিলেন।

van-gough-arts-1ভ্যান গগ যে কেবল প্রচুর চিঠি লিখতেন তাই নয়, তিনি প্রচুর বইও পড়তেন। কোথাও গেলে রঙতুলি, ক্যানভাসের পাশাপাশি তাঁর সাথে থাকতো বই। অবসরের মুহূর্তে তিনি বই পড়ে সময় ব্যয় করতেন। তাঁর চিঠিগুলো পাঠে আমরা প্রচুর লেখক ও বিখ্যাত বইয়ের কথার উল্লেখ পাই। ভ্যান গগের প্রিয় কবি ছিলেন জন কিটস। এছাড়া শেক্সপিয়রও ছিলেন তাঁর পাঠের তালিকায়। ম্যাকবেথ, হ্যামলেট, দ্য মার্চেন্ট অব ভেনিস, ওথেলোএর মতো নাটকগুলো পড়েছিলেন গগ। তাঁর এসব বই পাঠের কথাগুলো তিনি তাঁর ভাই থিওকে চিঠিতে জানিয়েছিলেনও। শুধু তাই নয়, ফ্লবেয়ার, চার্লস ডিকেন্স, গঁকুর, মোপাসাঁ, হুইটম্যান, জোলা, বালজাক ও কার্লাইলের কথাও উল্লেখ আছে তাঁর চিঠিগুলোতে। ভ্যান গগ যে সাহিত্যপ্রেমী ছিলেন তার প্রমাণ আমরা তাঁর কথাতেই পাই। একবার তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের চারপাশে সর্বত্র কবিতা ঘিরে রয়েছে। দেখে যেমন মনে হয়তাকে কাগজে কলমে ধরা কিন্তু তত সহজ নয়।’ ভ্যান গগ বলতেন, ‘পৃথিবীর প্রতি একটা ঋণ, একটা কর্তব্য আমি বোধ করি, ত্রিশ বছর চলে ফিরে বেড়াচ্ছি পৃথিবীতে এবং কৃতজ্ঞতাস্বরূপ শিল্পকর্ম আকারে কিছু স্মৃতিচিহ্ন রেখে যেতে চাই। আমার এ কাজে শিল্পকলার কোনো বিশ্বাসকে সন্তুষ্ট করা হবে না, কেবলমাত্র বিশ্বস্ত মানবিক অনুভূতির একটা প্রকাশ হবে।’ তবে সমকালে তিনি অবহেলিত হলেও তাঁর বিশ্বাস ছিল, ‘এমন সময় আসবে, যখন আমিও বিক্রি হবো।’ কেবলমাত্র গুটিকয়েক শিল্পী ও তাঁর ভাই থিওর উৎসাহ পেয়েছিলেন গগ। যদিও তাঁর ছবির সমালোচকদের সমালোচনাই গগকে বিক্ষিপ্ত করে ভাবতে বাধ্য করেছিল। তিনি এক দশক ধরে ৯শ ছবি আঁকলেও জীবত অবস্থায় তাঁর ছবিগুলোর কদর হয়নি। এমনকি উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক কোনো ছবিও বিক্রি হয়নি। যেখানে জীবতাবস্থায় পাবলো পিকাসো অথবা সালভাদর দালি ব্যাপক খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা পেয়েছেনসেখানে ভ্যান গগ একেবারেই নিঃস্ব ও রিক্ত ছিলেন। সারা জীবনে গগ মাত্র একটি ছবি বিক্রি করতে পেরেছিলেন। তাও সেই বিক্রিতে তাঁর ভাই থিও সহযোগিতা করেছিল। ছবিটি ছিল ‘আর্লেসের আঙুরক্ষেত’। এই ছবিটির বিক্রির অর্থ হিসেবে গগ পেয়েছিলেন মাত্র চারশ ফ্রাঁ। এখন এই সময়ে যখন ভ্যান গগের একটি ছবির অর্থমূল্য কয়েকশ কোটি টাকা, সেখানে ভ্যান গগ সে সময়ে তাঁর ছবি বিক্রি করে পেয়েছিলেন মাত্র চারশ ফ্রাঁ! যাঁর ছবিগুলো এখন কয়েক বিলিয়ন ডলারে বিক্রি হচ্ছে, অথচ সেই শিল্পীকেই কত অসহায়, অসচ্ছলভাবে জীবনপাত করতে হয়েছে। অর্ধাহারেঅনাহারে থেকে তিনি ছবি এঁকে গেছেন। দুঃখের বিষয় হলো, গগকে জীবিত অবস্থায় যথাযথ মূল্যায়ন করেননি সমালোচকরা। যার ফলে এই গুণী শিল্পী অন্তরালেই থেকেছেন। গগ মাত্র ৩৭ বছর বেঁচেছিলেন। শেষ দিকে তিনি প্রায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন।

সূত্রঃ দৈনিক ভোরের কাগজ, ২৬ আগস্ট ২০১৬

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: