প্রথম পাতা > ইতিহাস, ইসলাম, ধর্মীয়, রাজনীতি > রাজতন্ত্র কি ইসলামে হারাম?

রাজতন্ত্র কি ইসলামে হারাম?

সম্প্রতি সৌদী বাদশাহ আব্দুল্লাহ ইন্তেকাল করলে ব্লগে জামাতশিবির কর্মীসমর্থকদের আমরা স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলতে দেখলাম তাদের হলাহল উদগীরণের পরিমাণ এতো বেশী উৎকটভাবে প্রকটিত ছিলো যে, প্রথাগতভাবে ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউনপড়তে তাদের দ্বিধান্বিত দেখা গেলো মুসলমান মারা গেলে বিরূপ মন্তব্য করার পরিবর্তে চুপ থাকা বিষয়ক হাদীসটিকে শিকেয় তুলে রাখা হলো এর মূল কারণমিশরে গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচিত ইসলামপন্থী রাষ্ট্রপতি মুরসীকে উৎখাতের পর সেনা শাসক সিসিকে সমর্থন প্রদান এবং মুরসীকে সমর্থনকারী খুবই নগণ্য সংখ্যক সৌদী উলামাকে গ্রেফতার করে কারাবন্দী করে রাখার কারণে রাজতন্ত্র বহাল রাখার কারণে নয়

যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকাবলে একটি কথা আছে । সে কথার জের ধরে বাদশাহ নামজাদাকে ইহুদীদের পৃষ্ঠপোষকতার জন্যও দায়ী করা হয় । তেমনিভাবে মৃদু বিদ্রূপ করা হয় ইরাকে আক্রমণের নিমিত্তে হাদীসের বাণী উপেক্ষা করে জাজিরাতুল আরবে বিধর্মী সৈন্যদের আস্তানা গড়ে দেবার জন্য । তাদের বিলাসী জীবনযাপনের জন্য কিঞ্চিত ভৎর্সনা অবশ্য তারা করে থাকে ।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের মতো সৌদী আরবে রাজতন্ত্র প্রচলিত আছে ; আর তাদের দীক্ষাগুরু মওদূদীর ব্যাখ্যানুসারে তারা বুঝে নিয়েছে যে, ইসলামে রাজতন্ত্র হারাম । সুতরাং সৌদী বাদশাহ হচ্ছেন একজন হারামজাদা (?) । তাহলে তো সেই বাদশাহর অধীনে রিযিকের তালাশ করাও নিশ্চয়ই হারাম সুদী ব্যাংকে কাজ করে অর্থ উপার্জন করা যেমন হারাম । মজার ব্যাপার হচ্ছে, এসব জেনেশুনেই জামাতশিবিরেরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী ও সমর্থক বাহিনী খোদ হারাম রাজতন্ত্রের দেশ সৌদী আরবে আরামে হারাম হালুয়ারুটি ভক্ষণে (অর্থাৎ হারাম অর্থ উপার্জনে) ব্যস্ত সেদিকে অবশ্য তাদের বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই ।

তেমনিভাবে বিভিন্ন সময়ে সৌদী বাদশাহদের খুড়কুটো খাওয়া সত্ত্বেও তাদের নাফরমানিতে ব্যস্ত তারা । সৌদী বাদশাহ মওদূদীকে কিং ফায়সাল পুরষ্কারে ভূষিত করলে তাতে গর্ব বোধ করে মাওলানাও সেই হারামপুরষ্কার গ্রহণ করতে পিছপা হননি ! মাওলানা সাহেব মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচী নির্ধারণের ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও ভুলেও কখনো তাদের নসিহত করতে যাননি ইসলামে রাজতন্ত্রের ব্যাপারে অবস্থান খোলাসা করার জন্য । সৌদী দূতাবাস থেকে কারাগারে থাকা অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে খেজুর পাঠানো হলে তা গ্রহণ করতে কুন্ঠিত হয় না তারা ।saudi-dates-for-golum-azam

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ও বিভিন্নভাবে নানা রকম নজরনেওয়াজ তারা অতীতে গ্রহণ করেছে এবং এখনো করে চলেছে যার ফিরিস্তি দেয়া এই লেখার উদ্দেশ্য নয় । রাতদিন ইসলামে রাজতন্ত্র হারামবলে তারস্বরে চীৎকার করেও তাদের নেকনজরে থাকার একমাত্র কারণ (আমার ধারণা মতে) হচ্ছে বাংলাদেশে আব্দুল ওয়াহহাব নজদীর আক্বিদা গ্রহণ, প্রচার ও প্রসারে সহায়তা করার জন্য ।

এবার মূল কথায় ফিরে আসি । মাওলানা মওদূদীর অত্যন্ত বিতর্কিত রচনা খিলাফত ও মুলুকিয়াতবইএর বক্তব্যের রেশ ধরে জামাতশিবির অনেক দিন ধরেই গোয়েবলসীয় প্রপাগান্ডা চালিয়ে আসছে যে, ইসলামে রাজতন্ত্র হারাম। বিশেষ একটা পড়াশোনা না করেই তাদের সাথে কোরাস গেয়ে চলেছেন আমাদের দেশের একটা উল্লেখযোগ্য ইসলামী চিন্তাবিদ ও রাজনীতিবিদরা । কিন্তু ইসলাম আসলে এ ব্যাপারে কি বলে সে সম্বন্ধে বেশীর ভাগ মানুষই অজ্ঞ রয়ে আছেন ।

বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত লিখবো । এখন শুধুমাত্র কিছু বইয়ের স্ক্রীণশট পেশ করে রাখলাম ।

কুরআন বা হাদীসের কোথাও সরাসরি খিলাফত বা ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা সরাসরিভাবে উল্লেখ করা হয়নি । আল্লাহ কুরআনে পৃথবীতে তাঁর খলিফা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন । সে কথা অনুসারে প্রতিটি মানুষই তাহলে খলিফা । তা সত্ত্বেও রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নিজেকে কখনো খলিফা আ আমীরুল মুমিনিন হিসেবে ঘোষণা দেননি । এ কথার মাধ্যমে এটা বলার চেষ্টা করা হচ্ছে না যে, মুসলমানদের আল্লাহ নির্ধারিত শরীয়াহ অনুসারে জীবনযাপন করার দরকার নেই । আমার ব্যক্তিগত অবস্থান মুফতী ত্বাকী উসমানীর মতো যা আমি নীচে উপস্থাপন করেছি ।

মওদূদী বা জামাতশিবির সাহাবীদের সত্যের মানদন্ড হিসেবে গ্রহণ করতে রাজী নয় কিন্তু নিজেদের মতবাদ প্রতিষ্ঠিত করার সময় ঠিকই পিছপা হয় । যেমন, রাজতন্ত্র হারাম ফতোয়া দেবার ক্ষেত্রে কুর’আন বা হাদীস বাদ দিয়ে সাহাবী আবু মুসা আশআরীর (রাঃ) ব্যক্তিগত মতামতকে সর্বসত্য হিসেবে গ্রহণ করেছে । ভন্ডামী আর কাকে বলে?

khilafat-maududi-86

মাওলানা হেমায়েত উদ্দীনের ইসলামী আক্বিদা ও ভ্রান্ত মতবাদবইএ রাজতন্ত্র যে হারাম না তা তুলে ধরা হয়েছেঃ

monarchy-hemayet-595

monarchy-hemayet-596

মুফতী ত্বাকী উসমানী তাঁর ইসলাম ও রাজনীতিগ্রন্থে রাজতন্ত্র যে হারাম না তা তুলে ধরেছেন । রাজতন্ত্র হারাম যে একটা প্রতিষ্ঠিত জনপ্রিয় প্রোপাগান্ডা তা তিনি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন ।

monarchy-taqi-52

monarchy-taqi-53

ওয়াহহাবী-সালাফীপন্থী দারুস সালাম প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত History of Islam নামক গ্রন্থের প্রথম খন্ডের ভূমিকায় ইসলামী শাসন পদ্ধতি যে বিশুদ্ধ গণতন্ত্র ও বিশুদ্ধ স্বৈরতন্ত্রের মাঝামাঝি ব্যাপার তা অকপটে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে । ইসলামের এই রকম শাসন পদ্ধতি অনেকের কাছে মনোপুত না হতে পারে কিন্তু এটাই বাস্তবতা । এর মাধ্যমে আমি বলতে চাচ্ছি না যে, আমি রাজতন্ত্রের সমর্থক ।

autocratic_rule-phistory-of-islam-cover

Advertisements
  1. কোন মন্তব্য নেই এখনও
  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: