প্রথম পাতা > অপরাধ, ইসলাম, নারী, বাংলাদেশ, শিক্ষা, সমাজ, Uncategorized > নারী জঙ্গী গ্রেফতারে দৈনিক ইনকিলাবের গাত্রদাহ !

নারী জঙ্গী গ্রেফতারে দৈনিক ইনকিলাবের গাত্রদাহ !

দৈনিক ইনকিলাব সিরিয়া ও ইরাকে আইএসএর তান্ডবের শুরু থেকেই অকুন্ঠ সমর্থন দিয়ে আসছে এবং দিয়ে চলেছে । গত বছরের মাঝামাঝি থেকে তারা আইএসএর খবর খুব জোশযজবা সহকারে পরিবেশন করতো । কিন্তু রাশানরা এসে আইএসএর বাড়া ভাতে ছাই দেয়ার পর থেকে তারা একটু থিতিয়ে পড়েছে । আইএস এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্বৈরাচারী রাজন্যবর্গের মদদে পরিচালিত (যেমন, আহরার আসশাম, আলনুসরা, আলকায়েদা, ইত্যাদি) জঙ্গীদের তারা সব সময় জিহাদী যোদ্ধা” বলে অভিহিত করে থাকে । এ থেকে আইএসএর প্রতি তাদের মনোভাব সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায় । ইনকিলাবের এহেন আচরণ নিয়ে আমি নিকট অতীতে প্রমাণ সহযোগে জঙ্গী সংগঠন আইএসএর সমর্থক দৈনিক ইনকিলাব শীর্ষক একটি পোষ্ট দিয়েছিলাম । আগ্রহীরা দেখে নিতে পারেন ।

ছাত্রী গ্রেফতারে আরো সতর্কতা প্রয়োজন

ইনকিলাব সম্পাদকীয়, ১৮ আগষ্ট ২০১৬

manarat militants 8ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ইসতিসিনা আক্তার ঐশিসহ চার ‘সন্দেহভাজন নারী জঙ্গি’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। র‌্যাব বলেছে, তারা জেএমবির সদস্য। অন্য তিনজন মানারত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী। র‌্যাব ৪এর অধিনায়ক জানিয়েছেন, মানারত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি (সম্মান) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী আকলিমা রহমান মনি ইসতিসিনা আক্তার এবং মানারত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ছাত্রী ইসরাত জাহান মৌসুমি ওরফে মৌ ও খাদিজা পারভিন মেঘলাকে দলে ভেড়ান। শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ইসতিসিনার পিতা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিচষদের সাবেক সভাপতি বিশ্বাস আক্তার হোসেন একটি দৈনিককে জানিয়েছেন, তার মেয়ে ছোটবেলা থেকেই খুব ধার্মিক। ইসলামী বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করত। আটককৃত মানারতের শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি বলেছেন, আমি মর্মাহত, দুঃখিত। তারা যে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েছে সে খবর আমি জানতাম না। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার হোক, এটাই আমি চাই। জঙ্গিবাদী নাশকতা প্রতিরোধে পরিচালিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ছাত্রী আটক হবার খবর এই প্রথম নয়। এর আগে রাজধানীর ইডেন কলেজের হোস্টেল থেকে কয়েকজন ধর্মপরায়ণ পর্দানশিন ছাত্রীকে আটক করার পর কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে তিনছাত্রীকে কথিত জিহাদী বইসহ আটক করেছিল পুলিশ। তারা নাশকতামূলক কর্মকাের পরিকল্পনার সাথে জড়িত ছিল বলে পুলিশ সন্দেহ করেছিল। এবারেও র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মুঠো ফোন থেকে জঙ্গিবাদ ও জিহাদ সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। আলোচ্য ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে কি পাওয়ো গেছে, তার কোন পূর্ণ বিবরণ নেই। তবে প্রকাশিত রিপোর্ট ও বাস্তবতা মেলালে কিছু প্রাসঙ্গিক বিষয় অবশ্যই উঠে আসতে পারে। বর্তমানে এমন একটা প্রবণতা লক্ষ্যনীয় হয়ে উঠেছে, কোরআনহাদিস ও ইসলাম সম্পর্কিত বই প্রস্তককে জিহাদী বই বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ প্রবণতাও পরিলক্ষিত হচ্ছে, গত কয়েক বছর বিভিন্ন সময়ে পর্দানশিন নারীরা পুলিশি হয়রানীর শিকার হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটাও দেখা যাচ্ছে, দাড়িটুপিওয়ালা মানুষজনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক হয়রানির শিকার হচ্ছে। পর্দানশিন মেয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ সমাজে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সাধারণত গ্রাম বা ঐতিহ্যবাহী পরিবার থেকে যারা শহরে আসছে তারা হলেহোস্টেলে থাকছে। এটা আমাদের সামাজিক রীতিনীতি এবং ঐতিহ্যও বটে। এহেন বাস্তবতায় সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ব্যতীত শুধু সন্দেহের বশতবর্তী হয়ে পর্দা করা কাউকে গ্রেফতার করা হলে এর নেতিবাচক প্রভাব সমাজে পড়তে বাধ্য। কেবলমাত্র অভিযোগের বলে এধরনের গ্রেফতার সমর্থনযোগ্য নয়। এসব মেয়ের ভবিষ্যতের কথাও চিন্তা করতে হবে। এধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হবে কি হবে না, তা এখনই স্পষ্ট করে বলা যায় না। অথচ তাদের যা ক্ষতি হবার তা হয়ে গেছে। এর দায় কে নেবে? এই বাস্তবতায় সারাদেশে কলেজবিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া হাজার হাজার মেয়ে, যারা ছাত্রী হোস্টেল বা মেসে থেকে পড়াশোনা করছে এবং যারা পর্দা মেনে চলাফেরা করছে, তাদের অভিভাবকরা এখন চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, এধরনের ঘটনা আগে বাংলাদেশে ছিল না বললেই চলে। এখন দেখা যাচ্ছে, সন্দেহ সৃষ্টিকারী এধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এ আলামত উদ্বেগউৎকণ্ঠার। প্রকৃত বিষয় কি সে সম্পর্কে জনগণ সম্যক অভিহিত না হতে পারলেও বোঝা যাচ্ছে, জনমনে একটা বড় ধরনের অবিশ্বাস ও আস্থার সংকট দানা বেঁধে উঠছে। শতকরা ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে মুসলমানের সন্তান নামাজরোজা করবে, পর্দা মেনে চলবে, ইসলামধর্মীয় বইপুস্তক পড়বে, এটাই স্বাভাবিক এবং সঙ্গত। তবে কারো অপরাধের সাথে যুক্ত হওয়া যেমন কাম্য নয়, তেমনি এসব ধর্মীয় আচারআচরণকারী কাউকে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়া সন্দেহবশত হয়রানি করা অনভিপ্রেত। জঙ্গিদমন নিয়ে আপোষের কোন সুযোগ নেই। এনিয়ে সন্দেহের জাল বিস্তৃত হয়, এমন কর্মকাগ্রহণযোগ্য নয়। সন্দেহের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করাই সঙ্গত ও উচিত।

নজরদারিতে ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রম

দীন ইসলাম : জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন ‘ইসলামী ছাত্রী সংস্থা’র কার্যক্রমকে নজরদারিতে আনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে এ নজরদারি শুরু হয়েছে। গেল সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো তাদের কার্যক্রম শুরু করে।

রাজশাহী জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ‘ইসলামী ছাত্রী সংস্থা’র কার্যক্রম সম্পর্কে পাঠানো বিশেষ প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, দেশের বর্তমান সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে গ্রামগঞ্জ ও স্কুলকলেজভিত্তিক ‘ইসলামী নারী সংস্থা’র কার্যক্রম বন্ধ করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা স্থানীয় প্রশাসনকে জোর সুপারিশ করা যেতে পারে। পাশাপাশি ছাত্রী সংস্থার কর্মীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আরো তথ্য বের হয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে ছাত্রশিবির ও ইসলামী ছাত্রী সংস্থায় যোগদানকে নিরুৎসাহিত করতে সংবাদপত্র ও প্রচার মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে প্রচার করা যেতে পারে।

এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে নির্দেশনা পাঠিয়েছে। বিশেষ প্রতিবেদনে মন্তব্য আকারে বলা হয়েছে, ‘ইসলামী ছাত্রী সংস্থা’র মূল উদ্দেশ্য কোমলমতি ছাত্রী ও সরলমনা ধর্মভীরু মহিলাদের জিহাদে অংশগ্রহণসহ প্রচলিত সংবিধানের বাইরে সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য জিহাদি মনোভাবাপন্ন করে তৈরি করে মাঠে নামানো। এছাড়া, বর্তমান সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবির প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। এ কারণে মূল দল জামায়াতের অর্থায়নে তাদেরই নারী টিম হিসেবে ‘ইসলামী ছাত্রী সংস্থা’র কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার চেষ্টা করছে। সংস্থার কর্মীরা গ্রামগঞ্জ ও স্কুলকলেজভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা ‘জাহান্নামের আগুন’ থেকে মুক্তি লাভের উপায় এবং মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করার প্রতারণামূলক প্রলোভন দিয়ে সংগঠনে যোগ দিতে সরলমনা নারীদের উদ্বুদ্ধ করছে।

ইসলামী ছাত্রী সংস্থার পটভূমি বর্ণনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইসলামী ছাত্রী সংস্থা’ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মতো জামায়াতে ইসলামী’র একটি সহযোগী ছাত্রী সংগঠন। ১৯৭৮ সালের ১৫ই জুলাই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। গেল বছরগুলোতে এ সংগঠনের বিস্তার ও কোনো কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হয়নি। কিন্তু ২০১২ সাল থেকে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে কোণঠাসা হওয়ায় ‘বিকল্প ব্যবস্থা’ হিসেবে ‘ইসলামী ছাত্রী সংস্থা’র কার্যক্রম বর্তমানে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কোমলমতি ছাত্রী ও ধর্মপ্রাণ মহিলাদের এ সংস্থায় যোগদানের জন্য বিভিন্ন ধরনের চটকদার প্রলোভন, উৎসাহ দিয়ে জামায়াতশিবির শক্ত হাতে এ সংস্থাকে সহযোগিতা করছে।

সূত্রঃ দৈনিক মানবজমিন, ১৮ আগস্ট ২০১৬

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: