প্রথম পাতা > আন্তর্জাতিক, নারী, সমাজ > মিস জাপানের খেতাব জিতে বিদ্রুপের মুখে প্রিয়াঙ্কা

মিস জাপানের খেতাব জিতে বিদ্রুপের মুখে প্রিয়াঙ্কা

priyankaজাপানের সবচেয়ে সুন্দর মেয়ের খেতাব ‘মিস জাপান’র মুকুট পরলেন প্রিয়াঙ্কা ইয়োশিকাওয়া। প্রিয়াঙ্কার বাবা ভারতীয়, মা জাপানি। এইজন্যই প্রিয়াঙ্কাকে জাপানে বিদ্রুপের মুখে পড়তে হয়েছে। জাপানের ১৫০ জন সুন্দরীকে ছাপিয়ে মিস ইউনিভার্স জাপানের মুকুট পরেন প্রিয়াঙ্কা। কিন্তু জাপানের একাংশ সেটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। কারণে জাপানি ভাষায় প্রিয়াঙ্কা হলেন ‘হাফু’। মানে হাফ বা অর্ধেক জাপানি। আর বিশ্ব মঞ্চে কোন ‘হাফু’ জাপানকে প্রতিনিধিত্ব করুক সেটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না জাপানিরা।

প্রিয়াঙ্কার জন্ম টোকিওতে। তার বাবা বাংলাদেশের বাসিন্দা। মা জাপানি। প্রিয়াঙ্কা জানান, এখানে ‘হাফু’ লোকদের যেভাবে ঘৃণা, বিভেদ, সমস্যার মধ্যে পড়তে হয় তার বিরুদ্ধে সে লড়াই চালাবে।

গতবার দেশের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে মিস জাপানএর মুকুট পরেন আরিয়ানা মিয়ামোতো। তখনও আরিয়ানাকে বিদ্রুপের মুখে পড়তে হয়েছিল।

মিস ওয়ার্ল্ড জাপান২০১৬ সুন্দরী প্রতিযোগিতার ‘মিস জাপান’ খেতাব অর্জন করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কন্যা প্রিয়াংকা ইউসিকা ঘোষ। গতবারের চ্যাম্পিয়ন এরিয়ানা মিয়ামুটোকে টপকে মিস জাপানের মুকুট পরেন ২২ বছর বয়সী প্রিয়াংকা।

গত ৫ সেপ্টেম্বর টোকিও শহরে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ডিসেম্বর মাসে ওয়াশিংটনে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন তিনি।

প্রিয়াংকা ইউসিকা ঘোষের পূর্বপুরুষের বাড়ি বাংলাদেশের ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মালিকান্দা গ্রামে। তিনি সম্ভ্রান্ত ঘোষ পরিবারের কন্যা। প্রিয়াংকার জন্ম জাপানে হলেও তাঁর বাবা অরুণ ঘোষের জন্ম ও বেড়ে ওঠা দোহারের মালিকান্দা গ্রামে।

পরিবারের দেওয়া তথ্য মতে, ১৯৮৫ সালের ২১ আগস্ট তাঁর বাবা অরুণ ঘোষ বাংলাদেশ থেকে জাপানে চলে যান। সেখানে গিয়ে কয়েক বছর পর জাপানি নারী নাউকোর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

এরপর পার্মানেন্ট রেসিডেন্সশিপ পেয়ে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯৯৪ সালের ২০ জানুয়ারি অরুণনাউকো দম্পতির ঘর আলোকিত করে জন্ম নেয় একটি কন্যাসন্তান। পরিবারিক পদবির সঙ্গে মিলিয়ে তাঁর নাম রাখা হয় প্রিয়াংকা ইউসিকা ঘোষ।

পারিবারিক সূত্রে আরো জানা যায়, দোহারের মালিকান্দা গ্রামের বাড়িতে এখন প্রিয়াংকার দাদু অবনী মোহন ঘোষ ও ঠাকুমার সমাধি ছাড়া তেমন কিছু নেই। প্রিয়াংকার জেঠা অজয় ঘোষ ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তিনি ঢাকা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন। বর্তমানে তিনি স্থায়ীভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছেন। সেই সূত্রে ঘোষ পরিবারের অধিকাংশ সদস্য সেখানেই বসবাস করে।

প্রিয়াংকার বাবা অরুণ ঘোষ পরিবারের মেজো ছেলে। অজয়, অরুণ ও অমল ঘোষ তিন ভাই। এঁদের দাদু ডা. প্রফুল্ল ঘোষ ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী। তিনি একাধারে ১৯৪৭৪৮, ১৯৬৭৬৮ ও ১৯৭১ সালে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ড. প্রফুল্ল ঘোষের জন্মও দোহারের মালিকান্দা গ্রামে। তাঁর হাত ধরে মহাত্মা গান্ধী মালিকান্দা গ্রামে এসেছিলেন এবং একটি গান্ধী আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে বর্তমানে ভারতে বসবাস করা প্রিয়াংকার জেঠা অরুণ ঘোষের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় । তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্ম বাংলাদেশে। কাজেই বাংলাদেশ আমাদের পরিবারের শেকড়। একই সঙ্গে প্রিয়াংকার বাবার জন্মও বাংলাদেশে। কিন্তু প্রিয়াংকা বাংলাদেশের কথা তেমন কিছু বলতে পারবে না। আমার ভাই জাপানে এসে বিয়ের পর একবার বাংলাদেশে গিয়েছিল, তখন প্রিয়াংকা মায়ের গর্ভে ছিল। এরপরে আর যাওয়া হয়নি।

প্রিয়াংকার শিক্ষাজীবনের কিছু সময় কেটেছে ভারতে। পশ্চিমবঙ্গের সুধীর মেমোরিয়াল স্কুলে স্ট্যান্ডার্ড টু ও থ্রি ক্লাসে দুই বছর পড়েছে। এরপর আমেরিকায় পড়াশোনা শেষ করে জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে সে। জাপানে ফিরে মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত আছে প্রিয়াংকা। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছর সে মিস জাপান নির্বাচিত হয়েছে। তার এ অর্জনে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত।’

এ বিষয়ে প্রিয়াংকা ঘোষ ও তাঁর বাবা অরুণ ঘোষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর জেঠা অরুণ ঘোষ বলেন, ‘এমন সংবাদের পর থেকে আমরা সবাই উৎফুল্ল। আমিও চেষ্টা করে ওদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না।’

দোহারের মালিকান্দা গ্রামের বাসিন্দা পঙ্কজ ঘোষ বলেন, ‘প্রিয়াংকাদের পুরো পরিবারের বাস ছিল মালিকান্দা গ্রামে। পরিবারটি শিক্ষাদীক্ষায়, সমাজকর্মে ছিল পরিপূর্ণ। আমাদের গ্রামের এ পরিবারের একটি মেয়ে আজ মিস জাপান নির্বাচিত হয়েছে, আমাদের ভালো লাগছে। আমরা ওকে নিয়ে গর্ব বোধ করি।’

উল্লেখ্য, ভারতীয় গণমাধ্যম গুলো প্রিয়াঙ্কাকে ভারতীয় বংশোদ্ভুত হিসেবে দাবি করে সংবাদ প্রকাশ করে।

টাইম নিউজ বিডি

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: